মটো জি : সর্বশেষ প্রযুক্তিতে পিছিয়ে, গতিতে এগিয়ে

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মটোরোলা কেনার পর টেক জায়ান্ট গুগল প্রথম যে ফোনটি বাজারে ছাড়ে সেটি মটো এক্স। সমালোচকরা এর প্রচুর প্রশংসা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বাইরে এটি ছাড়া হয়নি। পরে বিশ্ব বাজারের জন্য আসে একই ধরনের স্মার্টফোন মটো জি।

ডিজাইন
মটো এক্সের সঙ্গে দেখতে এর বেশ মিল রয়েছে। ডিজাইনে যদিও কোনো বিশেষত্ব নেই, কিন্তু সফট ও কার্ভ ফিনিশিং ফোনটি ব্যবহারের সময় বাড়তি আরাম দেবে।

পেছনে প্লাস্টিকের ফিনিশিং থাকা সত্ত্বেও গড়ন খুবই মজবুত। এর ওজন ১৪৩ গ্রাম। পুরুত্ব ১১.৬ মিলিমিটার। অনেকগুলো রঙে ফোনটি পাওয়া যাবে।

moto G_techshohor

ডিসপ্লে
এর ডিসপ্লের আকার ৪.৫ ইঞ্চি। স্যামসাং বা সনির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর চেয়ে ডিসপ্লে কিছুটা ছোটই বলতে হবে। রেজুল্যুশন ৭২০*১২৮০ পিক্সেল। ঘাতসহ কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩ এর প্রলেপ রয়েছে স্ক্রিনের ওপর।

কানেক্টিভিটি
অ্যান্ড্রয়েডের সবরকম কানেক্টিভিটি ফিচার এতে রয়েছে। ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই হটস্পট, জিপিএস, ব্লুটুথ ও মাইক্রোইউএসবি রয়েছে। আরও আছে প্রক্সিমিটি, অ্যাক্সেলেরোমিটার ও কম্প্যাস সেন্সর। এফএম রেডিও আছে। তবে ফোরজি বা এলটিই নেই।

ক্যামেরা
এটির প্রধান ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল। এটি সর্বোচ্চ ২৫৯২*১৯৪৪ পিক্সেলের ছবি তুলতে পারে। সঙ্গে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ। অটো ফোকাস, জিওট্যাগিং, টাচ ফোকাস, প্যানারোমা ইত্যাদি মোডে ছবি তোলা যাবে। ৭২০ পিক্সেলে ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। এ ছাড়া ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে ১.৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে।

কনফিগারেশন
কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে এতে। প্রসেসর হিসাবে রযেছে কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭, ক্লক স্পিড ১.২ গিগাহার্জ। গ্রাফিক্স প্রসেসর অ্যাড্রেনো ৩০৫। বিল্ট-ইন মেমরি ৮ বা ১৬ জিবি নিতে পারেন, মেমরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা নেই।

পারফরম্যান্স
অ্যান্ড্রয়েড জেলি বিন ফোনটির ডিফল্ট অপারেটিং সিস্টেম। তবে সহজেই কিটক্যাটে আপগ্রেড করা যাবে। গতি আর ব্যবহারের সুবিধার কথা বললে গ্যালাক্সি এস ৪ বা এইচটিসি ওয়ানের মতো ফোনের সাথে এটি সহজেই পাল্লা দেবে। যদিও গ্রাফিক্স কোয়ালিটি এসব ফ্ল্যাগশিপ ফোনের চেয়ে কিছুটা কম, কিন্তু হাই কোয়ালিটি মুভি থেকে গেইম সব কিছু থেকেই অ্যান্ড্রয়েডের মজা উপভোগ করা যাবে।

ব্যাটারি
এর ২০৭০ মিলিঅ্যাম্পের ব্যাটারি ফোনটির বড় শক্তি। চার্জখেকো নামে পরিচিত অ্যান্ড্রয়েডকেও রীতিমতো দীর্ঘ ব্যাকআপের ডিভাইসে পরিণত করেছে এটি।

ফোনটি মূলত মিড লেভেল মার্কেটের কথা মাথায় রেখেই তৈরি। ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর মতো এতে সর্বশেষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং যতটুকু হলে ব্যবহারকারীরা কমদামে সেরা ফোনটি পাবেন, তা-ই দেওয়া হয়েছে। তাই বাজারে আসার পর থেকে ফোনটি আলাদা মর্যাদা পেয়েছে।

দেশের বাজারে ফোনটির দাম ২২ হাজার টাকা।

এক নজরে ভালো
– কম দামে চমৎকার কনফিগারেশন ও ফিচার
– ব্যবহারে সুবিধা, গতিশীল পারফরম্যান্স

এক নজরে খারাপ
– এনএফসি বা ফোরজি নেই
– ক্যামেরা দুর্বল
– এক্সটার্নাল মেমরি নেই

Related posts

*

*

Top