Maintance

এলজি কিউ৬ : দামের মতো পারফরমেন্সেও মাঝারি

প্রকাশঃ ২:৫৬ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১১ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ২২, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বছরের প্রথম ১৮:৯ ডিসপ্লের ফোন এলজি জি৬ এর মাঝারি মূল্যের সংস্করণ কিউ৬।

মডেল দুটি দেখতে অনেকটা একই হলেও গঠনগত দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে। দামেও রয়েছে ফারাক। এখন যাক পুরনোটির নামের সঙ্গে মিল থাকলেও কাজেরও মিল রয়েছে কিনা।

এক  নজরে এলজি কিউ৬

  • অ্যালুমিনিয়াম বডি
  • ডুয়াল সিম
  • ৫.৫ ইঞ্চি, ২১৬০ x ১০৮০পি আইপিএস ডিসপ্লে
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩৫ অক্টাকোর সিপিউ
  • অ্যাড্রিনো ৫০৫ জিপিউ
  • ৩ গিগাবাইট ডিডিআর৪ র‌্যাম
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৩ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার, ফুল এইচডি ভিডিও ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাক ক্যামেরা
  • ৫ মেগাপিক্সেল f/2.2 অ্যাপার্চার, ফুল এইচডি ভিডিও ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ওয়াইফাই, ব্ল‌ুটুথ, জিপিএস
  • এফ এম রেডিও, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • ৩০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন

যারা এলজি জি৬ দেখেছেন, তাদের কাছে সামনে থেকে এলজি কিউ৬কে তার ছোট সংস্করণ মনে হবে।

বাটনহীন, বৃত্তকার কোনার ডিসপ্লের চারপাশে তেমন বেজেলও দেখা যাবে না। তবে পেছন থেকে দেখলে বোঝা যাবে এলজি জি৬ নয়, অন্যান্য বাজেট ফোনের সঙ্গেই এটির বেশি মিল রয়েছে।

তার মানে এলজি কিউ৬ এর ডিজাইন খারাপ নয়, বাজেটের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর ডিজাইনের ডিভাইসের একটি বলা যেতে পারে। কালো, সাদা, প্লাটিনাম রূপালী ও সোনালী – চার রঙয়ের অ্যালুমিনিয়াম বডির ফোনটি হাতে সুন্দর মানিয়ে যায়। তবে পেছনে অবস্থিত স্পিকার সবসময়ই একটি সমস্যা।

ফোনটির সবগুলো জ্যাকের দেখা মিলবে এর তলদেশে। ইউএসবি সি-এর বদলে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও তার পাশে অবস্থিত হেডফোন জ্যাক ডিভাইসটি যে বাজেট ডিজাইনের তা জানান দিয়ে দেবে। ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার বাটন, ও বামে ভলিউম কি। সিম কার্ড স্লটটিও বাম পাশে দেয়া হয়েছে।

এতে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরের অনুপস্থিতি বর্তমান সময়ে কিছুটা দৃষ্টিকটু। তবে চমৎকার ফিনিশিং সবার কাছেই ভাল লাগবে। পেছনের প্যানেলটিও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হলে ফোনটি হয়ত আরও সুন্দর হতে পারত।

ডিসপ্লে

বাজেট ফোনের মাঝে এলজি কিউ৬-এর ডিসপ্লে সবচাইতে ভালোগুলোর একটি। সাড়ে ৫ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের রেজুলেশন ২১৬০ x ১০৮০, যা বাজেট ডিভাইসের মাঝে প্রথম। এর মানে অবশ্য ডিসপ্লেটি সেরা, তা নয়।

এরূপ ১৮:৯ অনুপাতের ডিসপ্লে চওড়ায় কম হওয়ার কারণে ১৬:৯ ডিসপ্লের চাইতে এটি কিছুটা সরু, ১৬:৯ ভিডিও দেখার সময় যা কিছুটা দৃষ্টিকটু। যারা মূলত বই পড়া, ওয়েব ব্রাউজ করা আর চ্যাট করার কাজেই ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য লম্বাটে ডিসপ্লে বেশি কাজের।

ডিসপ্লেটির কালার ব্যালেন্স অল্প একটু স্যাচুরেটেড হওয়ায় রঙ একটু বেশি উজ্জ্বল মনে হবে। উজ্জলতারও কমতি নেই, দিনের আলোতে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। সব মিলিয়ে, এই মূল্যে এর চেয়ে ভাল ডিসপ্লের ফোন খুব কমই রয়েছে।

পারফরমেন্স

ঠিক কোথায় খরচ কমিয়ে ফোনটিকে ‘বাজেট’ তালিকায় আনা হয়েছে তা বলে দিবে পারফরমেন্স পরীক্ষা। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩৫ প্রসেসর ও অ্যাড্রিনো ৫০৮ জিপিউ ৩ গিগাবাইট র‌্যামকে ঠিকমত ব্যবহার করার মত শক্তিশালী নয়।

Symphony 2018

এ কারণে ব্যবহারের সময় ল্যাগ রয়েছেই। ডিসপ্লের ২কে রেজুলেশনের ফলে পারফরমেন্সের ঘাটতি হয়েছে আরও প্রকট। মাল্টিটাস্কিং ছাড়া আর কোনও দিক থেকেই এলজি কিউ৬ এগিয়ে নেই।

গেমিংয়ের জন ফোনটি উপযোগী নয়। শুধু হালকা বা মাঝারি গ্রাফিক্সের গেইম ছাড়া অন্যান্য গেইম খেলার সময় ল্যাগ দেখা গিয়েছে।

ক্যামেরা

বাজেট হিসেবে ফোনটির ক্যামেরা মন্দ নয়। ব্যাক ক্যামেরার ছবিতে ‍ডিটেইল যথেষ্ট। তবে ঘাটতি রয়েছে ডাইনামিক রেঞ্জে।

এইচডিআর মোড ব্যবহারে কাটিয়ে ওঠা গেলেও তা খুঁজে বের করাই চ্যালেঞ্জ। ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস না থাকায় ফোকাসিং বেশ মন্থর। রাতে f/2.2 অ্যাপাচার লেন্সের ফলে নয়েজ মাত্রাতিরিক্ত বেশি।

ইলেক্ট্রনিক ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন ভাল কাজ করে, ১০৮০পি ভিডিওর কালার ব্যালেন্স ও ডিটেইল মানানসই। ফ্রন্ট ক্যামেরাও খারাপ নয়। যদিও সেলফি বিশারদ নয় এলজি কিউ৬।

ব্যাটারি লাইফ

স্বল্প শক্তির প্রসেসরের সঙ্গে ৩০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি মানানসই। অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘন্টা স্ক্রিন অন টাইম পাওয়া যাবে, চোখ বুঁজে পার করা যাবে একটি দিন।

ব্যাটারি ফুরালে অবশ্য কষ্ট শুরু। কেননা সঙ্গে থাকা ৫ ভোল্ট ১ দশমিক ৫ অ্যাম্প চার্জারের মাধ্যমে ফোনটি চার্জ হতে বেশ কয়েক ঘন্টা লেগে যাবে।

অডিও

হেডফোনে সাউন্ডের মান ভালো হলেও ভলিউমে রয়েছে বিশাল ঘাটতি। আলাদা হেডফোন অ্যাম্প ব্যবহার ছাড়া গতি নেই। ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ফোনটির অডিও খারাপ নয়। পেছনে অবস্থিত একমাত্র স্পিকারের ভলিউমে রয়েছে ঘাটতি, টেবিলের ওপর ফোন রাখলে শব্দ ঢাকা পড়ে যাওয়াও সমস্যাজনক।

পরিশেষ

বাজেটের মাঝে সুন্দর ডিসপ্লে ও ডিজাইনের ফোন হিসেবে এলজি কিউ৬ বেশ ভালো ডিভাইস। বাজে পারফরমেন্স, ব্যাটারি লাইফে ঘাটতি, মন্থরগতির চার্জিং ও ক্যামেরার সমস্যা ফোনটিকে ভালো ডিভাইসের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

মূল্য : ২৪ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ডিসপ্লে
  • ডিজাইন
  • অডিও

এক নজরে খারাপ

  • ব্যাটারি লাইফ
  • ক্যামেরা
  • পারফরমেন্স

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর ডটকমের কনটেন্ট কাউন্সিলর এস. এম. তাহমিদ

*

*

Related posts/