ওয়াই-ফাই ও জিপিএস নিয়ে নাইকনের নতুন ক্যামেরা

টেক শহর ডেস্ক : ডিজিটাল ক্যামেরার বাজারে আপগ্রেডের মৌসুম চলছে এখন। আনকোরা নতুন পণ্যের বদলে পুরনোগুলোতেই নতুন আপডেট সংযোজন করে বাজারে ছাড়ছে নির্মাতারা।  ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকন যেমন চলতি মাসে এনেছে ডি৫৩০০, বছরের শুরুর দিকের ডি৫২০০-এর পূর্ণ আপগ্রেড।

তারবিহীন ওয়াই-ফাই কিংবা গ্লোবাল পজিশন সিস্টেম (জিপিএস) এ দুটি প্রযুক্তি মোটেও নতুন নয়। তবে ক্যামেরায় এ দুটির সংযুক্তি নতুন খবর। ‘ডি৫৩০০’ মডেলের এ ক্যামেরায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে বাজারে আসা ‌’নাইকন ডি৫২০০-এর হালনাদাগ সংস্করণ বলা হচ্ছে একে।

ওয়াই-ফাই যুক্ত থাকায় ছবি তোলার পর সহজেই অন্যসব ডিভাইসে (ওয়াই-ফাই সমর্থিত) ছবি স্থানান্তর বা বিনিময় করা যাবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের সাইটেও সরাসরি ছবি পোস্ট করা যাবে। চাইলে প্রিয়জনকে ই-মেইল করে পাঠানো যাবে ক্যামেরা থেকে।

যারা সদ্য ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন; কিন্তু ইতোমধ্যে এর অনেক খুঁটিনাটি নাগালে এসেছে তাদের কথা চিন্তা করেই ডি৫৩০০ মডেলকে নতুনভাবে সাজিয়েছে নাইকন। তাই এর অবস্থান এন্ট্রি লেভেলের ডি৩২০০ এবং প্রফেশনাল লেভেলের ডি৭১০০ এর মাঝামাঝি। এর ক্যামেরা রেজুল্যুশন ২৪ মেগাপিক্সেল, আরও রয়েছে আর্টিকুলেটেড এলসিডি প্যানেল ও নতুন সংযোজিত কিছু কন্ট্রোল বাটন।

দেখতে আগের সংস্করনের মতো হলেও এ মডেলটি ওজনে কিছুটা হালকা ও আকারে ছোট। ২৪ মেগাপিক্সেল সেন্সরটি আগের চেয়ে শক্তিশালী হলেও এতে অ্যান্টি-অ্যালায়াসিং সেন্সর নেই। তবে এ মডেলে ভিডিও মোড এবার ১০৮০/৬০ পিক্সেল সাপোর্ট করে। আগের চেয়ে বড় এলসিডি স্ক্রিনটিও বেশ সমৃদ্ধ। ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে তো বটেই, স্টিল ফটোগ্রাফাররাও নতুন ডিসপ্লে পছন্দ করবেন।

Nikon_D5300

এ ছাড়া এতে প্রথমবারের মতো বিল্ট-ইন ওয়াইফাই ও জিপিএস যুক্ত করা হয়েছে, যা নাইকনের ডিএসএলআর লাইনআপের জন্য প্রথম। ব্যাটারি লাইফ আগের চেয়ে বাড়ায় একবার চার্জে ৬০০ শট নেওয়া যাবে। স্মুথ পারফর্ম্যান্সের জনয় ভেতরে রয়েছে নাইকনের নিজস্ব এক্সপিড ফোর প্রসেসর।

এর অন্যান্য ফিচারের মধ্যে আছে সেকেন্ডে পাঁচটি ফ্রেমে কন্টিনিউয়াস শুটিং, ৩৯-পয়েন্ট অটোফোকাস সিস্টেম, ২০১৬ পিক্সেল আরজিবি মিটারিং সেন্সর। নতুন প্রসেসর আর সেন্সরের কল্যাণে ছবির কোয়ালিটি প্রত্যাশা মতোই হবে। তবে আইএসও ৩২০০ বা এর বেশিতে ছায়ার রঙ কিছুটা ওভার-এক্সপোজ্‌ড মনে হতে পারে।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাননের রিবেল টি৫আই এর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, ডি৫৩০০ এগিয়েছে আছে উচ্চতর রেজুল্যুশন, বেশি ফোকাস পয়েন্ট ও ১০৮০/৬০ পিক্সেল ভিডিও রজন্য। তবে আকারে কিছুটা ছোট ও সলিড ফিনিশিংয়ের কারণে ধরতে বেশ আরামদায়ক। সব মিলিয়ে বলতে হবে, আপনি যদি ডি৫২০০ এর মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে নতুন এ মডেলে এ মুহূর্তে আপগ্রেড না করলেও চলবে। কিন্তু যদি বেসিক ফটোগ্রাফি থেকে আরও অ্যাডভান্সড লেভেল যেতে চান, তাহলে শুরু করতে পারেন ডি৫৩০০ দিয়ে।

প্রযুক্তি বিষয়ক সাইটগুলোতে ক্যামেরাটির সম্ভাব্য দাম বলা হচ্ছে ৮০০ ডলার।

এক নজরে ভালো

– নতুন সেন্সর

– হাই রেজুল্যশনের আর্টিকুলেটেড ডিসপ্লে

– শতিশালী প্রসেসর, বিল্ট-ইন ওয়াইভাই

এক নজরে খারাপ

– টাচস্ক্রিন নয়

– আপগ্রেডে আরও নতুন সংযোজন আনা যেত

-টেকরাডার ও ডিপিরিভিউ অবলম্বনে শাহরিয়ার হৃদয়

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top