দুই নেত্রীর ফোনালাপ নিয়ে ফেইসবুকে হতাশা

টেক শহর ডেস্ক : চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েনে অস্থির দেশের প্রায় সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষ। সকলের প্রত্যাশা এ বিষয়ের একটি ভালো সমাধান। বিবাদমান বড় দুটি দল মারমুখো অবস্থান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসবে এমন ভাবনাই সবার। সংকট মেটাতে সংলাপ পথ দেখাবে এমন কথাই বলছেন তারা। বৈরি পরিবেশে শীতল সম্পর্কের বরফ গলার সূত্রপাতও হয়েছিল একটি টেলিফোন কলের সূত্র ধরে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৩ বছর পর কথা হলো দুই নেত্রীর। সূত্রপাত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিপত্তি বাধল লাল টেলিফোন নিয়ে। সরকার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতাকে লাল ফোনেই কল করবেন এটাই রীতি। সেটিই করলেন হাসিনা। শনিবার দুপুরের দিকে কলের পর কল করলেন। কিন্তু বিধিবাম! সেই নম্বরে পাওয়া গেল না বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। ফোনটির সরব থাকা না থাকা নিয়েও জন্ম নিল নানান কথার। পরে দু’নেত্রীর ফোনালাপেও উঠে এসেছে এ বিষয়টি।

যাইহোক দ্বিতীয় দফায় সে দিনই সন্ধ্যায় কথা হলো। গণমাধ্যমের সূত্রে তার কিছু অংশ জানাও গেল পরের দু’দিনে। তবে সোমবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ৭১-এ হাসিনা ও খালেদার পুরো কথাবার্তা প্রচার করে দিল। গভীর রাতে সেটির শোনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ফোনালাপের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজেদের নানা মন্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

হাসিনা সোমবার রাতে আলোচনা ও নৈশভোজের যে দাওয়াতে খালেদা না করে দেন। দৃঢ়ভাবে হরতাল প্রত্যাখান করে পরে আলোচনার কথা বলেন। সংলাপ নিয়ে যে আশা তৈরি হয়েছিল খালেদার না বলায় তা ভেস্তে যেতে বসেছে।

সোমবার রাতে আবারও পুরো সেই ফোনালাপ শুনে গভীর রাতেই নিজেদের ফেইসবুক খুলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তীর্যক মন্তব্যও করেছেন চরম বিরক্তি থেকে। জার্মানির সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে ফেইসবুকে জরিপ শুরু করেছে-দুই নেত্রীর ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

Nazmul Tapan বলেছেন, ফোনালাপ থেকে এটা সুস্পস্ট যে বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী জামায়াতের চাপে হরতাল দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। হরতালে অনেক শত শত যানবাহন ভস্মিভুত হয়েছে মারা গেছেন দশজনের বেশি। হরতালকারীদের পারফরম্যান্সে দারুন খুশী নিরপেক্ষতার ভং ধরা বর্নচোরা সুশীলরা। বিএনপি সাবালক হয়ে উঠেছে, বিএনপি আন্দোলন করা শিখেছে .. এনিয়ে বেশ গদ গদ তারা।

Khaza Nizam Uddin এই ফোনালাপ ইতিহাস গড়বেই : অসাধারণ এই ফোনালাপ ; হ্যাঁ, জয় পরাজয় ব্যাপার না। হয়তো ব্যবধানটা একটু বেশি।একজন হয়তো পাতালেই ডুবছে। কিন্তু জাতিকে তা পথ দেখিয়েছে। এর প্রভাব হবে ঐতিহাসিক। একটি ফোনালাপের প্রভাব কত ব্যাপক, গভীর আর কার্যকরী হতে পারে, পৃথিবীর রাজনীতির পাঠে আগামী দিনের মানুষ অবাক হয়ে তা পাঠ করবে। বাংলাদেশ কাঁপানো 37 মিনিট।

Yousuf Sohel ৩৭ মিনিট ধরে ননদ আর ভাবীর ঝগড়া ফ্যসাদ যা শুনলাম তাতে মনে হইল এই সংসারে আমি এক অপাংতেয়… আর সিন্ধুকের চাবিটাই যেন সব।

Jamil Bin Khalil :
খালেদা জিয়ার Energy level দেখে চমৎকৃত হয়েছি।
শেখ হাসিনার ধৈর্য্য দেখে পুলকিত হয়েছি।
পুরো বিষয়টিতে নিদারুণ হতাশ হয়েছি।
সামনে সম্ভাব্য গভীর অন্ধকার দেখে ভয় পাচ্ছি……… !!!!

Rajib Noor লিখেছেন ঝগড়াটা বড়বেশি একতরফা হয়ে গেল। তাই বলে ঝগড়াঝাটি এখনই পাবলিক করে দেওয়া ঠিক হলো না। যাই হোক, ঝগড়া তো কেবল শুরু, সংলাপের নামে কী হবে পাবলিক এখন বুঝবে। আচ্ছা, ‘কত ধানে কত চাল’ হয়?

মিন্টু চৌধুরী ব্যাপক বিনোদন পাইলাম দুইনেত্রীর টেলি সংলাপ শূনে, এদের হাতে আমরা কেমনে নিরাপদ সেটাও ভাবছি, আমাদের বাংলাদেশ যে ‘আল্লাহ’র ওয়াস্তে চলে, কারও কোন দায়বোধ নাই সেটাও ভালোভাবে টের পাইলাম,
ফুটনোট : তার মানে এই নয় যে কোন অনির্চিত সরকারকে আমি পছন্দ করি, রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই ভরসা খুঁজতে হবে …….

Dwaipayan Barua রীতিমত শঙ্কিত, হতাশ আর বিরক্ত দুই নেত্রির ফোন-আলাপ শুনে। কিন্তু ততোধিক শঙ্কা জাগে মনে। কারা কোন উদ্দেশ্যে এই কথোপকথন প্রকাশ্য করল? এই ফোন-আলাপ কে ঘিরে জনতার প্রত্যাশার ফানুশ টা কি ফুটো করতে চেয়েছে কোন স্বার্থান্বেষী মহল?

Sheriff Al Sire সংলাপ তো ফোনেই হয়ে গেছে। আর কোনো সংলাপ হওয়া জরুরী কিছু নেই। ফোনেই যা অবস্থা। সামনা-সামনি সমাধান তো এক স্বপ্ন!!

জ.ই. মামুন আলাপ, বিলাপ না প্রলাপ?

Moonmoon Sharmin Shams পরের ফোনটা কে করবেন, এইবার এইটা নিয়ে দড়ি টানাটানির খেলা শুরু হতে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার ফেসবুকে একাউন্ট খুলে সংলাপের দিন তারিখ ঠিক করে একটা পোষ্ট দিন, আর বেগম খালেদা জিয়া তাতে লাইক দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। বাদবাকি কমেন্ট মির্জা ফখরুল আর সৈয়দ আশরাফ করে দেবেন। আমরা ডিজিটাল জাতি তাইলে উদ্ধার পাই। ল্যান্ড ফোনে নব্বই দশকের প্রেম করার আর দরকার নাই।

Saiful Azim Mohim কে ঝগড়াটে এ নিয়ে তোলপাড়। আগে কি জানতাম আর নিজ কানে কি শুনলাম! বিশ্বাস করতে পারছি না।

Arif Nezami দুই নেত্রীর গলা একসাথে শুনলাম । যাক বুড়াকালে নাতিপুতিদের শুনানোর গল্প পেলাম :’)

Iresh Zaker অসাধারণ! এইসব থ্রি জি, স্মার্ট ফোনের চিন্তা বাদ দাও সবাই। ঘরে একটা হৃষ্টপুষ্ট ল্যান্ডলাইন রাখো। ডিজিটাল বাংলাদেশে ল্যান্ডলাইনের প্রয়োজনীয়তা এখনও অসীম।

Related posts

*

*

Top