রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে ফেইসবুকে উদ্বেগ

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চরম অস্থির অবস্থাতে দেশ। প্রতিনিয়ত হরতাল-অবরোধ, বিক্ষোভ, যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ঢাকা শহর থেকে সারাদেশকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে রাখাসহ চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ দেশবাসীর। আজ কি হচ্ছে, আগামীকাল কি হবে, এসব নিয়ে মানুষের ভাবনার শেষ নেই। আর এই উদ্বেগের বহি:প্রকাশ ঘটছে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে ব্যবহারকারীদের নানা মন্তব্য।

কি হচ্ছে দেশে, আপডেটেড তথ্য জানতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অনলাইন পত্রিকাগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছে। বারবার এসব পত্রিকার পাতায় ‘রিফ্রেশ’ দিয়ে দেখছে নতুন কোনো খবর এসেছে কিনা। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ সাইটে শেয়ার করে নিজের মন্তব্যও জুড়ে দিচ্ছেন।

oborodh-TechShohor

দেশ গনতন্ত্রের দিকে যাত্রা করছে নাকি উল্টা পথে চলছে সেটি নিয়ে অনেকেরই ভিন্ন প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ফেইসবুকে শেরিফ আল শায়ার লিখেছেন “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি আজও জমেনি। তবে ডেমোক্রেসি ফর মার্চ বড়ই জমজমাট”। গনতন্ত্র নিয়ে হতাশ আরেক ফেইসবুক ব্যবহারকারী মুনজুর মুরশিদ। তিনি লিখেছেন – “শাবাশ গণতন্ত্র! তোমার ষোলকলা পূর্ণ হতে চলেছে!!”। অপরদিকে সালাহ উদ্দিন জসিম নামে একজন লিখেছেন- “দুলের হাতেই লাঠি-পতাকা। কারো কর্মসূচি ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কারো ‘সেইভ দ্যা ডেমোক্রেসি।’ গণতন্ত্র না পতাকার অবমাননা এনিয়ে চিন্তায় আছি”।

গতকাল আওয়ামীলীগ ও তাদের সমর্থিত কর্মীরা সুপ্রীম কোর্ট এলাকায় পতাকা হাতে আইনজীবিদের উপর হামলা চালায়। আর এই হামলার ছবি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি কোথায় যাচ্ছে সেটা নিয়েও চিন্তিত অনেকে। আনোয়ার হোসেন নামে একজন লিখেছেন- “কোথায় মানবাধিকার কর্মীরা তারা কি এই চিত্র দেখতে পান না ……………..”। ফেইসবুকে মো. শরিফুল আলম নামে একজন লিখেছেন- “জাতি হিসাবে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি, সাবাশ লীগের পুলারা তোমাদের কর্মের জন্য আজ নিউ ইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশের নাম উঠেছে”। রাজির নন্দী লিখেছেন- “জাতি হাইকোর্ট দেখছে”।

এবছরের প্রথম থেকেই অনেকটা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশ চলে আসছে। বছরের ক্রান্তিলগ্নে এসে মানুষ ২০১৪ সালে কি ঘটবে সেটি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। মাসুদুর রশীদ নামে একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন- “একটি বাঁশময় বছর “২০১৩” শেষ হতে যাচ্ছে, দেখা যাক নতুন বছর “২০১৪” তে নতুন কোন বাঁশ অপেক্ষা করছে? নাকি ভাল কিছু থাকছে…”। একইভাবে জহিরুল ইসলাম মামুন লিখেছেন- “দেখতে দেখতে আরও একটা বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। খুবই খারাপ একটা বছর পার করলাম। এটাকে রাজনীতির বছর বলা যায়, পকেট গরম আর মানুষ মারার রাজনীতির। আজ যেমন সকালে পুলিশ মামারা আমারে জিজ্ঞাস করল। ব্যাগে বোমা টোমা আছে নাকি। জানি না ১৪ কেমন যাবে। আল্লাহ্ আমাদের হেফাজত করুন। আমীন”।

রাজেস কর্মকার নামে একজন লিখেছেন- “আগামীকাল কি কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী আছে? যেমন; হরতাল, অবরোধ, মহাসমাবেশ, ঘেরাও, লং মার্চ, পদযাত্রা কিংবা অভিযাত্রা! আগামীকালের দিনসূচী তৈরি করতে একটু সুবিধা হতো আর কি”।

এদিকে অবরোধ থাকায় অনেকে ঢাকার বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারছেন না। তেমনটাই আক্ষেপ করে পারভেজ হোসেন সরকার নামের একজন লিখেছেন- “অবরোধে আটকে গেছি, এই হলো স্ট্যাটাস”। রবিউল ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন- “বাড়ি এসে ঢাকায় ফিরতে পারছি না, অফিস থেকে মানতে চাইছে না। এই দুই নেত্রীর জন্য শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হবে কিনা আল্লাহ জানে”। রাসেল রনি লিখেছেন- “ঘরে বসে আছি, জানিনা কি হবে”।

অপরদিকে যত্রতত্র পুলিশের মুখোমুখি হতে হওয়ায় প্রায় সবাই আইডি কার্ড নিয়ে বের হচ্ছেন। কারণ আইডি কার্ড ছাড়া কোথাও যাওয়া এখন নিরাপদ নয়। কাছে আইডি কার্ড না থাকায় থানায় যেতে হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। জোবায়ের আলম বিপুল নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন- “একটা জিনিস লক্ষ করেছেন কি ! আমরা কিন্তু আগের থেকে অনেক বেশি সিরিয়াস হয়েছি । আমিতো অবশ্যই ! বেশ কয়েকদিন হল , ভার্সিটি আইডি খুঁজে খুঁজে বেড় করে নতুন ফিতা লাগিয়েছি , জাতীয় পরিচয় পত্র ওয়ালেটে ঢুকিয়েছি , অফিসের আইডি কার্ডটাও আজ বাসায় নিয়ে এলাম , সাথে রাখতে হবে”।

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top