ফেইসবুকের ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্নে গন্ধে ছন্দে গীতিতে/হৃদয়ে দিয়েছো দোলা/রঙেতে রাঙিয়া রাঙাইলে মোরে/একি তব হরি খেলা/তুমি যে ফাগুন/রঙেরও আগুন/তুমি যে রসেরও ধারা/তোমার মাধুরী তোমার মদিরা/করে মোরে দিশাহারা…

শচীন দেব বর্মণের কণ্ঠে সেই মধুর সুরের ফাগুন আর ভালোবাসা গান হয়তো সবারই হৃদয়ে দোলা দেয়। সেই দোলা হয়তো দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের। যার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে টাইমলাইনে গেলে।

ফাগুনে আগুন ঝরিয়ে এসেছে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। প্রকৃতির রুক্ষতা কাটিয়ে যখন বসন্ত মনে দোলা দেওয়া শুরু করেছে, কোকিল ডেকে চলেছে মধুর সুরে তখন ভালোবাসা কেনো থেমে থাকবে।

Valentain day-Start-Techshohor

তাইতো ফেইসবুকের কল্যাণে বলি আর যাই বলি, ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে সমান তালে। সামাজিক মাধ্যমটিতে গেলে ভালোবাসা প্রকাশের বিভিন্ন পন্থা দেখতে পাই আমরা। যার কাছে ভালোবাসার যেমন সংজ্ঞায়ন, তার কাছে প্রকাশের ভাষাও তেমনই।

ভালোবাসা দিবস হিসেবে আটকে না রেখে একে মানবিক করে তোলার কতা বলেছেন জহির মোহাম্মদ নামের একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী। তিনি দিনটির শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ভালোবাসা হোক মানবিক, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুন একটি মানবিক পৃথিবী গড়ার হাতিয়ার হোক ‘ভালোবাসা’।

মন্তব্যে অবশ্য অনেকেই মানবিকতাময় ভালোবাসায় বিশ্ব গড়ার কথাও লিখেছেন।

জালাল উদ্দিন সাগর নামের একজন লিখেছেন, মন খারাপের দিন আজ ভোরের আলো, বন্ধ ঘর, কানন জুড়ে মন খারাপের আন্ধকার। আমার দিন শুরু হয় তোমাকে নিয়ে। শেষ হয় তোমাকে নিয়ে।
এর মাধ্যেম নিজের একধরনের অনুভূতি ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন জালাল উদ্দিন।
জিয়ায়ুল করিম জিয়া অবশ্য ভালোবাসা বলতে বোঝেন মায়ের ভালোবাসা। এটা অবশ্য কেউই অস্বীকার করতেও পারবেন না। সেই ভালোবাসার দিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, আপনি যখন আপনার মায়ের চোখের দিকে তাকান, জানি পৃথিবীতে তারচেয়ে শুদ্ধ কোনো ভালোবাসা খুঁজে পাবেন না। সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।
শুধু লেখার মধ্যেই ফেইসবুকে ভালোবাসা সীমাবদ্ধ নেই। বরং অনেকেই তার কাছের মানুষকে, ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে দিচ্ছেন ছবি।
তবে দিবসটি এখন যেভাবে পালন করা হচ্ছে তা নিয়ে অনেকেই একে বিতর্কিত একটা ‘দিবস’ বলেও মনে করেন।
ভালোবাসা দিবস যা মূলত ‘ভ্যালেনটাইন ডে’ এর শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না। রোমান একজন ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেনটাইন নামানুসারে দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে।
খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।
পরের দিকে রোমান সম্রাটরা সেই ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা পোপের সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।
আর কালের বিবর্তন ও পরিবর্তনে দিনটি এখন ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
আবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ১৪ ফেব্রুয়ারির একটি আলাদা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছিল বছর কয়েক আগেও।
১৯৮৩ সালে এক শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের গুলিতে মারা যান বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে দিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবেও পালন করতো দেশের আমজনতা। কিন্তু দিনটিকে অনেকেই আজ ভুলে গেছেন।
তবে যতই বিকর্ত থাকুক, ভালোবাসা অটুট থাকুক সবার মাঝে। সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।
ইমরান হোসেন মিলন

Related posts

*

*

Top