Maintance

সারফেস বুক২ : অনেক উচ্চাশার পরও নতুন প্রজন্মের অনন্য ল্যাপটপ

প্রকাশঃ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৩১ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৯, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সফটওয়্যারের পর সারফেস বুকের মাধ্যমে ডিভাইস তৈরিতেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে মাইক্রোসফট। শুরু থেকেই ল্যাপটপটি প্রকৌশলগত দিক থেকে সবার মন জয় করেছে। এরপরও ডিভাইসটির ব্যতিক্রমী ডিজাইনে কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে তাদের কাছে, যারা প্রযুক্তি বিষয়ে খুবই খুঁতখুঁতে।

এবার সেগুলো শুধরানোর উদ্যোগ থেকেই মাইক্রোসফট মূলত নতুন সংস্করণ এনেছে।

চলুন দেখা যাক কি থাকছে নতুন সারফেস বুকে।

এক নজরে সারফেস বুক ২

  • ৭ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই৭ প্রসেসর
  • ৮ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ২৫৬ গিগাবাইট এনভিএমই এসএসডি
  • এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০ জিপিউ, ২ গিগাবাইট জিডিডিআর৫ ভির‌্যাম
  • ১৩.৫ ইঞ্চি পিক্সেলসেন্স ডিসপ্লে (৩২০০ x ২৪০০ রেজুলেশন)
  • ডুয়ালব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্ল‌ুটুথ ৫
  • ডিসপ্লেটি ট্যাব হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে
  • ব্যাকলাইট সমৃদ্ধ কিবোর্ড, টাচপ্যাড
  • ১২ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ
  • ইউএসবি পোর্ট, সারফেস পোর্ট, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • সারফেস ডায়াল ও পেন ব্যবহারের সুবিধা
  • ওয়েবক্যাম ও উইন্ডোজ হ্যালো ব্যবহারের জন্য ইনফ্রারেড ক্যামেরা

ডিজাইন

ল্যাপটপ-ট্যাবলেট হাইব্রিড ডিভাইসটির বডি পুরোটাই অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি। আগের মডেলের চাইতে আরও শক্তিশালী হিঞ্জ ব্যবহারের ফলে ডিসপ্লের নড়াচড়া একদমই নেই। ডিসপ্লেটি কিবোর্ডের থেকে আলাদা করার ব্যবস্থাও আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে।

অন্যান্য দিক থেকে অবশ্য আগের মডেলের চেয়ে এবার তেমন পার্থক্য নেই। নতুন মডেলে পোর্টের সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। ইউএসবি ৩.১ পোর্টের পাশাপাশি মিনি ডিসপ্লে পোর্টের বদলে টাইপ সি পোর্ট যুক্ত করা হয়েছে। যদিও তা থান্ডারবোল্ট ৩ সমর্থিত নয়।

অ্যালুমিনিয়াম ডিজাইন, ফুলক্রাম হিঞ্জ ও বিশাল টাচস্ক্রিন সারফেস বুককে করেছে অন্য সব কম্পিউটারের চেয়ে একেবারে আলাদা।

ডিসপ্লে

ফো‌রকে আর টু-কে, দুটি রেজুলেশনের মাঝে থাকা আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লেটি এক কথায় অসাধারণ। ঔজ্জ্বল্য, কালার ব্যালেন্স, কন্ট্রাস্ট, কোনও কিছুরই কমতি নেই।

ডিসপ্লে ও টাচ প্যানেল যতদূর সম্ভব একত্রিত করার ফলে ট্যাবের অংশটি খুবই পাতলা, যার ফলে হাতে বহন করতে বা পেন দিয়ে আঁকা আঁকি করা যাবে আরও সাবলীলভাবে।

পারফরমেন্স

সর্বশেষ ইন্টেল কোর সিরিজে ল্যাপটপ সংস্করণেও আনা হয়েছে ৪টি কোর। বাড়তি দুটি কোর কম্পিউটারটির পারফরমেন্স অসাধারণ পর্যায় নিয়ে গেছে।

ভিডিও এডিটিং, ছবি সম্পাদনা থেকে শুরু করে প্রোগ্রামিং বা ভার্চুয়াল মেশিন চালানো, সব কিছুর জন্যই প্রসেসরটি যথেষ্ট।

তবে প্রসেসর ভাল হলেও, র‌্যামের স্বল্পতা এটির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। গেইম খেলা ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম যথেষ্ট হলেও, ভিডিও এডিটিং ও প্রফেশনাল ফটো এডিটিং এর জন্য যথেষ্ট নয়।

আর সারফেস বুকে এর চেয়ে বেশি ব্যবহার করা যাবে না। তাই ডিভাইসটি যখন গণমাধ্যমের পেশাজীবিদের জন্য তৈরি সে হিসেবে র‌্যামের স্বল্পতা আশ্চর্যকর।

অন্যদিকে সারফেসু বকে থাকা এনভিএমই এসএসডি অসাধারণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। ল্যাগ, ফাইল কপিতে দেরি বা ভিডিও এডিটিংয়ে বাফার খালি হয়ে যাওয়া-এমন কিছু ঘটবে না।

গেমিং

সারফেস বুকের উচ্চ ক্ষমতার সংস্করণে থাকছে জিটিএক্স ১০৫০ জিপিউ। মাঝারি ক্ষমতার গ্রাফিক্স চিপটি এ সময়ের সকল গেইম সুন্দরভাবে চালাতে সক্ষম।

যদিও ডিভাইসটি গেমিংয়ের জন্য একেবারেই তৈরি করা হয়নি। তবে খারাপ দিক হচ্ছে জিপিউ শুধু কিবোর্ড ডকে লাগানো অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে। আর টানা গেইম খেললে ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাটারি লাইফ

প্রথম সারফেস বুকের সবচাইতে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল ব্যাটারি লাইফ। এবার ডিসপ্লে ও কিবোর্ড ডক দুটির মাঝেই আরও বড় ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে।

একই শক্তি সাশ্রয়ী হার্ডওয়্যারের ফলে ব্যাটারি লাইফ সহজেই ১২ ঘন্টা ছাড়াবে। জিপিউর ওপর চাপ পড়লে তা অবশ্য কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে অন্তত একদিন ডিভাইসটি ব্যবহার করা যাবে চার্জার ছাড়াই।

অন্যান্য

এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হলে কিনতে হবে সারফেস পেন ও সারফেস ডায়াল। বিশাল ক্যানভাসে সাবলীলভাবে আঁকা ও লেখার জন্য সারফেস পেনের জুরি নেই।

আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন রঙের শেড বদলানো বা ভিডিও স্ক্রাবিংয়ের জন্য সারফেস ডায়াল অনন্য।

পরিশেষ

সারফেস বুক ২ আগের মডেলের প্রায় সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে। পারফরমেন্স, ডিসপ্লে, তৈরির মান, ডিজাইন – সব দিক থেকেই ডিভাইসটি অনন্য।

ঘাটতির বিষয়ে বলতে হবে- থান্ডারবোল্ট ৩ না থাকায় ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী জিপিউ এবং আরও দ্রুতগামী এসএসডি সংযুক্ত করার উপায় নেই। ফলে চড়া মূল্যে কেনা ডিভাইসটির ব্যবহার যোগ্যতা খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।

মূল্য : অফিসিয়াল মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস.এম. তাহমিদ

*

*

Related posts/