কিংবদন্তির বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রদ্ধা

টেক শহর ডেস্ক : সকালটা শুরু হলো বিষাদে। যার গান শুনে রোমাঞ্চিত হতো মন। সেই কিংবদন্তীর বিদায়ের খবরে স্নিগ্ধ সকালে কষ্টের জাল ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। মানতে না চাইলেও বাস্তবতা হলো সবার প্রিয় গানের পাখি মান্না দে আর নেই।

আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রখ্যাত এ সঙ্গীতশিল্পী বৃহস্পতিবার ভোরে বিদায় নিলেন। আর গাইবেন না এ গুণী শিল্পী। তার কণ্ঠ হয়তো শোনা যাবে কিন্তু তাতে রবে বিষাদের সুর।

খবরটা ছড়িয়ে যেতেই ভক্তদের মাঝে করুণ সুর বাজতে শুরু করেছে।  বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার প্রস্থানে শোক প্রকাশ করছেন সঙ্গীতপ্রেমীরা। আর যারা ফেইসবুক খুলে প্রথম মুখোমুখি হয়েছেন এ সংবাদের তারাও বিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার ভোরে বেঙ্গালোরের একটি হাসপাতালে কফি হাউসের চিরস্রষ্টার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের আড্ডা থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি মান্না দে।

Manna Dey_ Tech Shohor

গত কয়েকদিন থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে বুধবারও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি এত তাড়াতাড়ি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যাবেন তা ভাবনে পারেন নি ভক্তরা।ফেইসবুকে সুলতান আফজাল লিখেছেন, সোনালী বিকেলগুলো হয়ত হারিয়ে যাবে, কিন্তু মান্না দে রয়ে যাবে আমাদের মাঝেই..

চট্টগ্রামের কবি বিশ্বজিৎ সেন তাকে নিয়ে মনের বেদনা নিয়ে কবিতা লিখে পোস্ট করেছেন ফেইসবুকে। ‌‌‌‌‍উড়ে গেলেন মান্না দে আত্মার বিহঙ্গ-পিঠে’ কবিতায় তিনি লিখেছেন, শোমাখা অন্ধকার! আবারো শীতল পায়ে/নেমে এলো চারধারে বাঙালি ও বাংলার!/মান্না দে দেহ রেখে মৃত্তিকার ঋণ শোধ করে/চলে গেলেন আকাশের ঋণ শোধ করবার অভিপ্রায়ে/আত্মার বিহঙ্গ-পিঠে সপ্ত সিংহ দুয়ারের পানে!/ বাঙালিকে কয়েক শ’ বছর বুঁদ হয়ে থাকেতে হবে তাঁর সুর ও গানে।

মান্না দের কমিউনিটি পেইজে দেবারতা দত্ত লিখেছেন, আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে তুমি থাকবে চিরদিন। দেবলিনা বলেছেন, এ শূন্য জায়গা আর কোনো দিন পূরণ হবে না।

ইশরাত রিপা লিখেছেন, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে..মান্না দে মারা গেছে,শব্দটা কত নির্মম ভাবে আমাকে জানিয়ে দিল,আর কোন সৃষ্টি হবে না,এ মহান মানুষটির হাত ধরে… খুব খারাপ লাগছে..খুব..আর কিছুই লিখতে পারছি না…

অনেকেই তাদের ফেইসবুকের কাভারেফটো পরিবর্তন করে মান্না দের ছবি দিয়েছেন।

শ্বাসতন্ত্র ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত মান্না দেকে পাঁচ মাস আগে ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদয়ালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ডায়ালাইসিস। পরিস্থিতির অবনতি হলে বুধবার তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

১৯৫০ থেকে ১৯৭০ এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই শিল্পীর জন্ম ১৯১৯ সালে। পারিবারিক নাম প্রবোধ চন্দ্র দে হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীরা তাকে মান্না দে নামে এক নামে চেনে।

গত পহেলা মে এই প্রখ্যাত গায়কের ৯৪তম জন্মদিন পালন করা হয়। এবারের জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মান্না দে কে ‘বিশেষ সংগীত মহাসম্মান’ দেয়া হয়।

বাংলা ও হিন্দি ছাড়াও মারাঠি, গুজরাটিসহ ভারতের বিভিন্ন ভাষায় গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কল্যাণে মান্না দে পরিণত হন জীবন্ত কিংবদন্তীতে।

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা; আবার হবে তো দেখা; এই কূলে আমি, আর ওই কূলে তুমি; তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়; যদি কাগজে লেখো নাম; সে আমার ছোট বোনসহ মান্না দের কণ্ঠের বহু গান বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছেও দারুণ জনপ্রিয়।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকারের দেয়া পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন এই শিল্পী।

আমিন রানা, টেক শহর ডেস্ক

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top