Maintance

এমআই ৫এক্সে পোর্ট্রেট মোড তবুও হতাশা ক্যামেরায়

প্রকাশঃ ১:৫২ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫১ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৭

এস.এম. তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আইফোন ৭ প্লাস থেকে শুরু হওয়া পোর্ট্রেট মোড ও টেলিফটো মোডের ক্রেজ এখন তুঙ্গে। মাঝারি বাজেটের ফোনগুলোতে এখনও এটি অপ্রচলিত ফিচার। এ বিষয় মাথায় রেখে অপ্রত্যাশিত কাজটি করেছে শাওমি এমআই৫এক্স।

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফোনে নতুন ফিচার যুক্ত করায় জুড়ি নেই চীনা অ্যাপল খ্যাত শাওমির। এ কারণে দিন দিন জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। এ ব্র্যান্ডের নতুন ফোন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি আগ্রহও রয়েছে বেশ।

ডুয়াল ক্যামেরা ছাড়া আর কি কি ফিচার রয়েছে নতুন এ মডেলে সেটা দেখে নেওয়া যাক্  রিভিউতে।

এক নজরে শাওমি এমআই৫এক্স

  • ডুয়াল সিম
  • ৫.৫ ইঞ্চি এলপিটিএস আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, ফুল এইচডি (১৯২০x১০৮০) রেজুলেশন
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫, ২ গিগাহার্জ কর্টেক্স এ৫৩ অক্টাকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ৪ জিবি র‌্যাম
  • ৩২ অথবা ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, মেমরি কার্ড স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ এর ওপর তৈরি এমআইইউআই ৮ অপারেটিং সিস্টেম, দ্রুত এমআইইউআই ৯-এ আপগ্রেড দেওয়া হবে
  • দুটি ১২মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, মূল ক্যামেরা f/2.2 ও 2x টেলিফটো ক্যামেরা f/2.6 অ্যাপারচার, ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশ
  • ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, f/2.2 অ্যাপারচার
  • ২১৬০পি ৩০এফপিএস ভিডিও, ৭২০পি ১২০এফপিএস ভিডিও, সামনের ক্যামেরায় ১০৮০পি ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণের সুবিধা
  • ডুয়ালব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.২, জিপিএস
  • আইআর ব্লাস্টার, এফএম রেডিও
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • পেছনে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০৮০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি
  • ফাস্ট চার্জিং

ডিজাইন

এমআই৫এক্স এমআই সিরিজের ফোন হলেও ডিজাইনের দিক থেকে রেডমি সিরিজের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশেষত সামনের গ্লাস প্যানেল ও ডিসপ্লের নিচে অবস্থিত ক্যাপাসিটিভ বাটন দেখে পুরোটাই রেডমি ফোন বলে মনে হবে।

পেছনের অংশটিও কিছুটা রেডমি সিরিজের মতই, বিশেষত মাঝে অবস্থিত গোল ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।

ডুয়াল ক্যামেরা বাম্পটির সঙ্গে  ওয়ানপ্লাস ৫-এর বেশ মিল রয়েছে। কিনারা দিয়ে দেওয়া কালো অ্যান্টেনা লাইন গুলােও যেন একই রকম।

এ ছাড়া ডিজাইনে তেমন নতুনত্ব না থাকলেও অ্যালুমিনিয়াম বডি ও সামনে গরিলা গ্লাসে মোড়ানো ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি খুবই উন্নতমানের। এটির ম্যাট ব্ল্যাক ফিনিশ দেখতে সুন্দর হলেও তাতে সহজেই আঙুলের ছাপ ফুটে ওঠে।

ফোনটির ডান পাশে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার, বামে সিম ও মেমরি কার্ড হাইব্রিড ট্রে, ওপরে আইআর ব্লাস্টার ও মাইক্রো ফোন এবং নিচে হেডফোন জ্যাক, মাইক্রোফোন, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও স্পিকার রয়েছে।

পেছনে ক্যামেরা বাম্প, ফ্ল্যাশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ছাড়া তেমন কিছু নেই। সামনে রয়েছে ৫.১৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ফ্রন্ট ক্যামেরা , ইয়ারপিস ও ক্যাপাসিটিভ বাটনগুলো।

ফোনটি হাতের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। বিশেষত ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে ব্যবহারের ফলে এটি বাজারের সকল ফ্ল্যাগশিপের চাইতে বেশ ছোটখাট। ডিজাইনে তেমন বিশেষত্ব না থাকলেও দেখতে এবং ব্যবহারের দিক থেকে ভালো।

ডিসপ্লে

ফুল এইচডি আইপিএস প্যানেলের ফোনে বাজার সয়লাব। এক্ষেত্রেও ডিসপ্লেটি একেবারে সাধারণ মানের। কালার ডেপথ, কন্ট্রাস্ট, কালার গ্যামুট সবকিছুই মাঝারি মানের।

স্বল্প উজ্জ্বলতায় ব্যবহারের সময় কালার কিছুটা সাদাটে ও প্রাণহীণ মনে হতেও পারে। তবে ডিসপ্লেটির ব্রাইটনেস ও ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণে কোনও ত্রুটি রাখেনি কোম্পানিটি- একেবারে ১ নিট পর্যন্ত কমানোর ব্যবস্থা থাকায় যারা রাতে ফোন ব্যবহার করেন তাদের খুবই সুবিধা হবে।

ব্রাইটনেস ৪০০ নিট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। ফলে রোদে ব্যবহারেও সমস্যা নেই।

সব মিলিয়ে ফোনটির ডিসপ্লে মাঝারি মানের হলেও খারাপ নয়।

পারফরমেন্স

রেডমি ৪এক্স, নোট ৪এক্স, ৪ প্রাইমের পর এবার এমআই৫এক্সেও ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ চিপসেট। মাঝারি গতির প্রসেসরটিতে রয়েছে কর্টেক্স এ৫৩ সিরিজের আট কোর, যা ব্যাটারি বাঁচিয়ে দৈনন্দিন কাজ করার লক্ষ্যেই তৈরি।

ওয়েব ব্রাউজিং, হালকা থেকে মাঝারি মানের কাজের জন্য প্রসেসরটি খুবই দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও নেই।

ভারি ফটো এডিট, ভিডিও এডিট বা অনেকগুলো কাজ এক সঙ্গে করার সময় অবশ্য সমস্যা দেখা যাবে।

অ্যাড্রিনো ৫০৪ জিপিউটি প্রায় সব এইচডি গেইম হাই গ্রাফিক্সে চালাতে সক্ষম হলেও কিছু গেইমে হালকা ধাক্কা খেতে পারে। মাঝারি মানের চিপসেটের থেকে এর চাইতে বেশি পারফরমেন্স আশা করা ভুল।

র‌্যামের ঘাটতি আজকাল কোনো মাঝারি মানের ফোনে নেই। এমআই৫এক্সেও তা ব্যতিক্রম নয়। ৪ জিবি র‌্যাম আজও ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের। তাই মাল্টিটাস্কিং নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।

র‌্যাম ফুরিয়ে অ্যাপ ক্লোজ হয়ে না গেলেও, প্রসেসরটি একই সঙ্গে প্রচুর অ্যাপ (১০+) চালানোর জন্য তৈরি নয়।

সব মিলিয়ে ফোনটির মূল্য অনুযায়ী পারফরমেন্স খারাপ নয়। কেননা এমআই৫-এর স্ন্যাপড্রাগন ৮২০-এর অর্ধেক।

ক্যামেরা

ডুয়াল ক্যামেরা ও পোর্ট্রেট মোডের দিকে জোর দিয়েই ফোনটি বাজারে এনেছে শাওমি। একদম শুরু থেকেই বলে দেওয়া ভালো, ক্যামেরা দুটির পারফরমেন্স বেশ হতাশাজনক।

মূলত ফোনে ডুয়াল ক্যামেরা ও পোর্ট্রেট মোড আছে বলার জন্যই সেন্সর দুটি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে জোরালো কোনো কারণ দেখা যায় না।

ক্যামেরা অ্যাপ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি প্রকট হয়ে ওঠে। অপটিক্যাল স্টেবিলাইজেশন দেয়া হয়নি, নেই ইলেক্ট্রনিক স্টেবিলাইজেশনও। ফলে খুব স্থির সাবজেক্টের ছবি ছাড়া প্রায় সব ছবিতেই ব্লার দেখা গেছে।

ভিডিওর ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বাজে ভাবে ফুটে উঠেছে।  ফোরকে ভিডিও করার সুবিধা থাকলেও ঝাঁকির ফলে সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ক্যামেরা সেন্সর দুটির একটি মূল ক্যামেরা ও একটি ২x অপটিক্যাল জুমসমৃদ্ধ। বরাবরের মতো দ্বিতীয় সেন্সরের মান মূলটির চেয়ে অনেকটাই কম। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে, দুটি সেন্সরের একটিতেও দূরবর্তী জিনিসের ডিটেইল একেবারেই নেই। কাছের সাবজেক্ট ছাড়া ছবি তুলে মজা পাওয়া যাবে না।

যেহেতু ২x জুম লেন্সটি দেয়াই হয়েছে দূরবর্তী জিনিসের ছবি তোলার জন্য, তাই ডিটেইল না থাকাটা অস্বাভাবিক। ডাইনামিক রেইঞ্জের অবস্থাও ভালো নয়, বিশেষত মূল সেন্সরের ছবি বেশ অন্ধকার দেখা গেছে।

তবে যারা বোকেহ সমৃদ্ধ কাছের সাবজেক্টের ছবি, অর্থাৎ মূলত পোর্ট্রেট তোলার জন্য ফোনটি নিতে চান তাদের হতাশ করবে না এমআই৫এক্স। এ মূল্যে এর চাইতে ভালো পোর্ট্রেট আর কোনো ফোনে পাওয়া যাবে না।

সাউন্ড কোয়ালিটি

হাই ফাই সাউন্ডের লোগো সমৃদ্ধ ফোনটি থেকে ঠিক যে মানের গান আশা করা যায়, ঠিক সেই মানের সাউন্ড দিতে সক্ষম। প্রচুর ডিটেইল সমৃদ্ধ সাউন্ড, বেস ও ট্রেবলের চমৎকার ব্যালেন্সের পাশাপাশি ব্লুটুথ হেডফোনেও ভালো মানের সাউন্ডের জন্য অ্যাপট এক্স দেওয়া রয়েছে।

সাউন্ডের ক্ষেত্রে ফোনটির একটিই দুর্বলতা এতে কোনো হেডফোন অ্যাম্প দেওয়া হয়নি। তাই প্রফেশনাল হেডফোন চালাতে পুরোপুরি সক্ষম নয় এটি।

ব্যাটারি লাইফ

স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসরের সঙ্গে ৩০৮০ এমএএইচ ব্যাটারি নতুন নয়। অর্থাৎ আমরা ফোনটি থেকে রেডমি ৪এক্সের মতো ব্যাটারি লাইফ আশা করতে পারি।

সাত থেকে আট ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম ও ২০ ঘণ্টা স্ট্যান্ডবাই ভারি ব্যবহারে ও হালকা থেকে মাঝারি ব্যবহারে দুই দিন পর্যন্ত অনায়াসে ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

পরিশেষ

যাদের ইতোমধ্যে এমআই৫, রেডমি নোট ৪এক্স বা মটো যেড প্লে ফোনটি রয়েছে তাদের এটি কেনার কোনো মানে নেই।

যারা গান শোনা ও পোর্ট্রেট তোলার জন্য মাঝারি মূল্যের ফোন খুঁজছেন, তারা এটি চোখ বুঁজে কিনতে পারেন। তবে ফোনটি এ বাজেটের সেরা, এমন বলা যাবে না। যেমনটি এমআই৫-এর ক্ষেত্রে বলা গিয়েছিল।

মূল্য

ফোনটি বাজারে আগস্টের শেষ থেকে পাওয়া যাবে। দেশে ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি দাম হতে পারে ফোনটির।

এক নজরে ভালো

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • পোর্ট্রেট মোড
  • সাউন্ড কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • রাতের ছবি
  • ডিজাইনে নতুনত্ব নেই
  • ভিডিওতে প্রচুর ঝাঁকুনি রয়েছে

রিভিউটি করেছেন টেক শহর ডটকম কনটেন্ট কাউন্সিলর এস.এম. তাহমিদ

*

*

Related posts/