Maintance

শিশু-নারীর সুরক্ষায় অ্যাপসের ধারণা দিয়ে সিফাত-নওশীনের চমক

প্রকাশঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১০, ২০১৪ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১০, ২০১৪

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাড়ির পাশে পুকুর, ডোবা বা নদী থাকলে অভিভাবকদের চিন্তার শেষ নেই। সেটি শহর বা গ্রাম যেখানেই হোক না কেন। কোথায় বেড়াতে গেলে এমন পরিবেশে আদরের শিশুকে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হয়।

কিন্তু এরপরও ঘটতে পারে বিপদ। অভিভাবকের চোখ ফাঁকি দিয়ে পানিতে ডুবে যায় শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে তাদের খুঁজে না পাওয়ায় করুণ পরিণতি ঘটে।

কিন্তু এমন বিপদ থেকে সুরক্ষার কোনো উপায় আছে কি? এমন ভাবনা থেকে একটি অ্যাপ বানানোর ধারণা তৈরি করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক সিফাত।

telinor

ডুবে যাওয়া শিশুদের রক্ষা করতে ‘ডিজিটাল মাদুলি : কিপিং কিডস সেইফ নিয়ার ওয়াটার’ নামে একটি অ্যাপ তৈরির পথ বাতলে দিয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ শিক্ষার্থী।

 

জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম, সিমকার্ডসহ কম খরচের মনিটরিং সিস্টেম, সিগন্যালের মাধ্যমে তৈরি এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে অভিভাবক অথবা উদ্ধারকর্মীরা ডুবে যাওয়া শিশুর অবস্থান নির্ণয় করতে পারবেন। সহজেই শিশুদের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে। তবে শিশুটিকে মাদুলি আকারের ডিভাইসটি পরিয়ে রাখতে হবে।

 

এটাতো গেল শিশুদের নিয়ে দরকারি একটা অ্যাপ। এবার আসা যাক নারীদের কথায়। রাতে তো বটেই অনেক সময় দিনেও নারীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন।

 

কঠোর আইনের পরও বখাটেদের হাত থেকে তরুনী ও নারীরা নিস্তার পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তায় কার্যকরি একটি অ্যাপ বানানোর ধারণা দিয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশীন মেহজাবিন চৌধুরী।

 

তার অ্যাপটির নাম ‘ফার্স্ট লেডি: এনসিওরিং আ সেফ সোসাইটি ফর উইমেন’। এটি ঘরে-বাইরে সহিংসতা প্রতিরোধে নারীদের সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে নারীরা নিবন্ধন করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবেন।

 

Symphony 2018

এ ছাড়া জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হেলপ লাইন ব্যবহারও করা যাবে। বিপদে পড়লে অ্যাপটির মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সিগন্যাল পাঠানো যাবে।

 

টেলিনর ইয়্যুথ সামিট প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে সিফাত ও নওশীন এ দুটি ধারণাপত্র তৈরি করেন। তাদের ধারণা অন্যদের থেকে অধিক কার্যকর হওয়ায় তারা সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

 

বাংলাদেশ পর্যায়ের চার ফাইনালিস্টের মধ্যে জয়ী হয়ে তারা পাচ্ছেন নরওয়ের ওসলোতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগ।

 

অপর দুই ফাইনালিস্ট ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারাশার সাহা এবং আহমেদ ইসতেহাদ শৌমিক।

 

ডিজিটাল কমিউনিকেশনের সাহায্যে সমাজ পরিবর্তন এবং সুযোগ সৃষ্টির জন্য তরুনদের উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

 

২০১৪ সালের আগস্ট থেকে এবারের তিনস্তরের এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথম পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে নির্বাচিতরা দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

 

চুড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যটেজি অফিসার এরল্যান্ড প্রেস্টগার্ড, বেসিসের মহাসচিব ও সিইও চ্যাম্পস ২১-এর সিইও রাসেল টি আহমেদ এবং এমপাওয়ারে প্রতিষ্ঠাতা মৃদুল চৌধুরী।

 

সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন টেলিনরের মালিকানাধীন কোম্পানি গ্রামীণফোন।

*

*

Related posts/