Maintance

ফিও এফ৩ মানে ভালো হলেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়

প্রকাশঃ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ৬, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫৮ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ৬, ২০১৮

এস.এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের হেডফোন বাজারে ফিও এখনও তেমন পরিচিত নাম নয়। বিশ্বব্যাপী অবশ্য গুণগতমান ও স্বল্পমূল্যের কারণে ব্র্যান্ডটি বেশ সমাদৃত। সেই সূত্রেই এখানকার বাজারেও আসতে শুরু করেছে এ ব্র্যান্ডের হেডফোন।

ফিওর মাঝারি মূল্যের হেডফোন এফ৩। বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবেই দেশে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে থাকা অন্যান্য হেডফোনের সঙ্গে এটি গুণে ও মানে কতটুকু পাল্লা দিতে সক্ষম, চলুন দেখা যাক এ রিভিউতে।

একনজরে ফিও এফ৩

  • ইয়ারবাড স্টাইল হেডফোন
  • ১১ মিলিমিটার ডাইনামিক ড্রাইভার (স্পিকার)
  • ১৫ থেকে ২০,০০০ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স
  • প্রতি মিলিওয়াটে ৯৮ ডিবি সাউন্ড
  • ৪০ ওম ইম্পিডেন্স
  • মাইক্রোফোন
  • ভলিউম ও প্লেব্যাক নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি বাটন
  • পরিবর্তনযোগ্য ব্যাকপ্লেট
  • ব্রেইডেড, রাবারে মোড়ানো তার
  • গোল্ড প্লেটেড ৩.৫ মিলিমিটার জ্যাক

ডিজাইন

অর্ধস্বচ্ছ প্লাস্টিকে তৈরি হেডফোনটি কিছুটা চারকোনা আকৃতির। কানের সঙ্গে মানিয়েও যায় বেশ ভালো। সাদা সিলিকোনের ইয়ারটিপগুলো নরম ও পানি নিরোধী। এক্ষত্রে যারা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে চান তাদের জন্য আলাদা ফোমের টিপ কেনা ভাল হবে।

হেডফোনটির ক্যাবল লম্বায় পাঁচ ফুট। যাতে সহজেই পেঁচিয়ে না যায় সেজন্য রাবারের কোটিং দেয়া হয়েছে। এটির তার নষ্ট হলেও বিকল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

এটির ডিজাইনে মূল সমস্যা, ইয়ার হুকগুলো স্থায়ীাভাবে লাগিয়ে রাখার উপায় নেই। সিলিকোনের ইয়ার হুকগুলো পরে থাকার সময় আরাম লাগলেও পকেটে রাখলে খুলে পড়বেই। যদিও হেডফোনের সঙ্গে ক্যারি কেইস দেয়া হয়েছে।আর এটা জানা কথা, কেইস ব্যবহার কখনই তেমন সুবিধাজনক নয়।

ইয়ারহুক ছাড়াও ব্যবহার করা অসম্ভব নয়, তবে কান থেকে খুলে পড়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ডিজাইনে ফিও এফ৩ মানের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও চলার পথে ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার।

সাউন্ড

সাউন্ড স্টেজের দিক থেকে এফ৩ কিছুটা পিছিয়ে। সারাউন্ড মিউজিক বা মুভি দেখার সময় শব্দের অবস্থানগত পার্থক্য কাছাকাছি মূল্যের হেডফোনের চেয়ে কম পাওয়া যাবে।

মিড ও ট্রেবলের মাঝে পার্থক্য সুস্পষ্ট ও তেমন সুক্ষ না হওয়ার ফলে জটিল সুরের গান শুনে মজা পাওয়া যাবে কম। যারা ড্যান্স মিউজিক কিংবা পপ সঙ্গীত পছন্দ করেন তাদের জন্য হেডফোনটির সাউন্ড খুবই ভাল।

বেইস

হেডফোনটি গভীর বেইস দিতে সক্ষম হলেও বড় কিন্তু রয়েছে। বাজারের আর দশটি হেডফোনের চেয়ে ইম্পিডেন্স বেশি হওয়ার ফলে অনেক ফোন ও পিসি হেডফোনটির মাধ্যমে বেইস সঞ্চালণ করতে অক্ষম।

তবে ভাল একটি অ্যাম্প অথবা হাই-ফিডেলিটি মিউজিক প্লেয়ারের মাধ্যমে হেডফোনটি ব্যবহার করলে গভীর সাব বেইস পাওয়া যাবে। বেইসের আধিক্য থাকলেও মিড ও র্ট্রেবলে তার প্রভাব তেমন নেই। এ কারণে গান শোনায় বেইস নিয়ে সমস্যা হবে না।

মিড

ব্যালেন্সড সাউন্ডের জন্য তৈরি হেডফোনটির মিড বেশ স্পষ্ট। অন্যান্য ডুয়াল বা কোয়াড ড্রাইভার হেডফোনের চেয়ে ট্রেবল ও মিডের মাঝে পার্থক্য অতটা সুস্পষ্ট নয়। যারা একুস্টিক অথবা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পছন্দ করেন তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন। আর এ মূল্যে আরও ভালো ভোকাল বা মিড  অন্য কোনো হেডফোনে পাওয়া যাবে না।

ট্রেবল

অতিরিক্ত ট্রেবল বা সিবিলেন্স ছাড়া ক্লোজড ব্যাক ইয়ারবাডে যতটুকু ট্রেবল সম্ভব ততটুকুই রয়েছে এ মডেলে। ডুয়াল বা কোয়াড ড্রাইভার না হবার ফলে ট্রেবল ও মিডের মাঝে পার্থক্য সুস্পষ্ট নয়।

ট্রেবল কিছুটা দুর্বল হওয়ার ফলে হাই রেজুলেশন ফাইল ছাড়া অনেক সময় বাদ্য যন্ত্রের আওয়াজ একটির সঙ্গে আরেকটি মিশে যেতে পারে।

 

অন্যান্য ফিচার

ইয়ারটিপ, ইয়ার হুক এমনকি পেছনের কালার প্লেটও বদল করা যাবে হেডফোনটির। ফলে নিজের পছন্দমত সেট করে নেয়া খুবই সহজ। ক্যারি কেইসটিও ভালো মানের। সব মিলিয়ে এফ৩-এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য সরাঞ্জাম অন্যান্য হেডফোনের চেয়ে বেশি।

পরিশেষ

মূল্য অনুযায়ী এফ৩ ভালো মানের হেডফোন সন্দেহ নেই। বাজারে একই মূল্যে ডুয়াল ড্রাইভার হেডফোন রয়েছে। তাই সিঙ্গেল ড্রাইভার এফ৩ রয়েছে পিছিয়ে।

এ মডেলের শক্তিশালী দিক হলো এ মূল্যে ভারি বেইস সমৃদ্ধ হেডফোন তেমন নেই, বিশেষত যে বেইস গানের অন্যান্য অংশকে নষ্ট করবে না। তৈরির মানেও এফ৩ রয়েছে বেশ এগিয়ে।

মূল্য: ফিও বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হেডফোনটি ১৯০০ টাকায় বিক্রি করছে।

এক নজরে ভালো

  • বেইস সাউন্ড
  • তৈরির মান
  • অন্যান্য সরঞ্জাম

এক নজরে খারাপ

  • ইয়ারহুক খুলে পড়াটা বিরক্তিকর
  • ইম্পিডেন্স বেশি, ভালো ফোন বা অ্যাম্প প্রয়োজন
  • ট্রেবল ও মিডের মাঝে পার্থক্য সুস্পষ্ট নয়।

*

*

Related posts/