Maintance

১৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রধান লক্ষ্য ই-কমার্স

প্রকাশঃ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, জুন ২৭, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৩১ অপরাহ্ন, জুন ২৭, ২০১৬

বাংলাদেশে ১৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ফেনক্সের। কোন কোম্পানি কীভাবে কত পেল, কেমন উদ্যোগ, লাভ-লোকসান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ফেনক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী ড. আনিস উজ্জামান। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ফেনক্স। বাংলাদেশে এই কোম্পানি ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যার প্রধান লক্ষ্য ই-কমার্স খাতের উদ্যোগ।

২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক অফিস খুলে তারা। আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশে ১৩ দপ্তর রয়েছে ফেনক্সের। বাংলাদেশের ফেনক্সের অফিস ১৪তম। ১২ হাজার কোটি টাকারও (দেড় বিলিয়ন ডলার) বেশি ফান্ড নিয়ে বিশ্বের অসংখ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির মধ্যে ফেনক্সের অবস্থান বিশ্বে ১৯তম।

ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে। কোম্পানিটি বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাগুলোতে এন্টারপ্রাইজ পার্টনারশিপে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও ফেনক্স নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ের কার্যক্রমে সহায়তা, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং মার্জার অ্যান্ড ইকুইজিশন ও আইপিওতে যাওযার সহায়তা দেয়।

তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডাটা, মোবাইল ডিভাইস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পেইমেন্ট সিস্টেম এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি নির্ভর উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে থাকে ফেনক্স। সাইডকার, জিবো, শেয়ারদিস, র‌্যাপ জিনিয়াস, বটলনস, টেক ইন এশিয়া, জেটলোর, লার্ক,মেট্যাপ্স, আই মানি, জু, ইনফোকমের মতো অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করেছে এই ভেঞ্চার।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই ২০১৪ সালে একাধিক উদ্যোগে প্রথম দফায় বিনিয়োগ করে ফেলেছে ফেনক্স। ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগের দিন শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে টেকশহরডটকমের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতকারে ছিলেন ফেনক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী ড. আনিস উজ্জামান। সেখানে আনুষ্ঠানিক যাত্রার পর ১০ বছরে ১৬০০ কোটি টাকা কীভাবে, কোন ধরণের উদ্যোগে বিনিয়োগ করা হবে আর এই বিনিয়োগে ফেনক্সই বা কত লাভ তুলে নেবে, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ কেমন ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট। সেই সাক্ষাতকারের বিশেষ অংশ প্রকাশিত হল আজ (২৭ জুন, রোববার)।

fenox-techshohor

টেক শহর : বাংলাদেশে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ফেনক্স। এখন পর্যন্ত কতটি উদ্যোগে বিনিয়োগ হয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিমান কত?

ড. আনিস উজ্জামান : বাংলাদেশে ফেনক্স আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর আগেই বেশে বড় অংকেই প্রিয় ডটকম, সহজ ডটকমে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ফাউন্ডার ইনস্টিটিউটের বাছাইয়ের মাধ্যমে উঠে আসা উদ্যোগ হ্যান্ডিমামা’তে ছোট অংকের বিনিয়োগ হয়েছে।

টেক শহর : তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই বিনিয়োগ তো বাংলাদেশে ফেনক্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগেই করা। এটা কী বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যোগ্যতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ যাচাইয়ে করা হয়েছিল ?

ড. আনিস উজ্জামান : হ্যা। আমরা আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে গ্রাউন্ড টেস্ট করেছি। এখন আমরা ৩ হতে ৫টি কোম্পানিতে কথা বলছি। আর প্রথম ইনভেস্ট সফল বলেই আরও ইনভেস্ট করছি। ফেনক্সের গ্লোবাল জেনারেল পার্টনার এবং বাংলাদেশের অপারেশন দেখেন শামীম আহসান। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করিয়েছেন। আশাকরি সেখানে ভাল কিছু হবে।

টেক শহর : বাংলাদেশে কোম্পানিগুলোতে ইতোমধ্যে কত বিনিয়োগ করা হয়েছে ?

ড. আনিস উজ্জামান : কৌশলগত কারণে এই পরিমানটা উল্লেখ করা যাচ্ছে না। তবে আমরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে এই বিনিয়োগের সংখ্যা জানাতে চাই। আসলে স্টার্টআপগুলো আমাদের অনুরোধ করেছে এই সংখ্যাটা জানাতে না। সম্ভবত বিনিয়োগের পরিমানটা প্রকাশ হলে উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক পরিবেশে ঝুঁকি ও অনাকাংখিত প্রতিযোগিতায় পড়তে পারেন। বাংলাদেশের সেই পরিবেশ গড়ে উঠতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে মনে হয়।

টেক শহর : এই ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (২০০ মিলিয়ন ডলার) কতটি উদ্যোগে বিনিয়োগ করা হবে?

ড. আনিস উজ্জামান : আগামী ১০ বছরে এই অর্থ বাংলাদেশের ৪০ থেকে ৪৫টি স্টার্টআপ কোম্পানি পেতে পারে।

টেক শহর : বাংলাদেশে ১০ বছরে এই ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে কত ফেরত নেবেন বা লাভ করতে চান ?

ড. আনিস উজ্জামান : এর একটি নীতিগত অর্থনীতি রয়েছে। ফেঞ্চার ক্যাপিটালের আইআইআর(ফান্ডের পারফরমেন্স) ৭৮ শতাংশ। কোথাও যদি ১০০ টাকা ইনভেস্ট করা হয়ে তাহলে ১০ বছরে পরে সেখান হতে ৮৮০ টাকা ফেরত আসে। এই টাকা নেয় ওইসব বিনিয়োগকারীরা যারা ফেনক্সে বিনিয়োগ করে থাকে। ফেনক্সে এমন বিনিয়োগকারীর ১১টি ফান্ড রয়েছে। আর ফেনক্সের লাভ? আমরা ৮৮০ টাকা হতে মূল বিনিয়োগ ১০০ টাকা বাদ দিয়ে ৭৮০ টাকার ২০ শতাংশ পেয়ে থাকি।

টেক শহর : বাংলাদেশে যদি ২০০ মিলিয়ন ডলার ৪০-৪৫ কোম্পানির মধ্যে ভাগ হয় তাহলে গড় হিসাবে প্রতিটি কোম্পানি আড়াই হতে তিন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাচ্ছে। ফেনক্স একটি কোম্পানিতে কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে?

ড. আনিস উজ্জামান : ফেনক্সের বিনিয়োগ হয় স্মার্ট মানিতে। এটা হলো বিনিয়োগের সঙ্গে গাইডেন্স। কোম্পানির বেড়ে উঠতে ফেনক্স পরামর্শ দেয় প্রতিনিয়ত, ঝুঁকি তো নেয়ই। আমরা বিনিয়োগকৃত কোম্পানির শেয়ার কিনি। সাধরণত বিনিয়োগকৃত কোম্পানির ১০ হতে ১৫ শতাংশ শেয়ার কিনে থাকে ফেনক্স। এখানে সবসময়ই উদ্যোক্তার শেয়ার বেশি থাকে। এতে কোম্পানির বড় হওয়ার সুযোগ থাকে। উদ্যোক্তা নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করতে উৎসাহ হারান না। প্রথমে ১০ তারপর ১৫ শতাংশ, এভাবে বাড়াই। কোম্পানি বড় হওয়া পর্যন্ত আমরা বিনিয়োগ করতেই থাকি।

shohoz-bagbom-priyo-handy-techshohor

টেক শহর : ফেনক্স ব্যাংক হতে ফান্ড নেয় না কেনো?

ড. আনিস উজ্জামান : আমরা কখনও ব্যাংক হতে ইনভেস্ট নেই না। ব্যাংক ঝুঁকি নেয় না। কিন্তু আমাদের বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নেয়। তারা ফেনক্সের সঙ্গে খুব কনফিডেন্ট। তারা জানে তাদের অর্থ বড় হয়ে ফেরত আসবে।

টেক শহর : বিনিয়োগের জন্য ফেনক্সে নিয়শ্চই প্রতিনিয়ত অসংখ্য উদ্যোক্তা অসংখ্য আইডিয়া নিয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে কত ভাগে বিনিয়োগ করে ফেনক্স, এমন কোনো পরিসংখ্যান আছে কি?

ড. আনিস উজ্জামান : আসলে শুধু আইডিয়া হলে হয় না। ভাল উদ্যোক্তা, সম্ভাবনা ইত্যাদি নানা বিষয় থাকে বিচার-বিশ্লেষণে। গড় হিসাবে প্রতি ৮০০ টির আবেদনের মধ্যে একটি বিনিয়োগ হয়ে থাকে।

টেক শহর : সর্বশেষ বছরে সারা বিশ্বে ফেনক্স কত বিনিয়োগ করেছে ? সাধারণত প্রতি বছর বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগের কত লক্ষ্যমাত্রা থাকে ?

ড. আনিস উজ্জামান : ২০১৫ সালে ৬৫ হতে ৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন উদ্যোগে। এর মধ্যে ছোট ইনভেস্ট হতে বড় ইনভেস্টও আছে। আমরা প্রতি বছর এটা ১০০ হতে ১৫০ মিলিয়ন রাখতে চাই। কিন্তু তা হয়ে উঠে না।

টেক শহর : বাংলাদেশে ফেনক্সের স্পেসিফিক আগ্রহের জায়গা ঠিক কোথায়? বিনিয়োগ আবেদনের প্রধান শর্ত কী ?

ড. আনিস উজ্জামান : বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। সোজা কথায় এটাকে কাজে লাগাবে এই ধরণের ইন্টারনেট সার্ভিসে ইনভেস্ট করবো। আর এর অন্যতম হলো ই-কমার্স খাত।

এছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোগকে আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে মেধাবী এবং সৃজনশীল তারুণ্যের অভাব নেই। দেশের সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে আইটি অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে দারুণভাবে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা এই সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চাই।

১ টি মতামত

  1. নিক্তার হোসেন said:

    খুবই ভাল উদ্যোগ এবং এগিয়ে যাক এই কামনা করি। তবে একটি গ্লোবাল পেমেন্ট মেথড (পেপালের মত) এর অভাবে এগুলো খুড়িয়ে খুড়িয়ে যাচ্ছে।

*

*

Related posts/