Maintance

সেলফির রাজা অপ্পো এফ৫ বাকি কাজে সাদামাটা

প্রকাশঃ ২:৪৪ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২১ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

এস.এম. তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সেলফির জন্য তৈরি ফোন সিরিজের সর্বশেষ মডেল অপ্পো এফ৫ বাজারে চলে এসেছে।

এ ফোন নিয়ে সবার মাঝে কতটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে তা হয়ত জানা যাবে আরও কয়েক দিন পরে। তবে এ ফোন নিয়ে নজর কাড়তে চেষ্টার কমতি নেই অপ্পোর। সব মাধ্যমেই প্রচারণা চলছে জোরেশােরে।

নতুন ফোনটি কেমন হবে আপনিও হয়ত জানতে চাইছেন। চলুন দেখা যাক, সেলফি ছাড়াও অন্যান্য কাজে ফোনটি সমান পারদর্শী কিনা।

এক নজরে অপ্পো এফ৫

  • ডুয়াল সিম
  • ৬ ইঞ্চি, ১৮:৯ অনুপাতের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, এফএইচডি প্লাস রেজুলেশন (২১৬০x১০৮০)
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি২৩, অক্টাকোর ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ গতির প্রসেসর
  • এআরএম মালি জি-৭১ এমপি২ জিপিউ
  • ৪ অথবা ৬ গিগাবাইট র‌্যাম, ডিডিআর৪ প্রযুক্তি
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ এর ওপর তৈরি কালার ওএস ৩.২ অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৬ মেগাপিক্সেল, এফ/১.৮ অ্যাপার্চারের, ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ব্যাক ক্যামেরা
  • ২০ মেগাপিক্সেল, এফ/২.০ অ্যাপার্চারের সেলফি ক্যামেরা
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন

কালো, সোনালি ও বিশেষ ৬ গিগাবাইট র‌্যাম সংস্করণে লাল – এ তিন রঙে বাজারে এসেছে অপ্পো এফ৫। সোনালি সংস্করণটির সামনের বেজেল সাদা, বাকি দুটির বেজেল কালো।

লম্বাটে ডিসপ্লের ফলে বেজেল খুবই চিকন। তাই কালো রঙটিই বেশি মানিয়েছে।

পেছনের মাঝ বরাবর অপ্পো লোগোর ওপরেই রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। এ ছাড়া তেমন বিশেষত্ব নেই। ক্যামেরাটি ওপরের বাম কোনায়, যার পাশে আছে এলইডি ফ্ল্যাশ।

ফোনের ডান পাশে আছে পাওয়ার বাটন, বামে সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে- যার নিচে আছে ভলিউম বাটন। দুটি পোর্টই নিচে অবস্থিত, যার বামে রয়েছে স্পিকার।

ফোনের সামনের ডিসপ্লেতে ওপরে বেজেলের মাঝেই রয়েছে সকল সেন্সর, ইয়ারপিস ও সেলফি ক্যামেরা।

৬ ইঞ্চি ফ্যাবলেট হবার পরও ফোনটি হাতের সঙ্গে সুন্দর মানিয়ে যায়। পেছনের অ্যালুমিনিয়ামের ফিনিসিং বেশ স্মুথ। তবে ফোনটির ডিজাইনের কোনও অংশে নতুনত্ব বা আলাদা কিছু পাওয়া যায়নি।

ডিসপ্লে

এ বছরের অন্যান্য ফোনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অপ্পোও ১৮:৯ বেজেলবিহীন ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে। ডিসপ্লেটির কালার ব্যালেন্স ও ব্রাইটনেস সাধারণ।

তবে আইপিএস প্যানেল হওয়ায় পাশ থেকে দেখলেও রঙ ঠিকই দেখাবে। একাধিক অ্যাপ এক সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য লম্বাটে অনুপাত বেশ কাজের। সব মিলিয়ে ডিসপ্লেটি কাজ চালানোর মতো, যদিও অসাধারণ নয়।

ক্যামেরা

সেলফির জন্য বিশেষায়িত হলেও, ব্যাক ক্যামেরার ছবিই এখনও সেরা। পেছনের ক্যামেরার অ্যাপার্চার এফ/১.৮, যা অল্প আলোতে বেশ ভালো কাজ করে।

অটোফোকাসও দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। স্বল্প আলোতে নয়েজ কম দেখা গেলেও, নয়েজ কমানোর ফলে ডিটেইলের পরিমাণ কমে যাওয়া দুঃখজনক।

পেছনের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ১০৮০পি ফুল এইচডি, যার ডিটেইল ভাল হলেও স্ট্যাবিলাইজেশন ভাল নয়।

সামনের ক্যামেরার অ্যাপার্চার কম হওয়ায় অন্ধকারে ছবি তোলার সময় নয়েজ বেড়ে যায়। আর সেলফির জন্য বিশেষায়িত ‘এআই’ বা বিউটি মোড কাজ খারাপ না করলেও, এডিট করা ছবির মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।  সহজেই বোঝা যায় ছবির চেহারা আর বাস্তবের মাঝে রয়েছে অনেক তফাত।

তবে ১০০ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ও ২০ মেগাপিক্সেল রেজুলেশন সেলফিতে ডিটেইলস আনতে সাহায্য করেছে।

সব মিলিয়ে, মূল্য অনুসারে পেছনের ক্যামেরা মন্দ নয়। সেলফি সিরিজের হিসেবে সামনের ক্যামেরায় অটোফোকাস, অপ্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন, ফ্ল্যাশ, আরও শক্তিশালী এআই বা ডুয়াল ক্যামেরার মাধ্যমে আরও বাস্তবসম্মত বোকেহ ইফেক্ট আশা করা যায়।

অডিও

সিঙ্গেল স্পিকারের অডিও পারফরমেন্স একদমই সাধারণ মানের। ভলিউম কাজ চালানোর মতো হলেও গান শোনার জন্য নয়। হেডফোনের অডিও চলনসই। যদিও মূল্যের বিবেচনায় এ ফোনের কাছে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি আশা করতে পারেন।

পারফরমেন্স

মিডিয়াটেক হেলিও পি২৩ চিপসেটটি মাঝারি মানের ফোনের জন্য তৈরি। আটটি কোরের প্রতিটিই সাধারণ ক্ষমতার কর্টেক্স এ৫৩ প্রযুক্তির।

প্রসেসিংয়ের পারফরমেন্স কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ ঘরানার। দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে সাধারণ গেমিং, সবকিছুই প্রসেসরটি চালিয়ে নিতে পারবে – এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

জিপিউর দিক থেকে মালি জি৭১এমপি২ খারাপ নয়; কিন্তু জিপিউটি সর্বোচ্চ যে রেজুলেশনে চলতে সক্ষম ডিসপ্লেটিও একই রেজুলেশনের। ফলে মাঝে মাঝে কিছু ল্যাগ দেখা গিয়েছে।

বিশেষ করে হাই ডেফিনিশন গেইম টানা খেলার সময় তাপমাত্রা বাড়লে যদি জিপিউর স্পিড কমে যায়, তাহলে ল্যাগ আরও বাড়বে। তবে চিপসেটটিতে থার্মাল পারফরমেন্স ধরে রাখার জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যার থাকায় সমস্যাটি তেমন প্রকট নাও হতে পারে।

র‌্যামের সংকট ৪ গিগাবাইট বা ৬ গিগাবাইট যে সংস্করণই হোক না কেন, কোনওটিতেই দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে ফোনটির পারফরমেন্স চলনসই। গেমাররা অবশ্য অন্য ডিভাইসে নজর দিলে ভালো করবেন।

ব্যাটারি লাইফ

মিডিয়াটেক চিপসেটগুলো সাধারণত ব্যাটারি বাঁচানোর দিকে নজর দিয়েই তৈরি করা হয়ে থাকে, হেলিও পি২৩ ব্যাতিক্রম নয়।

ছয় ইঞ্চি স্ক্রিনের এ ফোনে ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি কোনওক্রমে ছয় ঘন্টা স্ক্রিন অন টাইম দিতে পারবে, অধিক ব্যবহারে যা কমেও আসতে পারে।

কোনও প্রকার ফাস্ট চার্জিং সুবিধাও ফোনটিতে নেই।

পরিশেষ

সেলফি যদি ফোনের একমাত্র প্রয়োজন না হয়ে থাকে, তাহলে বাকি প্রায় সবদিক থেকেই ফোনটি খুবই সাদামাটা। এ মূল্যে আরও বিশেষায়িত ফোন রয়েছে, যার কিছু গেমিং, কিছু ব্যাক ক্যামেরা, কিছু ব্যাটারি লাইফ – এসব দিকে খুবই পারদর্শী।

সেদিক থেকে সেলফির জন্য তৈরি ডিভাইসটি সেলফিতেও অসাধারণ চমক দিতে পারেনি। তবে মাথায় রাখতে হবে এর চেয়ে ভাল সেলফি ক্যামেরা এ মূল্যের আর কোনও ডিভাইসে নেই।

মূল্য

অপ্পো এফ৫ ৩২ গিগাবাইট সংস্করণটি ২৪,৯৯০ টাকায় ও ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি ৩২,৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • সেলফি ক্যামেরা
  • ব্যাক ক্যামেরা
  • বিল্ড কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • পারফরমেন্স সাধারণ
  • ব্যাটারি লাইফ আরও ভালো হতে পারত
  • ডিসপ্লে আরও ঝকঝকে হওয়া উচিৎ ছিল

Comments are closed.

Related posts/