মহানায়িকার প্রস্থানে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকার্তনাদ

আল আমিন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কোটি হৃদয়ের মানস-প্রিয়া সুচিত্রা সেন চলেই গেলেন। বিভ্রমে ডুবিয়ে রাখা হরিনী চোখের যাদুর কাছে কত সময়ই না বন্দী করে রেখেছেন তিনি। স্রষ্টা যদি শ্বাস্বত নিয়ম ভাঙ্গতেন তাহলে বোধয় কোটি হৃদয়ের প্রার্থনা তিনি শুনতেন। কিংবদন্তি এই মহানায়িকা চলে যেতে পারতেন না। শোকার্তনাদ সর্বত্র। মত প্রকাশের মাধ্যমগুলোতে কত চিরস্থায়ী দীর্ঘশ্বাস-আহারে!

অভিতাভ বচ্চন তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাংলার মহান প্রতিভময়ী সুচিত্রা সেন দূরে চলে গেলেন। তিনি সেরা একজন ছিলেন। সৌন্দর্য্য এবং মেধার মিশ্রণে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন হেয়ালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সুচিত্রা সেনের কোমলতা তার অভিনয়ে বিশেষত্ব তৈরী করত। তার সঙ্গে ছিলেন আরেক অনুসরণীয় উত্তম কুমার। বাংলার এই কিংবদন্তিদের জন্য প্রার্থনা এবং শোক”।

suchitra sen-TechShohor

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক তার স্টাটাসে লিখেছেন, “তুমি আমার সূচিত্রা সেন, আমি তোমার মধ্যম, উত্তমকে এনো না মাঝে, কে চায় উত্তম-মধ্যম।

সালেহ বিপ্লব লিখেছেন, “কিছুক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে …”।

বিবিসির সাংবাদিক আহরার হোসেন স্টাটাস দিয়েছেন, “মাসিমা, মালপোয়া খাবো! (মহানায়িকাকে স্মরণ করছি)”।

লেখক সাংবাদিক মাসকওয়াত আহসান লিখেছেন, “সুচিত্রা সেন চলে যাবেন এই মানসিক প্রস্তুতি আগেই নিয়েছিলাম। উনি চলে যাবার পর বৃদ্ধ-যুবা সবাই শোকাহত। ফেসবুক ফিডে আজ সুচিত্রা সেন। কোন অসুচিত্রা সেনের পক্ষে আজ মিডিয়ায় পাত্তা তোলা কঠিন আছে সে তিনি বাঘিনীই হোন আর সিংহীই হন না কেন। মান্না দে, কলিম শরাফীর মৃত্যুতেও তাই হয়েছিল। ভারতের লোহানেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুতে তার চাকর-বাকর ছাড়া আর কেউ কাঁদেনি। কিন্তু ইন্দিরার চরিত্রে আঁধি ছবিতে অভিনয় করা সুচিত্রার মৃত্যুতে শুধু ফেসবুক, কলকাতা, ঢাকা নয়; বলিউডের শিল্পীরাও কাঁদছে। একে পরিস্কার বাংলায় বলা যায় অমরতার আয়োজন। সুচিত্রা নির্মোহ ভঙ্গিতে কাজটি করে গেলেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সুচিত্রা নামটি কখনোই মুছে যাবার নয়”।

জ.ই. মামুন লিখেছেন, “প্রিয় সুচিত্রা সেন, শুনেছি আজ সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে আপনি মৃত্যুকে বরণ করে এই মাটির পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। খবরটা নিঃসন্দেহে দুঃখের, আপনার পরিবার বা কাছের মানুষদের জন্য শোকেরও। তবে আমার কাছে কিন্তু আপনি মৃত নন, আমি যে সুচিত্রা সেনকে চিনি, তিনি কখনই মৃত হবেন না। তাঁর অবস্থান এই মাটির পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনের অনেক উর্ধে, তিনি চির অমর, চির জাগ্রত, চির বিরাজমান এবং অবশ্যই চির যৌবনা”।

পাভেল রহমান রহমান লিখেছেন, “শুক্রবার কলকাতার স্থানীয় সময় সকাল আটটা ২৫ মিনিটে বেলভিউ হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান বাংলা চলচ্চিত্রের এ প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। তাঁর মৃত্যুতে দুই বাংলায় শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই সুচিত্রা সেনকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। সুচিত্রা সেনকে নিয়ে বন্ধুদের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়েই আজকের ফেসবুকে সারবেলা”।

তাবারুল হক হিমেল লিখেছেন, “হাসি মুখে ‘হাসি’ বিদায় দিতে গিয়ে ওই ১০ বছর আগে যে গান বার বার কানে বেজেছিল- ‘তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার…… (বিদায়, রমা দাশ, শুভ বিদায়)”।

আশরাফ শিশির লিখেছেন, “সূচিত্রা সেন, আমি পাবনার শিশির, শুনেছি তুমি কোলকাতা থেকে চলে গেছো ! পাবনাতে আসবে”?

উল্লেখ্য, সুচিত্রা সেন শুক্রবার কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে তিনি মারা যান। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গত দুদিন ধরেই তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন।

সুচিত্রা সেন ১৯৫৩ সালে সাত নম্বর কয়েদী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। তার অভিনয় জীবনে তিনি মোট ৬২ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে বলা যেতে পারে- শাপমোচন, সাগরিকা, পথে হলো দেরি, দ্বীপ জেলে যাই, সবার ওপরে, সাড়ে চুয়াত্তর, সাত পাকে বাঁধা, দত্তা, গৃহদাহ, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্তসহ অসংখ্য। ১৯৭৮ সালে হঠাৎ করেই অভিনয় জীবনের সমাপ্তি টেনে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি। এরপর তাকে নিয়ে তৈরি হতে থাকে নানা লোককথা।

Related posts

*

*

Top