ফেইসবুকেও নির্বাচনী হাওয়া

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাত ফুরালেই রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সরকার পক্ষ বলছে সংবিধান রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন। আর বিরোধী জোট বলছে প্রহসন। একপক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজেদের অবস্থানে অটুট এবং অন্য পক্ষ তা প্রতিহত করার প্রতিজ্ঞায় তৎপর। এরই মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তুলেছে। পাঁচ বছর পর হতে যাওয়া এ নির্বাচনের আগে তাই স্বাভাবিক ভাবেই চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

নির্বাচনকে ঘিরে হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও, হানাহানি সহিংসতা, অরাজকতা-নাশকতা, হিংসা-বিদ্বেষ দিয়েছে নতুন মাত্রা। ফলাফল আতংকিত মানুষ, বিপর্যস্ত জনজীবন। কী হচ্ছে আর কী হবে? এ আলোচনা চলছে সর্বত্র। এ থেকে বাদ নেই ফেইসবুকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও।

Election_techshohor

রাজনীতির এসব গরম বাতাস লেগেছে ফেসবুকের পালেও। বর্তমান গুমোট পরিস্থিতিতে চায়ের কাপের আড্ডা না জমলেও সামাজিক এ মাধ্যমটিতে সরব আলোচনা হচ্ছে নির্বাচন নিয়ে।

সাংবাদিক মইনুল আহসান সাবের লিখেছেন, ইলেকশন হয়ে গেলে পার্লামেন্ট দু’ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। যারা বিনা ভোটাভুটিতে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা হাউজ অব লর্ডস। যারা ভোটে নির্বাচিত হবেন, তারা হাউজ অব কমন্স।

চিত্রনাট্যকার রুম্মান রশীদ খান লিখেছেন, কত শখ ছিল ! বিয়ের পর প্রথমবারের মত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাবো। অফিস বন্ধ থাকবে। বাসায় রান্না হবে। গেট টুগেদার হবে সবার। চোখ থাকবে সারাণ টিভির দিকে। তারকাদের পরিবেশনায় স্বকণ্ঠে গান। কত নতুন নতুন অনুষ্ঠান। …সব মিলিয়ে উৎসব !!! ….কাট টু ২০১৪ !!! হচ্ছে না কিছুই। কাল ভোর বেলা আসতে হবে অফিসে ! করবো ‘রাঙা সকাল’। অফিসে থাকতে হবে সারাদিন। প্রতিদিনের মত ! দেয়া হবে না ভোট….কারণ বিজয়ী আগেই নির্ধারিত। সবাই জানি আমরা নির্বাচনের ফল কি হবে! প্রশ্ন একটাই-আমাদের কাছ থেকে এই উৎসবের উত্তেজনা কেড়ে নিয়ে জাতীয় দলগুলো কি পেলো? গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এবার বলতেই হবে !!!!!

সাংবাদিক জ.ই. মামুন লিখেছেন,আর মাত্র একদিন পরে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৫৩ জন তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েই আছেন, এখন আর কিছু রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে ভোটগ্রহন, গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার একটা সাদামাটা আনুষ্ঠানিকতা করে বাকি ১৪৭ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা, তারপর তাদের শপথ ও আরেকবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাধ্যমে মহান সংবিধানের প্রবল সুরা। সংবিধান রা পাবে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রা পাবে, আর কি চাই!

আশরাফুল আলম খোকন লিখেছেন,যে সংবিধানটি ছিল সার্বজনীন ( শুধু জামাতি ছাড়া ) , বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ( শুধু পাকি ছাড়া ) তারেক রহমান ১৯৭২ এর সেই সংবিধানকে “গণআকাংখা” বিরোধী সংবিধান বলেছেন ! এর মানে কি উনি পাকিস্থানি সংবিধান চেয়েছিলেন ?

জিএম দেব লিখেছেন, জেনে শুনে কেউ বিষপান করলে কি বলার থাকে।আবার দেশের পরাজয় দেখতে হবে।আওয়ামী লীগতো একা হারেনা।

প্রকৌশলী বুশরা শাহরিয়ার লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমণ্ত্রী শেখ হাসিনা আপোষহীন সত্য, কিন্তু তার দিক থেকে আলোচনার জন্য আন্তরিকতাা ছিল, সব দলের অংশ গ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক তিনি চেয়েছিলেন কিন্তু আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রীর আচরণে আন্তরিকতার বেশ ঘাটতি ছিল। দেশের মানুষ তাই দেখে যা তারা দেখতে চায়!! তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নিয়ে, সাংবিধনিকভাবে এই প্রহসণের নির্বাচন করার মধ্যেও কিছু অদেখা ভালো রয়েছে, যা দেশের মানুষ আজ হোক বা কাল হোক অনুধাবন করবে।

আমিনুল সুজন লিখেছেন, বিএনপি-জামাতের লোকজন ভোটকেন্দ্র পোড়াচ্ছে…ভোটকেন্দ্র মানে বিদ্যালয়…একদিনের ভোটের কেন্দ্র হবার কারণে পুরা বছরের শিাদান কেন্দ্রগুলো তিগ্রস্থ হচ্ছে। আমার বিবেক বিক্রি কইরা কিছু পাওনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হইলাম। নির্বাচন কমিশন একটা মেসেজ পাঠাল ”ভোট বিক্রি তো বিবেক বিক্রি”। আর আমি এক সাধারণ ভোটার বিক্রি করলে সমস্যা কী? বড় দু’দল প্রতিদিনই সংবিধানের নামে আর গণতন্ত্রের নামে বিবেক বিক্রি করে…

নাজমুল আরেফীন লিখেছেন, আমার দাদী বয়স প্রায় নব্বই বা তার কাছাকাছি। বিক্রমপুরে ব্যপক ঠান্ডা তাই তাকে ঢাকায় চাচার বাসায় থাকার কথা বলায়, তিনি যেতে রাজী হলেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন যাবেন না, এই প্রচন্ড ঠান্ডায় আপনি ঢাকা গেলে ভালো থাকবেন। তিনি উত্তরে বললেন” ভোট দিবেন” আমি বললাম “দাদী আমাদের এখানে তো সিলেকশনে প্রাথী পাশ করে গেছেন, আপনিতো ভোট দিতে পারবেন না। তাকে বহুকষ্টে সিলেকশন ব্যাপাটা বোঝানো হলো। তিনি আপে করে বললেন ” এই জীবনে আর কী আর ভোট দিতে পারুম ?

রেজানুল করিম লিখেছেন, আমার নির্বাচনী আসনের প্রার্থী ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আমার আর ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। ভোট দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা কি দেশের নাগরিক..? আমরা এক আযব গাধা!

Related posts

*

*

Top