মাইক্রোসফট সারফেস ২ কেনার কথা ভাবছেন

টেক শহর ডেস্ক: মাইক্রোসফট উইন্ডোজের সর্বশেষ আপগ্রেড ৮.১ রিলিজের খুব বেশি দিন হয়নি। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নতুন এটি নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন উইন্ডোজের এ সংস্করণ ব্যবহার করে ট্যাবলেট তৈরির। তবে গত বছরের মত এবারও আলোচনায় থাকছে মাইক্রোসফটের নতুন সারফেস ট্যাবলেট।

শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক মাইক্রোসফট ২০১২ সালের জুনে প্রথম সারফেস বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। সেটি ছিল তাদের প্রথম নিজস্ব পিসি। তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক বিক্রি হয়নি এ ট্যাবলেট। ফলে অনেকটা চ্যালেঞ্জ কাঁধে নিয়ে সারফেস ২ বাজারে আনতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

প্রথম প্রজন্মের সারফেসটি ১৯২০*১০৮০ পিক্সেলের ক্লিয়ারটাইপ ডিসপ্লের কারণে বেশ প্রশংসা পেয়েছিল । এবারও একই ১০.৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে মাইক্রোসফট। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে উইন্ডোজ ৮.১ ৬৪-বিট।

এ ছাড়া ট্যাবটিতে রয়েছে ১.৬ গিগাহার্জ গতির সর্বশেষ মডেলের কোর আইফাইভ প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট র‍্যাম। কানেক্টিভিটি রয়েছে ওয়াইফাই, ব্লুটুথের, আছে ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা ও ৩.৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।

প্রথম সারফেসটি কেনার ব্যাপারে যাদের আগ্রহ ছিল না, শুরুতেই বলে রাখি- দ্বিতীয় সারফেসটিও তাদের জন্য নয়। এটি থেকে এমন ম্যাজিক্যাল কিছু পাওয়া যাবে না, যা রাতারাতি একে আইপ্যাড কিংবা নেক্সাস ৭ এর ওপরে স্থান দেবে। তবে আপনি যদি দীর্ঘদিনের পিসি ব্যবহারের অভ্যাসে নতুনত্ব আনতে চান এবং ৯০০ ডলারের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে সারফেস ২ আপনার জন্য দারুণ সুযোগ।

Microsoft Surface_techshohor

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নতুন সারফেসের সেরা আপগ্রেডটি হচ্ছে এর ব্যাটারি লাইফ। এর আগের সারফেসে যেখানে চার্জ থাকত সাড়ে চার ঘণ্টা, সেখানে এবার চার্জ থাকবে সাত ঘণ্টা। এছাড়া ডিভাইসটির বডিতে বা আকার-আকৃতিতে চোখে পড়ার মতো বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কেবল পেছনের কিকস্ট্যান্ডটি একটির বদলে এবার দুটি পজিশনে দাঁড়াতে পারবে।

সারফেস ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন, এর সঙ্গে কি-বোর্ড ব্যবহার না করলে নেভিগেশন ও টাইপিং বেশ কঠিন হতে পারে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ১২০ বা ১৩০ ডলার দিয়ে কি-বোর্ড কাম কাভার কিনেছেন। আশা করা হচ্ছিল সারফেস ২ এর ক্ষেত্রে এ বিষয়টি কিছুটা শিথিল করতে পারে মাইক্রোসফট, কিন্তু তা হয়নি। এবারও বাড়তি টাকা দিয়ে টাচ কাভার কিংবা টাইপ কাভার কিনতে হবে।

তৃতীয় আরেকটি টাইপ কাভারও এবার পাওয়া যাচ্ছে, যার ভেতরে বিল্ট-ইন ব্যাটারি রয়েছে। এ কি-বোর্ড কাভারটি আপনার সারফেসের ব্যাটারি লাইফ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া সব কি-বোর্ডকেই ব্যাকলিট করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিটি কি-তে আলো জ্বলবে।

পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে বলতে হবে, একটি কোরআইফাইভ প্রসেসরের অত্যন্ত দ্রুতগতির পিসি থেকে যেমন আউটপুট আশা করতেন, সারফেসে প্রোতে ঠিক তাই পাবেন। বরং এক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনিস বোনাস পাবেন, যেমন ডিজিটাল পেন। এই পেন ব্যবহার করে ছবি আঁকা, নকশা, লেখালেখি তো নিখুঁতভাবে করতে পারবেনই, পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপে এটি কাজে লাগাতে পারবেন। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ও অ্যানিমেশনের কাজ যারা করেন, তাদের এটি বেশ কাজে আসবে।

সব মিলিয়ে বলতে হবে, সারফেস ২ আক্ষরিক অর্থেই আইপ্যাড ও অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। অনেকটা আইপ্যাডের দামেই যখন একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার (সারফেস ২ প্রো) পাচ্ছেন, তখন কেন আইপ্যাড কিনবন- এমন প্রশ্ন হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক রিভিউ ওয়েবসাইটগুলোতে।

আর যারা বড় বাজেট নিয়ে ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন, তারাও ল্যাপটপের বদলে বেছে নিতে পারেন সারফেস। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু করপোরেট অফিস ইতোমধ্যে তাদের ওয়ার্কস্টেশনে ল্যাপটপের বদলে সারফেস ২ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সারফেসের প্রো ২ এর ‘ছোটভাই’ হিসেবে পরিচিতি সারফেস আরটি ২ অবশ্য তেমন ইতিবাচক সাড়া পায়নি। এতে রয়েছে এনভিডিয়া টেগ্রা ফোর প্রসেসর ও উইন্ডোজ আরটি ৮.১। তাই এটি কেবল উইন্ডোজ স্টোরের অ্যাপ্লিকেশন চালাতে সক্ষম, সাধারণ সফটওয়্যার নয়।

-শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর ডেস্ক

Related posts

*

*

Top