Maintance

মাশরাফির জন্য লম্বা স্যালুট!

প্রকাশঃ ২:১৭ পূর্বাহ্ন, অক্টোবর ২, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৪২ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২, ২০১৬

রুদ্র মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শততম জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংয়ের ২৯ তম ওভার চলছিলো। তাসকিন আহমেদ তার ওভারের দ্বিতীয় বলটি করে বোলিং মার্কে ফিরছিলেন। এমন সময় গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড থেকে মাঠে ঢুকে পড়লেন এক দর্শক। সরাসরি টাইগার দলের অধিনায়ক মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরলেন। মাশরাফিও তাকে বুকে টেনে নিলেন স্বযত্নে।

দ্রুত নিরাপত্তা কর্মীরা এসে ঐ দর্শককে মাঠের বাইরে টেনে নিতে চাইলেন। ভক্তের ভালোবাসাকে অপূর্ণ না রেখে ও তার যাতে ক্ষতি না হয় তা নিরাপত্তা কর্মীদের বুঝিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন তার যেনো ক্ষতি না হয়।

‘এমন ভালোবাসা শুধু মাশরাফির পক্ষেই সম্ভব। একজন আদর্শ নেতাই পারে ভক্তকে এমন বুকে টেনে নিতে। মাশরাফি তেমনই একজন নেতা। স্যালুট ম্যাশ’। এমন কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাসে শোভা পাচ্ছে।

MASHRAFI

বিশেষ ওই মুহুর্তটির ভিডিও শেয়ার করেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল হিসেবে খ্যাত জাতীয় দলের উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম। ফেইসবুকে তাঁর অফিসিয়াল পেইজে শেয়ার করা ভিডিওটি ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বার দেখা হয়েছে। লাইক দিয়েছেন প্রায় ৫৮ হাজার ফেইসবুক ব্যবহারকারী। প্রায় ১৩ হাজার শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। এছাড়া কমেন্ট পড়েছে প্রায় দেড় হাজার।

কেউবা ওই ভিডিও দিয়ে, কেউবা ছবি দিয়ে কিংবা শুধুমাত্র কথার মালা দিয়ে অনেকেই তার অভিব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরছেন।

ফেইসবুকে রোমন রিং নামের একজন লিখেছেন, কতোটা ভালো মানুষ হলে এটা সম্ভব! ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজা যে কতোটা ভালো মানুষ তার প্রমাণ মিললো একটু আগেও। একজন ভক্ত মাঠে নেমে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। সিকিউরিটির লোকজন দৌড়ে এসে ওই ভক্তকে যখন টানা হেচড়া শুরু করলো তখন মাশরাফি ওই ভক্তকে বুকে আগলে ধরলেন। বুকে জড়িয়ে নিয়েই তাকে মাঠ থেকে বের করলেন। একই সঙ্গে অনুরোধ করলেন তাকে যেন হেনস্থা করা না হয়। কতোটা ভালো মানুষ হলে এটা সম্ভব! যারা টিভিতে বা সরাসরি খেলা প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের কারো দৃষ্টি এড়ায়নি বিষয়টি। এদেশে যেন এই মাশরাফিদের যুগে যুগে জন্ম হয় সেই দোয়া করি মহান আল্লাহর দরবারে।’

আরিফ বাপ্পি নামের আরেকজন লিখেছেন, নেতা তাকেই বলে যার কাজ, আচরণ দেখলে শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে আসে মস্তক। তুমি ঠিক সেরকম একজন নেতা। বাংলাদেশ ধন্য তোমার মত একজন নেতাকে তার বুকে পরম মমতায় আগলে রাখতে পেরে। Love You Mash

হাসান সোহেল লিখেছেন, আজ থেকে বছর দশেক পর – রাস্তায় কেউ মাশরাফি কিংবা ম্যাশ বলে ডাকলে এক সাথে ৪/৫ জন পেছনে ফিরে তাকাবে… মাশরাফি নামটা এতোটাই কমন হবে, লিখে রাখুন।

সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ লিখেছেন, দলের মধ্যে যেমন সবার প্রিয়, ভক্তদের হৃদয় মাঝেও তেমনি। মানুষটি আমাদের মাশরাফি। Salute u man!!

আরেক সাংবাদিক মিজানুর রহমান লিখেছেন, ক্রিকেটার মাশরাফির অসাধারণত্ব নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। কিন্তু মানুষ মাশরাফি এতটাই বিশাল তাঁকে শব্দে ধারণ করা সম্ভব নয়। ক্রিকেটার মাশরাফিকে বহুবার কুর্ণিশ করেছে বিশ্ব, মানুষ মাশরাফি, ক্যাপ্টেন মাশরাফির জন্য আজ একটা লম্বা স্যালুট।

ফারুখ ভুঁইয়া রবিন লিখেছেন, ক্রিকেটে তো এমন নজির আরো আছে, খোদ পাশের দেশ ভারতে। ২০১১ আইপিএলে সৌরভ গাঙ্গুলীর পা জড়িয়ে ধরলো এক ভক্ত। কই, তখন তো নিরাপত্তা নিয়ে এতো কথা হয়নি। ইংলিশ ক্রিকেটাররাও আইপিএল খেলছে নিয়মিত। আমাদের বেলায় এতো কথা আসবে কেন? ভক্তরা কিন্তু নিখাদ ভালোবাসা থেকে এগুলো করে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

মাহবুব হাসান লিখেছেন, আগামী দশ বছর ভালোবাসার মুভি না দেখেও কাটিয়ে দিতে পারবো। কারণ আমি ভক্তকে জড়িয়ে মাশরাফির অভূতপূর্ব ভালোবাসার দৃশ্য দেখেছি!

যদিও অনেকেই ভক্তের এই ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ চলাকালীন এমন আচরণ বেআইনি বলে অবিহিত। এর মাধ্যমে মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখার্জী লিখেছেন, আমি অন্তত এই কান্ড করা লোকটিকে ‘মাশরাফি ভক্ত’ বলতে রাজী না। মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরার সাত শ নিরাপদ সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। সে সব বাদ দিয়ে এইভাবে দেশের ক্রিকেটকে হুমকিতে ফেলে দিয়ে জড়িয়ে ধরাটা একেবারেই নিবুদ্ধিতা।

তিনি আরও লিখেছেন, সবাইকে অনুরোধ, এমন কিছু করবেন না, যাতে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হয়। অতি আবেগ দেখিয়ে এই ধরণের কান্ডকে উৎসাহিত করবেন না। এটা আমার-আপনার শখের ব্যাপার নয়; একটা জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন।

ফেইসবুকে মো. মামুন নামের আরেকজন লিখেছেন, এক আবেগী ভক্ত আজ যা করল তা মোটেই কাম্য নয়। এমন আবেগ দেখাইলে আমাদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি হবে। মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে তার বাড়ির সামনে সকালে গেলেই তাকে জড়িয়ে ধরে চা খেয়ে আসতে পারে। মাশরাফি সেটা নিয়মিত করে। তার জন্য মাঠে গিয়ে আমাদের নিরাপত্তা কত নিম্নমানের তা বিশ্বকে দেখানোর প্রয়োজন নেই। এমনিতেই আমাদের মাঠের নিরাপত্তার কারণে বড় টিমগুলো আসতে চায় না।

মো. কামরুল নামের আরেকজন লিখেছেন, পাগলে পাগলামি করছে .মাশরাফি ভাইয়া ভালোবাসা দিছে, সব ঠিক আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলদেশ ক্রিকেটের নিরাপত্তা কতটুকু তা নিয়ে বাংলাদেশের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে সিকিউরিটি দের উপর প্রেসার আসবে ।

তবে ভালোবাসার জন্য মানুষ কতো কিছুই না করে। এটিও তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উক্ত ভক্তকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী।

*

*

Related posts/