Maintance

এইচপি ওমেন ১৫ : গেইমিংয়ে দারুণ, দামও চড়া নয়

প্রকাশঃ ৩:০৪ অপরাহ্ন, জুন ১২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:২৪ অপরাহ্ন, জুন ১২, ২০১৭

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেমিং ল্যাপটপ মানেই বেশ চড়া মূল্যের মোটা ও ভারি একটি নোটবুক কম্পিউটারই চোখের সামনে ভেসে উঠে। এইচপি এ তিন বাজে দিকের দুটি পুরোপুরি ও একটি অল্পবিস্তর বদলে দিতেই বাজারে এনেছে ওমেন সিরিজের ল্যাপটপ।

এ সিরিজের অনেকগুলো ডিভাইসের মধ্যে ১৫.৬ ইঞ্চি কোর আই ৭ ও এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই সমৃদ্ধ মডেলটির খুঁটিনাটিসহ আজ আমরা পরীক্ষা করে দেখব- এটি কি আসলেই সব ধরনের গেইম ভালোভাবে চালাতে সক্ষম কিনা।

এক নজরে এইচপি অমেন ১৫ (২০১৭)

  • সপ্তম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৭ ৭৭০০এইচকিউ, ২.৮ গিগাহার্জ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ১৫.৬ ইঞ্চি, ফুল এইচডি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ১৬ গিগাবাইট, ২৪০০ মেগাহার্জ গতির ডিডিআর৪ র‌্যাম
  • ১২৮ গিগাবাইট এম.২ এসএসডি, ১ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৭২০০ আরপিএম হার্ড-ডিস্ক
  • এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই গ্রাফিক্স চিপ, ৪ গিগাবাইট জিডিডিআর৫ ভির‌্যাম
  • গিগাবিট ল্যান, ৮০১.১১এসি ওয়াই-ফাই (ওয়্যারলেস ডিসপ্লে সমর্থিত), ব্লুটুথ ৪.২
  • মেমরি কার্ড রিডার
  • একটি ইউএসবি ২.০ পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ল্যান পোর্ট, হেডফোন ও মাইক্রোফোন কম্বো জ্যাক
  • দুটি ইউএসবি ৩.১ প্রথম জেনারেশন ৫ গিগাবিট পোর্ট
  • ৮৮ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল হাই-ডেফিনিশন ওয়েব ক্যামেরা
  • ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও
  • ব্যাকলিট কিবোর্ড
  • ৪ সেল ব্যাটারি, ১৫০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার
  • ২.২ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন
বরাবরের মতোই গেমিং ল্যাপটপ মানেই উদ্দীপ্ত ডিজাইন ও উজ্জ্বল রং – সেই ধারণা ওমেন সিরিজটি বেশ বদলে দিয়েছে। স্মার্ট ব্ল্যাক ফিনিশের এ মডেল চোখকে টানবে না। শুধু মাঝখানে অবস্থিত লাল লোগো ও কিবোর্ডের লাল ব্যাকলাইট ছাড়া আর তেমন রঙের ছোঁয়া নেই।

ল্যাপটপটির ওপরের অংশে অনেকটা কার্বন-ফাইবারের ন্যায় টেক্সচার দেওয়া হয়েছে। এর মাঝখানে রয়েছে ওমেন লোগো – এইচপির লোগো নয়।

একই টেক্সচার দেখা গেছে ডিভাইসটির পাম রেস্ট অংশটিতেও। তবে নিচের অংশ ও মনিটরের বেজেলে কোনও টেক্সচার নেই।

নোটবুকটিতে ডেস্কটপ গ্রেড গ্রাফিক্স চিপ থাকলেও এটি কোনওভাবেই খুব মোটা বলা যাবে না।

সব মিলিয়ে, অনেকেই ল্যাপটপটি দেখে গেমিং ল্যাপটপ ভাববেন না – যা অফিসে ব্যবহার করার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ।

এটির ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার পোর্ট, ল্যান জ্যাক, এইচডিএমআই পোর্ট, ইউএসবি ২ পোর্ট ও কার্ড রিডার। বাকি দুটি ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে বাম পাশে।

সামনে ও পেছনে কোনও পোর্ট দেওয়া হয়নি। প্রায় সকল কুলিং ভেন্ট পেছনে অবস্থিত।

চিকলেট স্টাইলের লাল ব্যাকলাইটের কিবোর্ডটি রয়েছে ডিসপ্লের ঠিক সামনেই, যার নিচে রয়েছে বর্ডারবিহীন টাচপ্যাড। অবশ্য তুলনামূলকভাবে ছোট টাচপ্যাডটির ওপরে আরও স্মুথ ফিনিশিং দেয়া যেত। এ ছাড়া বিল্ড কোয়ালিটিতে তেমন সমস্যা নেই।

ডিসপ্লে
১০৮০পি ফুল এইচডি রেজুলেশন ১৫.৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় কিছুটা কম। এ রেজুলেশন গেইমের ক্ষেত্রে আজও আদর্শ হবার ফলে এ ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তা অস্বাভাবিক নয়।

ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব অন্যান্য ল্যাপটপের চেয়ে খুব ভাল না হলেও ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও কালার ব্যালান্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভিউইং অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে ল্যাপটপটি খুবই ভালো। তবে কিছু কালার শিফট চোখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ভালো পরিমাণ ব্রাইটনেস ও ম্যাট ফিনিশের ফলে ডিসপ্লেটি প্রখর রোদেও সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যাবে। তাই বলে ম্যাকবুকের মতো ব্রাইটনেস আশা করা ঠিক হবে না। 

কালার রিপ্রোডাকশন ও হোয়াইট ব্যালেন্সের দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। গেমিংয়ের জন্য হোয়াইট ব্যালেন্স ও ৯৮% এসআরজিবি কালার অ্যাকুরেসি খুবই ভালো ইমেজ দেখাতে সক্ষম হলেও মাত্র ৬২% অ্যাডোবি আরজিবি ফটো ও ভিডিও এডিটরদের কিছুটা হতাশ করবে।

সব মিলিয়ে, ল্যাপটপটির ডিসপ্লে পুরোই গেমিংয়ের জন্য তৈরি।

পারফরমেন্স
ইন্টেল কোর আই৭ ৭৭০০এইচকিউ কেবি-লেক কোয়াডকোর প্রসেসরটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপ প্রসেসর। ফলে এটি কম্পিউটারের সব কাজই দ্রুততার সঙ্গে করতে সক্ষম।

ভারি সফটওয়্যার, যেমন অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো-তে ফোর-কে রেজুলেশনে ভিডিও এডিট করার মত কাজও প্রসেসরটি খুব সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। গেমিং ও অন্যান্য কাজ এর কাছে কিছুই নয় বলে মনে হবে। 

র‌্যামের দিক থেকেও ডিভাইসটিতে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম আজও মাল্টি-টাস্কিংয়ের জন্য যথেষ্ট। চাইলে সেটি বাড়িয়েও নেয়া যাবে। দুটি র‌্যাম স্লট থাকায় ৩২ গিগাবাইট র‌্যাম সহজেই এ ল্যাপটপে ব্যবহার করা সম্ভব।

পিসিআই এসএসডি ব্যবহারের ফলে ডাটা রিড ও রাইটের দিকেও গতির মন্থরতা দেখা যায়নি। ফলে সকল কাজই চোখের পলকেই শেষ হয়ে যাবে।

গেমিং ল্যাপটপের মূল হচ্ছে এর গ্রাফিক্স চিপ। ওমেনে ব্যবহৃত জিটিএক্স ১০৫০টিআই এ মুহূর্তে বাজারের মাঝারি পারফরমেন্সের জিপিউর একটি।

১০৮০পি রেজুলেশনে প্রায় সকল গেইমই ৬০ এফপিএসে খেলা যাবে। কিছু গেইম, যেমন রেসিডেন্ট ইভেল ৭ খেলার সময় ১০০+ এফপিএসও পাওয়া গিয়েছে।

ব্যাটলফিল্ড ওয়ান বা জিটিএ ৫-এর মতো বেশ ভারি গেইমও হাই সেটিংসে ৬০ এফপিএসের নিচে নামেনি। যারা গেইমিংয়ের জন্য ল্যাপটপ খুঁজছেন তারা মাঝারি দামের এ ডিভাইস কিনে আশাহত হবেন না।

সব মিলিয়ে, গেমিং বা ভারি কাজ – সব কিছুই ওমেন ১৫ সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। 

থার্মাল ডিজাইন 
শক্তিশালী প্রসসের ও জিপিউ-এর তাপ সঠিকভাবে বের করে দেয়াই সাধারণত গেমিং ল্যাপটপের মূল চ্যালেঞ্জ । ওমেন ১৫-এ কাজ খুব সুন্দরভাবে করতে সক্ষম। ফুল লোডে চলার সময়ও এটি ৬৫ ডিগ্রির ওপর যায়নি।

হাত রাখার স্থানে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ পাওয়া গিয়েছে – যা গেমিং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে খুবই ভালো। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে সিপিউ বা জিপিউ থ্রটোলিংও হতে দেখা যায়নি। 

কিবোর্ড ও টাচপ্যাড
এইচপি বরাবরের মতো এটিতে চিকলেট কিবোর্ড ব্যবহার করেছে। এর কি-ট্রাভেল ২ মিলিমিটার থেকে কমিয়ে ১.২ মিলিমিটার করা হয়েছে। ফলে কিছু ব্যবহারকারীর কাছে এটি অগভীর মনে হতে পারে।

অন্যদিকে লাল ও কালোর মিশ্রণে তৈরি লাল ব্যাকলাইট সমৃদ্ধ কিবোর্ডটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। চিকলেট লেআউটটি টাইপিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী।

গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য আজকাল ল্যাপটপেও মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দামে সেটি আশা করা ভুল। 

টাচপ্যাডটির ক্ষেত্রে এইচপি কিছুটা কৃপণতা করেছে। ফলে মাউস ব্যবহার করা প্রায় বাধ্যতামূলক।

ল্যাপটপটির আকৃতি অনুসারে অনায়াসে এর চাইতে বড় টাচপ্যাড দেওয়া যেত। মূল্য অনুসারে পলিশড গ্লাসের টাচপ্যাড আশা করা গেলেও এইচপি এর কোনওটিই করেনি। টাচপ্যাডটির অ্যাকুরেসি ও স্ক্রলিং – দুটোই খুবই মাঝারি মানের। 

সাউন্ড ও ওয়েবক্যাম
ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও আছে শুনে যারা ভালো মানের সাউন্ড আশা করছেন – তাদের হতাশ হতে হবে। স্পিকার ও হেডফোনে অন্যান্য ল্যাপটপের চাইতে বেশি ভলিউম পাওয়া যাবে; কিন্তু বেস ও ট্রেবলের ভারসাম্যহীনতা সেটি নষ্ট করেছে।

স্পিকারে অতিরিক্ত ট্রেবল থাকার ফলে অনেক সময় ভিডিওর কথা বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়ে। হেডফোনেও সাউন্ডের তেমন উন্নতি নেই। 

ওয়েবক্যামের ভিডিওর মান খুবই সাধারণ। ভিডিও কলের বাইরে তেমন কিছু করার মতো ছবি এর কাছে পাওয়া যাবে না। 

ব্যাটারি লাইফ
৬৩ ওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি সমৃদ্ধ ল্যাপটপটি ছয় ঘন্টা পর্যন্ত মাঝারি কাজে ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। গেমিংয়ের সময় ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি তা পাওয়া যাবে না।

অবশ্য গেমিং ল্যাপটপ এর চাইতে বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম নয়। এর চেয়ে বেশি ভালো ব্যাটারি লাইফ চাইলে আল্ট্রাবুক কেনা ছাড়া গতি নেই।

পরিশিষ্ট
গেমিং ল্যাপটপের মাঝে কিছুটা স্বল্পমূল্যের ও হালকা-পাতলা ডিজাইনের এ ডিভাইস গেমিং ছাড়াও ভারি কাজের জন্য ক্লাসরুম ও অফিসেও বেশ মানিয়ে যায়। ফলে যারা এমন দামের ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন, তারা অন্তত এটি একবার দেখতে পারেন।

মূল্য : ল্যাপটপটি অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ বাজারে এক লাখ ৩১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ডিসপ্লে
  • পারফরমেন্স
  • ওজন ও ব্যাটারি লাইফ
  • থার্মাল ডিজাইন

একনজরে খারাপ

  • টাচপ্যাড
  • অডিও
  • ওয়েবক্যাম

 

*

*