Maintance

মাঝারি পারফরমেন্সেও অফিসের কাজে সেরা ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ান

প্রকাশঃ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৪৫ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্ল্যাকবেরি নতুন রূপে অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা হিসেবে ফিরেছে ক’বছর আগেই।

এ ব্র্যান্ডের সর্বশেষ ফোন ‘কি-ওয়ান’ নতুন ও পুরাতনের এক উজ্জ্বল সমন্বয়ে তৈরি। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ ছাড়াও ফোনটি কাজের কিনা, চলুন দেখা যাক।

এক নজরে ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ান

  • ডুয়াল সিম
  • ৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি, ১০৮০ x ১৬২০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি স্কোয়ার ডিসপ্লে
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নোগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ অক্টাকোর ২ গিগাহার্জ গতির প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, রয়েছে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • ১২ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চারের ব্যাক ক্যামেরা
  • ফোর-কে ভিডিও
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চারের সেলফি ক্যামেরা
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ক্যাপাসিটিভ টাচ সমৃদ্ধ ফুল কুয়ের্টি বাটন কিবোর্ড
  • কোয়ালকম কুইকচার্জ ৩ সমৃদ্ধ ৩৫০৫এমএএইচ ব্যাটারি

ডিজাইন

বাজারে থাকা স্মার্টফোনের চেয়ে ডিজাইনে কি-ওয়ান বেশ আলাদা। তুলনামূলক ছোট ডিসপ্লে, তার নিচে থাকা কিবোর্ড, নরম কার্পেটের মতো ব্যাক ও কিবোর্ডে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর-সবকিছুই পুরাতন ব্ল্যাকবেরির কথা মনে করিয়ে দেয়।

অ্যালুমিনিয়াম বডি, শক্ত পলিকার্বনেটের কিবোর্ড ও দীর্ঘস্থায়ী রাবার ব্যাক ফোনটি তৈরির মান সম্পর্কে কোনো সন্দেহ রাখে না। অ্যালুমিনিয়াম বডি ও গরিলা গ্লাস মিলিয়ে ফোনটির ডিজাইন খুব সুন্দর ও নজরকাড়া ।

পেছনের ক্যামেরার লেন্স দেয়া হয়েছে বেশ বড়সড়। সামনের কিবোর্ডে দেয়া হয়েছে এলইডি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। ইউএসবি টাইপ সি পোর্টের পাশাপাশি বাদ পড়েনি হেডফোন জ্যাক।

ডিসপ্লে

কিবোর্ড থাকায় ফোনটির ডিসপ্লে কিছুটা ছোট, সাড়ে চার ইঞ্চি। অন্যান্য ফোনের মতো ওয়াইড স্ক্রিনের বদলে এতে স্কয়ার ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ব্রাউজিং ও অন্যান্য অফিসের কাজ করতে ডিসপ্লেটি কাজের হলেও মুভি দেখা বা বই পড়ার জন্য অনুপাতটি ঠিক মনপুত হবে না।

রেজুলেশনের দিক থেকে কি-ওয়ান পিছিয়ে নেই। ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট ও কালারেও ঘাটতি নেই।

তবে আজকাল প্রায় সব অ্যাপ ওয়াইডস্ক্রিনের জন্য ডিজাইন করায় কিছু অ্যাপ ডিসপ্লেতে সঠিকভাবে দেখা নাও যেতে পারে।

স্কোয়ার ডিসপ্লের মূল সমস্যা মাল্টি টাস্কিং। স্ক্রিনে একসঙ্গে দুটি অ্যাপ ভালভাবে চালানোর জন্য আজকাল ১৮:৯ লম্বাটে ডিসপ্লের চল হয়েছে। সেখানে স্কোয়ার ডিসপ্লে বেশ পুরাতন মনে হওয়া স্বাভাবিক। তবে যেহেতু পুরো ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে পুরাতনের ছোঁয়া। তাই সেটি মেনে নেয়া যায়।

পারফরমেন্স

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসর, যা মাঝারি পারফরমেন্সে ব্যাটারি বাঁচানোর জন্য তৈরি। ব্ল্যাকবেরি ফোনগুলো তৈরই করা হয়েছে অফিসের কাজ লক্ষ্য করে, ফলে ব্যাটারি সাশ্রয়ী চিপসেট ব্যবহার স্বাভাবিক।

অক্টাকোর সিপিউটি প্রায় সকল কাজ অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন না করেই করতে সক্ষম। হালের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মতো দ্রুততার সঙ্গে নয়।

অ্যাপ চালু ও বন্ধে ল্যাগ চোখে না পড়লেও কিছুটা মন্থরতা ফ্ল্যাগশিপ ব্যবহারকারীদের নজরে পড়বে।

এটি গেইম খেলার জন্য তৈরি নয় বলে জিপিউর পারফরমেন্স তেমন জরুরিও নয়। যদিও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ স্টোরের বেশিরভাগ জনপ্রিয় গেইম সমস্যা ছাড়াই চলবে। হাই ডেফিনিশন ভিডিও বা থ্রিডি ডিজাইনের অ্যাপ চালাতেও সমস্যা হবে না।

আজকালের প্রায় কোনো ফোনেই র‌্যাম স্বল্পতা দেখা যায় না। ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ানেও সে সমস্যা নেই।

একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানোর পরও ফোনের গতি কমেনি বা ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়নি।

সব মিলিয়ে, ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ান অফিসের কাজের জন্য যথেষ্ট ক্ষমতাধর। তবে ফ্ল্যাগশিপের কাতারে নেই।

ক্যামেরা

ব্ল্যাকবেরি ক্যামেরার জন্য নামকরা না হলেও, কি-ওয়ান সেরা ক্যামেরা ফোনের একটি। পেছনের ১২ মেগাপিক্সেল, এফ/২.০ অ্যাপার্চারের ক্যামেরাটি দুর্দান্ত ডাইনামিক রেঞ্জ সমৃদ্ধ ছবি তুলতে সক্ষম। বিশেষত অটো এইচডিআর কোনো ডিটেইল নষ্ট না করে ভালোমানের হাই ডাইনামিক রেঞ্জ ছবি তুলতে পারে।

স্বল্প আলোতেও ক্যামেরাটি বেশ কাজের। নয়েজের পরিমাণ খুবই অল্প ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিটেইল নেই বললেই চলে। তবে অপ্টিক্যাল স্টেবিলাইজেশন না থাকায় ছবি তোলার সময় হাত স্থির রাখতে হবে।

ভিডিওর ক্ষেত্রেও ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ান যথেষ্ট পারদর্শী। ফোরকে রেজুলেশনে যথেষ্ট ডিটেইল সমৃদ্ধ স্মুথ ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম ডিভাইসটির মূল সমস্যা অপ্টিক্যাল স্টেবিলাইজেশনের অভাব।

৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরাটি কাজ চালানোর মতাে। এক্ষেত্রে অটো এইচডিআর কাজ করলেও ব্যাক ক্যামেরার মতো অতটা কার্যকর নয়। রেজুলেশনের ঘাটতি নেই।

কিবোর্ড ও ব্ল্যাকবেরি সফটওয়্যার

ফোনটির মূল আকর্ষণ কিবোর্ড, সন্দেহ নেই। প্লাস্টিকের অর্ধস্বচ্ছ বাটনে তৈরি কিবোর্ডটি পুরোটাই একটি টাচ প্যানেল, যার মাধ্যমে স্ক্রলিং বা কার্সর নাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

কিবোর্ডের প্রতিটি বাটনেই শর্টকাট প্রোগ্রাম করে রাখা যাবে, দ্রুত কাজ করার জন্য যা খুব প্রয়োজনীয়।

টাচস্ক্রিনে টাইপ করে যারা অভ্যস্থ তাদের কিবোর্ডটিতে অভ্যাস করতে কিছু সময় লাগবে। একবার হাতে এসে গেলে দ্রুত টাইপ করা সম্ভব।

কিবোর্ডের স্পেসবারটি ছবি তোলার সময় শাটার বাটন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটিও এর মধ্যেই রয়েছে। সব মিলিয়ে কিবোর্ডটি কি-ওয়ানের কেন্দ্রবিন্দু।

ব্ল্যাকবেরি হাব ফোনটির অন্যতম সেরা ফিচারের একটি। সকল ইমেইল, কনটাক্টস, ম্যাসেজ, ম্যাসেঞ্জারের বার্তা একত্রে দেখা ও দ্রুত উত্তর দেয়ার জন্য শর্টকাট ফোনটিকে করেছে অফিসের কাজের জন্য অনন্য।

নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য রয়েছে ডিটেক সিকিউরিটি অ্যাপ, যা  কোনো অ্যাপ ক্ষতিকর কিছু করছে কিনা সে দিকে নজর রাখবে। এ ছাড়াও ব্ল্যাকবেরি ক্যালেন্ডার ও ম্যাসেঞ্জারও বাদ পড়েনি।

অডিও কোয়ালিটি

একটি লাউড স্পিকার থাকায় ফোনটির ভলিউম কিছুটা কম। একই সমস্যা পোহাতে হবে হেডফোনেও। তবে সাউন্ড কোয়ালিটি উন্নতমানের। গান শোনা যাবে বেশ, তবে হেডফোন অ্যাম্প ব্যবহার করা ভালো।

ব্যাটারি লাইফ

শুরু থেকেই ব্ল্যাকবেরি ফোনগুলো ব্যাটারি লাইফের জন্য বিখ্যাত, নতুন ফোনটিও ব্যতিক্রম নয়। ৩৫০৫ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, কিছুটা ছোট ডিসপ্লে ও ব্যাটারি সাশ্রয়ী প্রসেসর ফোনটিকে অন্তত দুই দিন ব্যাকআপ দিতে পারবে। স্ট্যান্ডবাইতে ব্যাটারি বাঁচাতে বেশ কিছু কাজ করেছে। স্ক্রিন অন টাইম পাওয়া যাবে অন্তত ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা।

মূল্য

ফোনটি বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে এনেছে ভারতের টেলিকম এন্টারপ্রাইজ ‘অপটিমাস’। দাম ৫৩ হাজার ৯৯৯ টাকা।

পরিশেষ

যারা অফিসের ইমেইল, ভিডিও কল, দ্রুত ডকুমেন্ট দেখা, এডিট করা ও পাঠানোর জন্য ফোন খুঁজছেন তাদের জন্য ব্ল্যাকবেরি কি-ওয়ান অনন্য। তবে মূল্য অনুযায়ী একে সেরা স্মার্টফোন কোনাভাবেই বলা যাবে না।

মূলত যারা কিবোর্ড সমৃদ্ধ ফোনের জন্য এতদিন বসে ছিলেন তাদের লক্ষ্য করেই এটি বাজারে আনা হয়েছে।

এক নজরে ভালো

  • তৈরির মান
  • কিবোর্ড
  • ক্যামেরা
  • ব্যাটারি লাইফ

এক নজরে খারাপ

  • ডিসপ্লের সাইজ বেশ ছোট
  • পারফরমেন্স মাঝারি
  • চড়া মূল্য
  • ক্যামেরায় অপটিক্যাল স্টেবিলাইজেশন নেই

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস এম তাহমিদ

*

*

Related posts/