Maintance

শাওমি রেডমি নোট ৫এ : ফিরলো বাজেটের রাজা, বিকল্পও আছে

প্রকাশঃ ২:৩৪ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০১ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ৬, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্বল্পমূল্যে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়ে শাওমি রেডমি সিরিজটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নিয়মিত বিরতিতে নতুন মডেলের ফোন আনছে চীনা ব্র্যান্ডটি। বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে অবস্থান ধরে রেখেছে এটি।

তাদের সর্বশেষ ফোন রেডমি নোট ৫এ-এই সুনাম ধরে রাখতে পেরেছে কিনা, চলুন দেখা যাক।

এক নজরে রেডমি নোট ৫এ

  • ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি ১২৮০ x ৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪২৫ ১ দশমিক ৪ গিগাহার্জ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৩০৮ জিপিউ
  • ২ গিগাবাইট র‌্যাম
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.১
  • ১৩ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা, f/2.2 অ্যাপার্চার
  • ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, f/2.0 অ্যাপার্চার
  • ৩০৮০ এমএএইচ ব্যাটারি, কোয়ালকম কুইক চার্জ ২
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক

ডিজাইন

সম্পূর্ণ প্লাস্টিকে তৈরি হলেও রেডমি নোট ৫এ ফোনটির বডি বেশ ভালো মানের। ডিজাইনের দিক থেকে রেডমি ৩ ও রেডমি ৪-এর সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। ফোনটির ওপরে ও নীচের অংশে রয়েছে অ্যান্টেনা লাইন, যা দেখতে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে।

ডানপাশে একই সঙ্গে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন থাকায় বাহাঁতিদের ব্যবহারে কিছুটা সমস্যা হবে, স্ক্রিনশট নেওয়াও কিছুটা কষ্টসাধ্য।

সিম ও মেমরিকার্ড স্লট রয়েছে বাম পাশে, দুটি সিম ও একটি মেমরি কার্ড একসঙ্গেই ব্যবহার করা যাবে।

ফোনটির ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, ইনফ্রারেড ব্লাস্টার, নীচে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও স্পিকার। ডিসপ্লের নিচে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ বাটন, ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস ও ফ্রন্ট ক্যামেরা।

সব মিলিয়ে ডিজাইন ও তৈরির মানে কোনও কমতি নেই। অ্যালুমিনিয়াম বডি হলে ফোনটি আরও শক্তপোক্ত হতে পারত।

ডিসপ্লে

বিগত বছরগুলো থেকেই ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি ফোনে ৭২০পি রেজুলেশন ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও এ ফোনে এমন রেজুলেশনই ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব যথেষ্ট বেশি। যারা ভিআর কনটেন্ট দেখার জন্য ফোন কিনতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ফোনটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো হবে।

ডিসপ্লের কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস ও কালার যথেষ্ট ভালো। ফোনটির চিপসেটের জন্য ৭২০পি রেজুলেশন ১০৮০পি ফুল এইচডির চেয়ে অধিক মানানসই।

পারফরমেন্স

কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪২৫ প্রসেসরটি বাজেট ডিভাইস লক্ষ্য করে তৈরি। ফলে গেইমিং বা ভারি কাজের বদলে দৈনন্দিন সকল কাজ সুন্দরভাবে চালানোর জন্যই এটি তৈরি।

কোয়াডকোর প্রসসেরটি কোনও কিছুতে হ্যাং না করলেও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে ঠিক মানিয়ে নিতে পারে না। তবে ৬৪বিট প্রযুক্তির হওয়ায় অন্তত দ্রুতই পুরাতন হচ্ছে না।

জিপিউটিও দৈনন্দিন কাজের জন্যই তৈরি, গেইমিং নয়। বেশিরভাগ গেইম ফোনটিতে খেলা যাবে, যদিও হাই গ্রাফিক্সে নয়। হাই গ্রাফিক্সের গেইমগুলোতে ল্যাগ পাওয়া গিয়েছে। ৭২০পি রেজুলেশনের ডিসপ্লে থাকায় অবশ্য ল্যাগ প্রকট নয়।

আজকাল ২ গিগাবাইট র‌্যাম বাহুল্য নয় প্রয়োজন। তাই অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করতে রেডমি নোট ৫এ অক্ষম হলেও র‌্যামের স্বল্পতা না থাকায় অ্যাপ ক্র্যাশ করবে না।

ফোনটির মূল দূর্বলতা ১৬ গিগাবাইট রম। প্রায় সকল অ্যাপই ফোন মেমরিতে ইন্সটল করতে হয়। সেক্ষেত্রে মাত্র ১১ গিগাবাইট খালি ইন্টারনাল মেমরি খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে। মেমরি কার্ড ব্যবহার খুবই জরুরি।

ক্যামেরা

বাজেট ডিভাইসে সাধারণত চলনসই মানের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। রেডমি ৫এ এর কিছুটা ব্যাতিক্রম। একদম ফ্ল্যাগশিপ মানের না হলেও, স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ছবিগুলোর মান যথেষ্ট।

ছবিতে কালার ব্যালেন্স বেশ ভালো, কনট্রাস্ট ও নয়েজ সঠিকভাবে ব্যালেন্স করলেও ছবির কালারের ঔজ্জ্বল্য কিছুটা কম।

অল্প আলোতে নয়েজ কম দেখা গেলেও ছবিতে ডিটেইলও কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এইচডিআর মোড ব্যবহার না করলে ছবিতে ডিটেইল কম পাওয়া যাবে।

ভিডিওর ক্ষেত্রেও পারফরমেন্স খারাপ নয়। স্ট্যাবিলাইজেশন আর ডিটেইলের অভাব ভাবাবে।

সেলফি ক্যামেরা মূল্য অনুযায়ী যথেষ্ট ভালো। এ ক্ষেত্রে ডিটেইলের একটু স্বল্পতা রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে ক্যামেরার জন্য রেডমি নোট ৫এ বাজেট অনুসারে বেশ ভালো।

সাউন্ড

লাউডস্পিকার অথবা হেডফোন কোথাও সাউন্ডের কমতি না থাকলেও অসাধারণ সাউন্ড ফোনটি থেকে আশা করা ভুল। যারা গান শোনার জন্য ফোন খুঁজছেন তারা হেডফোন অ্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাটারি লাইফ

বড়সর ব্যাটারি আর স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ সিরিজের প্রসেসর একসঙ্গে বেশ ভালো ব্যাটারি লাইফ দিয়েছে। অন্তত ৮ থেকে ৯ ঘন্টা স্ক্রিন অন টাইম ফোনটি থেকে পাওয়া যাবে।

তবে সঙ্গে থাকা চার্জারটি মাত্র এক অ্যাম্পেয়ারের হওয়ায় ফুল চার্জ হতে অনেক সময় লেগে যাবে। যদি কোয়ালকম কুইকচার্জ ২ সমর্থিত চার্জার ব্যবহার করা যায় তাহলে দেড় থেকে দুই ঘন্টায় ফোন ফুল চার্জ হয়ে যাবে।

পরিশেষ

মূল্য অনুযায়ী ফোনটি যথেষ্ট ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছে। তবে দেশের বাজারে কাছাকাছি মূল্যের আরও ফোন রয়েছে, যেগুলো পারফরমেন্স তেমন পিছিয়ে নেই। তাই ফোনটি কেনার আগে বাজার ঘুরে দেখাই ভালো।

মূল্য

ফোনটি বাজারে ১২ হাজার ৭০০ টাকায় আনুষ্ঠানিক ওয়ারেন্টিসহ পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ব্যাটারি লাইফ
  • ক্যামেরা
  • ডিসপ্লে

এক নজরে খারাপ

  • চলনসই পারফরমেন্স
  • কুইকচার্জ অ্যাডাপ্টার সঙ্গে নেই

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর ডটকমের কনটেন্ট কাউন্সিলর এস.এম. তাহমিদ

*

*

Related posts/