Maintance

ওয়ানপ্লাস ৫ : দুর্দান্ত ফিচারে বড় ব্র্যান্ডের বিকল্প ফ্ল্যাগশিপ

প্রকাশঃ ১০:২২ পূর্বাহ্ন, আগস্ট ২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:০৩ অপরাহ্ন, আগস্ট ২, ২০১৭

এস.এম. তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুরু থেকেই ‘ওয়ানপ্লাস’ ফ্যানদের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট। স্মার্টফোনের বাজারে অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের ছড়াছড়ির মধ্যেও এটি বেশ জায়গা করে নিয়েছে। সেটা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এনেছে নতুন মডেল ওয়ানপ্লাস ৫।

ওয়ানপ্লাস থ্রি-টি’র প্রায় সকল ফিচার ফ্যানদের মন জয় করলেও ক্যামেরা নিয়ে বেশ সমালোচনা হবার পর ‘ওয়ানপ্লাস ৫’-এর ক্ষেত্রে সেদিকে বেশ নজর দিয়েছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিটি ।

চলুন ফোনটির বিস্তারিত দেখা যাক।

এক নজরে ওয়ানপ্লাস ৫

    • ডুয়াল সিম
    • ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি (১৯২০ x ১০৮০) অপটিক অ্যামোলেড ডিসপ্লে
    • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫, ৪টি ১.৯ গিগাহার্জ ও ৪টি ২.৪ গিগাহার্জ গতির ক্রাইয়ো ২৮০ কোর মিলিয়ে অক্টাকোর প্রসেসর
    • অ্যাড্রিনো ৫৪০ জিপিউ
    • ৬ অথবা ৮ জিবি র‌্যাম
    • ৬৪ অথবা ১২৮ জিবি স্টোরেজ (মেমরি কার্ড স্লট নেই)
    • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নুগাট অপারেটিং সিস্টেম
    • ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা : মূল ১৬ মেগাপিক্সেল, f/1.7 অ্যাপারচার ও ২০ মেগাপিক্সেল f/2.6 অ্যাপারচার 2x টেলিফটো
    • ১৬ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচার ফ্রন্ট ক্যামেরা
    • ফোর-কে (২১৬০পি) ভিডিও ধারণক্ষমতা
    • ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.০, এনএফসি, জিপিএস
    • ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক, ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট
    • সামনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
    • ৩৩০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ড্যাশ চার্জ সুবিধা

ডিজাইন
ফোনটির ডিজাইন শুরু থেকেই কিছুটা সমালোচিত। অনেকের মতে, পেছনের ডুয়াল ক্যামেরা ও আকৃতি অনেকটাই আইফোন ৭+ এর আদল। তবে সামনাসামনি শুধু ক্যামেরা বাম্প ও ফ্ল্যাশ ছাড়া বাকি অংশের সঙ্গে আইফোনের সাদৃশ্য তেমন প্রকট নয়।

অ্যান্টেনা ব্যান্ড দুটি বডির মাঝ দিয়ে না রেখে কিনারা দিয়ে লাইন করে দেওয়ার ফলে ওয়ানপ্লাস থ্রিটি’র চাইতে পেছনের অংশটি আরও দৃষ্টিনন্দন। ছবিতে মূল যে বিবর্তনটি চোখে পড়বে না তা হচ্ছে, ওয়ানপ্লাস ৩ সিরিজের পিচ্ছিল ফিনিশ এবার বাদ দেয়া হয়েছে।

স্লেট ও মিডনাইট ব্ল্যাক, যেই ফিনিশই হোক না কেন- হাত থেকে পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

পেছনের মাঝে ওয়ানপ্লাস লোগো ও ওপরে বাম কোনায় ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও ফ্ল্যাশ ছাড়া আর কিছু দেয়া হয়নি। তেমনি খালি রাখা হয়েছে ফোনটির ওপরের অংশটিও।

ডানে সিম ট্রে ও পাওয়ার বাটন এবং বামে ভলিউম রকার ও সাইলেন্টমোড সুইচ। মাইক্রোফোন, হেডফোন জ্যাক, ইউএসবি সি পোর্ট ও স্পিকার রয়েছে ফোনটির উল্টো দিকে। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে, সামনে থেকে দেখলে ফোনটি পুরোই ওয়ানপ্লাস থ্রি বা থ্রিটি’র মত মনে হবে।

একই সাইজের ডিসপ্লে, ওপরের ইয়ারপিসের পাশে সেলফি ক্যামেরা ও স্ক্রিনের নিচে টাচ বাটনের মাঝে লম্বাটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর-সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে যা ডিজাইন পরিবর্তন তা পেছনেই, সামনে নয়। থ্রিটি’র ডিজাইন ছিল সে সময় সর্বজন প্রশংসিত।

ফোনটির আকৃতি হাতের সঙ্গে ভালভাবে মানিয়ে যায়। ওজনও খুব হালকা বা ভারিও নয়। সব মিলিয়ে অ্যালুমিনিয়াম ও গ্লাসের তৈরি ফোনটি ডিজাইন ও বিল্ডে পাচ্ছে প্রায় ফুল মার্কস।

পারফরমেন্স
স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর, ৬ বা ৮ জিবি র‌্যামের সঙ্গে (তুলনামূলক) কম রেজুলেশনের ডিসপ্লে ফোনটিকে করেছে এ সময়ের সবচাইতে দ্রুতগামী ডিভাইস। কোনও অবস্থাতেই ল্যাগ হবার আশঙ্কা নেই।

একই ক্রাইয়োকোর সমৃদ্ধ স্ন্যাপড্রাগন ৮২১ আজও স্লো হয়নি, সেখানে তার চাইতে আরও চারটি বেশি কোর সমৃদ্ধ ফোন ধীরগতির হওয়ার প্রশ্নই আসে না। গিকবেঞ্চ স্কোর দেখে এর সম্পর্কে খানিক ধারণা পাওয়া যাবে।

অ্যাড্রিনো ৫৪০ জিপিউটি অনায়াসে ১৪৪০পি ২কে ডিসপ্লে চালিয়ে নিতে পারে। সেখানে ১০৮০পিক্সেল ডিসপ্লেতে এটি ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছে। কোনো গেইম-ই আগামী দুই বছরেও ল্যাগ করার সম্ভাবনা নেই, সহজে চলবে ফোরকে ভিডিও।

মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য যেখানে আজও ৪ জিবি র‌্যাম যথেষ্ট, সেখানে ফোনটিতে রয়েছে ৬ বা ৮ জিবি র‌্যাম। বলা যেতে পারে যতদিন এ পরিমাণ র‌্যাম ফোনে প্রয়োজন হবে, ততদিনে ফোনটির অন্যান্য ফিচার বাতিলের তালিকায় স্থান পাবে। 

সব মিলিয়ে, ওয়ানপ্লাস ৫ ফোনটিতে পারফরমেন্সের ঘাটতি নেই।

ডিসপ্লে
১০৮০পিক্সেল রেজুলেশনের অ্যামোলেড ডিসপ্লে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে ওয়ানপ্লাস এবার ডিসিআই-৩ প্রফেশনাল কালার মোড যুক্ত করায় আরও নির্ভুল রঙ দেখা যাবে।

ব্রাইটনেসে প্যানেলটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮ এর চাইতে পিছিয়ে রয়েছে। অবশ্য তা দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলার মত নয়। উপরন্তু, অপেক্ষাকৃত কম রেজুলেশনের ফলে ব্যাটারির ওপর চাপ ১৪৪০পিক্সেল রেজুলেশনের কম পড়বে।

অ্যামোলেড ডিসপ্লের স্বাভাবিক হাই কন্ট্রাস্ট আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ওয়ানপ্লাস ৫এ রিডার মোড দেয়া হয়েছে।

সাদাকালো এ মোডে পড়ার সুবিধা ছাড়াও বোনাস হিসেবে রয়েছে ব্যাটারি সেভিং। তবে সেটি সেট আপ করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ।

সব মিলিয়ে ফোনটির ডিসপ্লে চলনসই হলেও অসাধারণ নয়।

সাউন্ড কোয়ালিটি
ডিভাইসটিতে সাউন্ড কোয়ালিটি কিছুটা মিশ্র প্রকৃতির বলা যেতে পারে। স্পিকারে সাউন্ড যথেষ্ট ভালো, ভলিউমের মাত্রাও ভিডিও দেখা বা স্পিকারফোনের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু নীচের দিকে দেওয়া একটি স্পিকার আজকের ফ্ল্যাগশিপে ঠিক মানানসই নয়।

ফোনটির স্পেসিফিকেশনে হাই-ডেফিনিশন অডিও লেখা রয়েছে। তবে বক্সে বরাবরের মতই হেডফোন না থাকায় সেটি সরাসরি পরীক্ষা করার কোনও উপায় নেই।

বেশ কিছু হেডফোন পরীক্ষা করে শেষপর্যন্ত দেখা গেছে ১৬ওম ইম্পিডেন্সের হেডফোন ছাড়া এতে আর কোনও হেডফোন ভালো সাউন্ড দিতে সক্ষম হয়নি। এ বিষয়ে ওয়ানপ্লাস পরিষ্কার করে কিছু বলেনি।  

ফোনটিতে সঠিক মানের হেডফোন ব্যবহার করলে এর সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই ভালো।

ব্যাটারিলাইফ
থ্রিটি’র চাইতে ১০০এমএএইচ কম ধারণক্ষমতার ৩৩০০ এমএএইচ ব্যাটারিটি প্রায় একই রকম ব্যাকাপ দিতে সক্ষম। অর্থাৎ হালকা থেকে মাঝারি ব্যবহারে দিনশেষে ৫০ শতাংশের মত ব্যবহার পাওয়া গিয়েছে।

ভারি ব্যবহারে অবশ্য ফোনটি একদিন ও ৫-৬ ঘণ্টা স্ক্রিন-অন দিতে পারবে।

স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ ডিভাইসগুলোর মতো না হলেও চার্জিংয়ে জোর দিয়েছে ওয়ানপ্লাস।

শুন্য থেকে পুরো চার্জ হতে ফোনটির সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা ১৩ মিনিট, যা বাজারের অন্যান্য ফোনের চাইতে দ্রুত। ফলে চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

ক্যামেরা
ফোনটির ক্যামেরা বর্তমানে সবচাইতে ভালো ফোনগুলোর সমকক্ষ। পেছনের ডুয়াল ক্যামেরার মূলটি f/1.7 অ্যাপার্চার হওয়ায় খুবই উন্নতমানের শট নিতে সক্ষম। এটি আইফোনের মতো টুএক্স অপ্টিক্যাল জুম সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্বিতীয় সেন্সরটি দূরের ছবি তুলতে বেশ কাজের।

যদিও দুটি ক্যামেরা দেয়ার মূল কারণ পোট্রেট মোড। এই মোডে তোলা ছবিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ বেশ উন্নতমানের। স্বল্প আলোতে মোডটি কাজের নয়।

ওয়ানপ্লাাস ৫ এর ক্যামেরার গুনগান থাকলেও রয়েছে  দুটি সমস্যাও।

প্রথমত, ক্যামেরাতে অপ্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় ফোরকে ফুটেজে বেশ কাঁপাকাঁপি দেখা গেছে। তবে ইলেক্ট্রনিক স্ট্যাবিলাইজেশন ১০৮০পিক্সেল ভিডিওকে স্মুথ করতে সক্ষম।

অন্যদিকে টেলিফটো লেন্সের অ্যাপারচার f/2.6 হবার ফলে ভালো পরিমাণ আলো না থাকলে 2x জুম ছবিতে প্রচুর নয়েজ দেখা গেছে, যা অবশ্য মূল সেন্সরের ফটোতে নেই। এছাড়া ক্যামেরাটি গ্যালাক্সি এস৮ এর সমকক্ষ।

ফ্রন্ট ক্যামেরাতে রেজ্যুলেশন দেওয়া হয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচারের ফলে সেলফির মান নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

এ ফোনের ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবির নমুনা থাকছে নিচে।

পরিশেষ
দামে ওয়ানপ্লাস ৫ গ্রে-মার্কেটে গ্যালাক্সি এস৮- এর কাছাকাছি। তাই ওয়ানপ্লাস ৫ অনেকেই কিনতে চাইবেন না।

অবশ্য পোট্রেট মোড, আরও দ্রুত পারফরমেন্স, দ্রুত চার্জিং ও হালকা অপারেটিং সিস্টেম অনেক ক্রেতারই মন জয় করতে পারে।

মূল্য
৪৪ হাজার টাকায় ৬৪ জিবি ও ৫২ হাজার টাকায় ১২৮ জিবি সংস্করণটি পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো
দুর্দান্ত পারফরমেন্স
দুর্দান্ত চার্জিং, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ
হালকা অপারেটিং সিস্টেম
ডুয়াল ক্যামেরা

এক নজরে খারাপ
ফোর-কে ভিডিও স্টেবল নয়
লো-লাইটে 2x টেলিফটো সেন্সরটি কাজের নয়

ক্যামেরা স্যাম্পল

*

*

Related posts/