দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসি : ফেইসবুক যেন স্যোশাল আদালত

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায় নিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের স্ট্যাটাস ও মন্তব্যে চলছে ফাঁসির রায় নিয়ে নানা রকম আলোচনা। কেউ বা লিখেছেন এ রায় উৎসব করার মতো। কেউবা লিখেছেন সর্বোচ্চ সাজার রায় বাড়াবাড়ি।

ফাঁসির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত ফেইসবুকে শোভা পাচ্ছে রায় ঘোষণা পর থেকে। আলোচনার মাত্রা ও অংশগ্রহণ দেখে মনে হচ্ছে মামলায় আসামীর পক্ষে বিপক্ষে রায় নিয়ে লড়ছেন স্যোশাল মিডিয়ায় সম্পৃক্ত মানুষজন।

বৃহস্পতিবার দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপি নেতা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ আসামিকে ফাঁসির রায় দেয় আদালত।

10_Truck_arms_techshohor

অনেক আলোচনা সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়ে অবশেষে ১০ বছর অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক এসএম মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বারবার দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনা ঘটে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল মধ্য রাতে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদী তীরে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সংরক্ষিত জেটিঘাটে দুটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালাস করে ট্রাকে তোলার সময় পুলিশ আটক করে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদের সর্ববৃহৎ চালান ধরা পড়ার পর দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্তে দেখা যায়, চীনে তৈরি এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমুদ্রপথে এনে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘উলফা’র কাছে পৌছাতে বাংলাদেশ ভূখন্ড ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ফাঁসির আদেশ পাওয়া এই ১৪ জনের মধ্যে এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুর রহীম এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া আছেন। এছাড়া অস্ত্র আইনের একটি ধারায় এই ১৪ জনের সবার যাবজ্জীবন কারাদন্ডও আরেকটি ধারায় সাত বছর জেল দেয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় চোরাচালান ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় আসামি ছিলেন মোট ৫২ জন, যাদের মধ্যে ৩৮ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। চোরাচালান মামলায় বিশেষ মতা আইনের ২৫ বি ও ২৫ ডি ধারায় ১৪ আসামির ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়।

এরপর রায় নিয়ে ফেইসবুকে ঝড় বয়ে যায়। নিজের স্ট্যাটাসে ঝিনাইদহ এক্সপ্রেস লিখেছেন, লুঙ্গী ডান্স দেওয়ার মত নিউজ। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকরের দাবী জানাই ।

শফিকুল ইসলাম সরকার বলেছেন, এই আইন কে বানাইছে ? বাংলাদেশে কি অস্ত্র মামলার জন্য ফাঁসি হয়? এ ধরনের আইন কি আছে? আমার মনে হয় এটা সরকার দলীয় আইন।

আকীব হোসেন লিখেছেন, এবছর ২০শে জানুয়ারীতে ভিয়েতনামে মাদক পাচারের দায়ে ৩০ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছে দেশটি। আমরা চাই বাংলাদেশ দ্রুত এই ১৪জন অপরাধীর ফাঁসি কর্যকর করা হোক।

কাজী মিশান ঠাকুর লিখেছেন সিকো ঘড়ি দিয়া কালো বাজারী শুরু করিয়াছিল এই বাবর আর অস্ত্র চালানির মধ্যে পরসমাপ্তি। উনাকে যাহারা ব্যাবহার করিয়াছিল উনাদের কি কিছু হইবেনা?

ফেরদৌস মাসুদ লিখেছেন,এর চাইতে দেশের সীমান্ত প্রতিরা ব্যবস্থাকে উন্নত করাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় । এই ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড কি সব সমস্যার সমাধান? একটা নজির তৈরি হবে মাত্র । (বিঃ দ্রঃ আমি কোনো দলের না । কোনো দলও আমার না)

জাব্বার হোসেন লিখেছেন, এইসব অস্ত্র অবৈধ।তাই তা জনগনের জন্য জীবন মরণের প্রশ্ন উঠবে।তাই তাদের ফাসিঁ দিয়েছে।

আব্দুল জলিল বলেছেন, মতায় দাপিয়ে বেড়ানো মন্ত্রীদের এই পরিনতি হবে কেউ কি ভাবতে পেরেছেন? বর্তমান মতাসীনদেরও মনে রাখতে হবে… ভবিষ্যত পরিনতি কি হতে পারে?

ব্রাউন স্কাই বলেছেন,ব্যাপারটা একটু বেশী বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো না….?

এনাম মৃধা লিখেছেন, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান বন্ধে এ বিচার কার্যকর করা উচিত…তার সাথে সাথে প্রতিবেশি দেশের লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করাও উচিত।

Related posts

*

*

Top