Maintance

অপো এফ থ্রি প্লাস : সেলফিতে রাজা বাকিটা চলনসই

প্রকাশঃ ১১:১১ অপরাহ্ন, জুলাই ১৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:২৮ পূর্বাহ্ন, জুলাই ২১, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন মানে শুধুই সেলফি-এমন ভাবনার ব্যবহারকারীদের কাছে অপো এফ সিরিজ নতুন নয়। সেলফি এক্সপার্ট ব্যানারে আনা এ ফোনগুলোর প্রায় সবটুকু পারফরমেন্স সেলফি তোলার জন্য। ফলে অনেক সময় ডিজাইন, পারফরমেন্স ও অনান্য দিকগুলোতে ফোনটি কিছুটা পিছিয়ে থাকে।

দেখা যাক এফ থ্রি প্লাসের বেলায় সেটি শুধরে নেওয়া হয়েছে কিনা। এ রিভিউ শুধু অপো এফ থ্রি প্লাসের জন্য, এফ থ্রিতে সম্পূর্ন আলাদা চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে।

Oppo-F3-Plus-1

এক নজরে অপো এফ থ্রি প্লাস

  • ৬ ইঞ্চি, ১৯২০ x ১০৮০পি রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ দ্বারা সংরক্ষিত
  • ডুয়াল সিম
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৫৩, চারটি ১.৯৫ গিগাহর্জ গতির কর্টেক্স এ৭২ কোর ও ১.৪৪ গিগাহার্জ গতির চারটি কর্টেক্স এ৫৩ কোর মিলিয়ে অক্টাকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫১০ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ ও মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬-এর ওপর তৈরি কালার ওএস ৩
  • ১৬ মেগাপিক্সেল, f/1.7 অ্যাপার্চার, ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও অপ্টিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা
  • ডুয়াল ১৬ মেগাপিক্সেল ও ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ফোর-কে, ৩০ এফপিএস ভিডিওধারণ ক্ষমতা
  • ডুয়াল-ব্যান্ড ৮০২.১১এসি ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.১, জিপিএস
  • মাইক্রো-ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • সামনে অবস্থিত ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৪০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটার, ভিওওসি ফাস্ট চার্জ

ডিজাইন
ফোনটি দেখার সাথে সাথে প্রথমেই নজরে আসবে এর বিশালত্ব। ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের একটি ফোনের তূলনায় অবশ্য এটি বেশ সহজেই হাতের সাথে মানিয়ে যায়। মূলত বেজেল বেশ চাঁপিয়ে আনার ফলেই স্ক্রিনের এপাশ থেকে ওপাশে এক হাতেই কাজ করা সম্ভব।

ধাতব বডির ফোনটির পেছনে মোটা দুটি অ্যান্টেনা ব্যান্ডের স্থানে অপো বরাবরের মতই তিনটি করে দুই ভাগে ছয়টি অ্যান্টেনা লাইন দিয়েছে। ফলে সেগুলো খুব একটা দৃষ্টিকটু মনে হবে না।

এ ছাড়া পেছনে কোম্পানির লোগো ও উপরে বাম কোনায় রয়েছে ব্যাক ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ। বামে রয়েছে ভলিউম রকার, ডানে পাওয়ার বাটন ও সিম ট্রে, যার দ্বিতীয় সিমের স্থানে প্রয়োজনে মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

তলদেশে স্পিকারের পাশাপাশি ফোনটির মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক দুটি থাকার ফলে ওপরে নয়েজ ক্যান্সেলিং মাইক্রোফোন ছাড়া আর কিছুই নেই।

oppo-f3-plus-review-philippines-10

সামনের গোরিলা গ্লাস ৫ আবৃত প্যানেলের ৭২% অংশ জুড়ে রয়েছে ডিসপ্লে। ডিজাইনের দিক থেকে এর সঙ্গে স্যামসাং বা ওয়ান-প্লাসের ফ্রন্ট প্যানেলের বেশ মিল রয়েছে। ডিসপ্লেটির নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার ও ক্যাপাসিটিভ কি এবং উপরে রয়েছে ইয়ারপিস, সেন্সরগুলো ও দুটি সেলফি ক্যামেরা।

একটি ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ও অপরটি ১২০ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেলের ৮ মেগাপিক্সেল।

oppo-f3-plus-review-philippines-5

সব মিলিয়ে, অপো এফ থ্রি প্লাসের ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি বরাবরের মতই বেশ উন্নত মানের। ডিজাইনে তেমন কোনও বিশেষত্ব বা প্রিমিয়াম ফিল নেই। দেখে অনেকটা আইফোন ও স্যামসাংয়ের মিশ্রন মনে হয়েছে।

ডিসপ্লে
ফোনটির ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব নিয়ে অনেকেই হয়ত চিন্তিত হয়ে পরতে পারেন। হাতে নিয়ে দেখার সময় অন্তত ডিসপ্লের পিক্সেল দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৬ ইঞ্চি ফোনগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্মাতারা ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে তেমন জোর না দিলেও, অপো এফ থ্রি প্লাসের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। এতে করে সুন্দর কালার ও কন্ট্রাস্ট পাওয়া যাবে।

oppo-f3-plus-review-philippines-6

আইপিএস এলসিডি প্রযুক্তির ডিসপ্লে সাধারণত অ্যামোলেডের চাইতে ঔজ্জ্বল্যের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও এক্ষেত্রে বেশ ব্যাতিক্রম দেখা গেছে। হোয়াইট ব্যালেন্স কিছুটা ঠান্ডা ও কালার গ্যামুটে ব্যাভিচার কিছুটা বেশি হবার ফলে সত্যিকারের রঙ ডিসপ্লেটিতে নাও পাওয়া যেতে পারে।

পারফরমেন্স
স্ন্যাপড্রাগন ৬৫৩ সমৃদ্ধ ফোনটির প্রসেসিং ক্ষমতা ২০১৫ সালের সকল ফ্ল্যাগশিপের চাইতেও বেশি – অর্থাৎ কোনও অ্যাপ্লিকেশনই আসলে একে স্লো করতে সক্ষম হয়নি।

কর্টেক্স এ৭২ হাই পাওয়ার কোর চারটি থাকার ফলে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ এর চাইতেও শক্তিশালী। বলা যেতে পারে একমাত্র ৮২০-৮৩৫ সিরিজ ছাড়া বাকি সব প্রসেসরকেই এটি টেক্কা দিয়েছে। স্বল্প মাত্রার কাজ করার সময় ব্যাটারি বাঁচাতে কর্টেক্স এ৫৩ কোরতো রয়েছেই।

গ্রাফিক্সের দিক থেকেও ফোনটি পিছিয়ে নেই। অ্যাড্রিনো ৫১০ জিপিউটি একদম ফ্ল্যাগশিপের চেয়ে অল্প কিছুটা কম শক্তিশালী। তাই গেইম খেলার সময় ল্যাগ পাওয়ার কথা নয়। কিছু হাই-ডেফিনিশন গেইম প্লে-স্টোরে ক্রমাগত যুক্ত হচ্ছে, যা অনেক সময় ফ্ল্যাগশিপ ফোনকেই ঝামেলায় ফেলে দিচ্ছে। সেগুলো ছাড়া বাকি সব গেইম এতে স্মুথলি চলেছে।

ফোনটির থ্রিডি মার্ক নিচে দেয়া হলো।

oppo-f3-plus-review-screenshot-01 (1)

৪ গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে মাল্টি-টাস্কিং ও টাস্ক সুইচিংয়ের ক্ষেত্রেও কোনও ল্যাগ দেখা যায়নি। তবে ২০১৭ সালে এসে মাঝারি মূল্যের ফোনে তো বটেই, স্বল্প মূল্যের স্মার্টফোনেও অন্তত পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাম থাকাই স্বাভাবিক।

সব মিলিয়ে, ১০৮০পি ডিসপ্লে ও বেশ ভাল চিপসেটের ফলে অপো এফ থ্রি প্লাস পারফরমেন্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

অডিও কোয়ালিটি
নিচে অবস্থিত একটি লাউডস্পিকার ভলিউম ও সাউন্ডের মানের দিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে। গেইম খেলা, ভিডিও দেখা বা লাউডস্পিকারে কথা বলার সময় সাউন্ডের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হবে না।

হেডফোনে মিউজিক কোয়ালিটি সাধারণ মানের। কাজ চালানোর মত গান শোনা গেলেও খুব অসাধারণ কিছু আশা করা ঠিক হবে না।

oppo-f3-plus-review-philippines-12

ক্যামেরা কোয়ালিটি
মূলত সেলফি ক্যামেরার মানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এ সিরিজের মূল ভিত্তি। এবারও যার ব্যাতিক্রম ঘটেনি।

প্রথমত, ব্যাক ক্যামেরার হার্ডওয়্যারে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ক্যামেরার লেন্স দেয়া হয়েছে f/1.7 অ্যাপার্চারের। ফলে আরও বেশি আলো সেন্সরটিতে প্রবেশ করতে পারবে এবং পোট্রেট তোলার সময় বোকেহ আরও সুন্দরভাবে দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, লেন্সের নিচে অবস্থিত ১৬ মেগাপিক্সেল সেন্সরটিতে রয়েছে ডুয়াল ফেইজ-ডিটেকশন অটোফোকাস – যার ফলে ফোনটি খুবই দ্রুত ফোকাস করতে সক্ষম।

এ দুটি পরিবর্তন এবং নতুন সফটওয়্য়ারের ইমেজ প্রসেসিংয়ে বেশ উন্নয়নের ফলে ফোনটির ব্যাক ক্যামেরার শটগুলো খুবই ভাল মানের হবার কথা থাকলেও ছবিগুলোর ডিটেইলের পরিমান তূূলনামূলকভাবে কম। বিশেষত ছবিতে জুম ইন করার সময় ডিটেইলের ঘাটতি বেশ প্রকট হয়ে ওঠে।

oppo-f3-plus-review-philippines-14

ডাইনামিক রেঞ্জ ও এক্সপোজার নিয়ে অবশ্য সমস্যা নেই। তাই ছোট পর্দায় বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করা পর্যন্ত ছবিগুলোর ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখলে ডিটেইলের অভাব তেমন বোঝা যাবে না।  শটগুলোর শার্পনেস প্রায় সকল ক্ষেত্রে ভালো হলেও ম্যাক্রো শটের ক্ষেত্রে সেটা কিছুটা সফট ও ডিটেইলের ঘাটতি চোখে পড়বে।

তবে অপো এফ থ্রি প্লাস মূলত তৈরিই করা হয়েছে সেলফি তোলার জন্য। সে কাজের জন্য ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে একটি নয়, দুটি ফ্রন্ট ক্যামেরা। মূল সেলফি ক্যামেরাটি f/2.0 অ্যাপার্চারের লেন্সের নিচে অবস্থিত ১৬ মেগাপিক্সেলের। এতে তোলা ছবিগুলোর ডিটেইল, এক্সপোজার ও ডাইনামিক রেঞ্জ – সবকিছুই বলা যেতে পারে পেছনের ক্যামেরার চাইতে ভাল।

বরাবরের মতই ফিক্সড ফোকাস হবার ফলে ছবির শার্পনেস পুরোটাই নির্ভর করবে সাবজেক্টের অবস্থানের ওপর।

অপর সেলফি ক্যামেরাটি ৮ মেগাপিক্সেলের, যা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল f/2.2 অ্যাপার্চারের লেন্সের নিচে অবস্থিত। ফলে এটি কিছুটা অনুজ্জ্বল ও বেশ কম পরিমান ডিটেইলস সমৃদ্ধ ছবি তুলতে সক্ষম। তবে ক্যামেরাটির মূল কাজ অবশ্য ডিটেইল ধারণ নয় বরং সেলফি স্টিকের বদলে হাতে রেখেই বিশাল পরিমান জায়গার ছবি তোলা জন্য। যারা প্রায়ই বড় মাঠ বা খোলা জায়গায় বা গ্রুপ সেলফি তুলে থাকেন তাদের জন্য এটি বিশেষ কাজের।

ভিডিওর দিক থেকে ফোনটি পিছিয়ে নেই। ফোরকে ভিডিও ধারণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে ফোনটিতে। তবে সমস্যা একটিই, ক্যামেরার সেন্সরে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকার ফলে ভিডিওগুলতো কাঁপুনির প্রভাব বেশ প্রকট। এমনিতে ডিটেইল বা ডাইনামিক রেঞ্জের ঘাটতি নেই।

ব্যাটারি লাইফ
বিশাল ডিসপ্লের পেছনে বিশাল একটি ব্যাটারি থাকার ফলে বড় ডিসপ্লের ব্যাটারি ড্রেইন ও বড় ব্যাটারির বেশি ব্যাকআপ কিছুটা একে অপরের সঙ্গে কাটা গিয়েছে। তাই বলে ফোনটির ব্যাটারি ব্যাকআপ কোনওভাবেই খারাপ নয়। তবে ৪০০০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারির তুলনায় কিছুটা কম।

পিসিমার্ক ব্যাটারি টেস্টে ফোনটি ১২ ঘন্টার ওপর এক চার্জে চলেছে। ফলে বলা যেতে পারে অনায়েসে একদিন, মাঝে মাঝে দেড় দিন এবং মাঝারি থেকে ভারি ব্যবহারে ফোনটি চার্জ ছাড়াই অনেকক্ষণ চালানো যাবে।

তবে চার্জিং নিয়েও চিন্তিত হবার কোনও কারণ নেই। অপোতে ভিওওসি চার্জিং থাকার ফলে ফোনটি একেবারে শূন্য থেকে ৫০% চার্জ হবে ৩০ মিনিটেই।

oppo-f3-plus-review-philippines-15

পরিশেষ
ডিভাইসটি দেশের বাজারে ৩৯৯৯০ হাজার টাকার ওপরে মিলছে। অর্থাৎ এর প্রতিযোগী হিসেবে বেশ অনেক ফোনই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

একই মূল্যে ওয়ানপ্লাস থ্রি-টি, অল্প কিছুটা বেশি মূল্যে শাওমি এমআই ৬ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো প্রসেসর, ব্যাক ক্যামেরার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেই। একই সঙ্গে ওয়ানপ্লাস থ্রি-টিতে সফটওয়্যার আপডেটও সময়মত পাওয়া যাবে।

অতএব, ফোনটি একমাত্র সেলফি-পাগলরা ছাড়া অন্যদের কাছে অত যুতসই নাও মনে হতে পারে।

এক নজরে ভাল

  • সেলফি ক্যামেরা
  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • পারফরমেন্স
  • ডিসপ্লে

এক নজরে খারাপ

  • মূল্য অনুসারে ব্যাক ক্যামেরার ছবির মান
  • ভিডিওতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন নেই

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস.এম. তাহমিদ

*

*

Related posts/