Maintance

অনেক ফিচারের হুয়াওয়ে পি১০ : ছোটখাট ঘাটতি দামেও অসন্তুষ্টি

প্রকাশঃ ২:৫৯ অপরাহ্ন, মে ৪, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৫৯ অপরাহ্ন, মে ৪, ২০১৭

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে পি সিরিজের ফোনগুলো সবসময়ই ক্যামেরায় সেরা পারফরমেন্স দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। ডুয়াল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা লাইকার ব্র্যান্ডিং থাকায় কারও মনে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। পি সিরিজের ফোন থেকে অসাধারণ সব ছবি আশা করেন সবাই।

হাইএন্ডের এ ফোনের নতুন সংস্করণে ক্যামেরা ছাড়া অন্যান্য ফিচারও কম নয়। বেশ কিছু রঙ ও ফিনিসিং, নজরকাড়া স্পেসিফিকেশনসমৃদ্ধ পি সিরিজের সর্বশেষ ফোন পি১০ কি এ ধারা অব্যাহত রেখেছে? চলুন দেখা যাক।

p10-4

এক নজরে হুয়াওয়ে পি১০

  • ডুয়াল সিম বা সিঙ্গল সিম
  • .১ ইঞ্চি, ১৯২০x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএসনিও এলসিডি ডিসপ্লে
  • হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০, .৪ গিগাহার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাগার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর সম্বলিত অক্টাকোর প্রসেসের
  • মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, ডুয়াল সিম মডেলে মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭ নুগ্যাটের ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই ৫.১ অপারেটিং সিস্টেম
  • ডুয়াল ২০ ও ১২ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার, ওআইএস, ফেইজ ডিটেকশন এবং লেজার অটোফোকাস ও লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা, সঙ্গে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ডুয়াল টোন এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/1.9 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি, ৩০ এফপিএস অথবা ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণের সুবিধা
  • ৮০২.১১এসি ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪., জিপিএস, এনএফসি
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ফ্রন্ট মাউন্টেড ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং

huawei_p10_review_5

ডিজাইন
হুয়াওয়ে পি৮ ফোনটির ডিজাইন সে সময় সাড়া ফেলেছিল। এ ডিজাইনকে ভিত্তি ধরে এরপর পি৯ ও আজকের পি ১০ এসেছে। পি ১০ ফোনটি বেশ কিছু রঙয়ে বাজারে পাওয়া যাবে। সিরামিক হোয়াইট, ড্যাজলিং ব্লু, ড্যাজলিং গোল্ড, প্রেস্টিজ গোল্ড গ্রাফাইট ব্ল্যাক, মিস্টিক সিলভার, রোজ গোল্ড ও গ্রিনারি থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন ।

নজরকাড়া রঙের ফোনটির পেছনের অংশটিতে ডায়মন্ড কাট টেক্সচার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেখতে সুন্দর লাগলেও হাতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে স্যান্ডব্লাস্টিং করা ম্যাট ফিনিসের ফোনগুলো ধরতে তেমন সমস্যা নেই।

ফোনটির কিছুটা গোলাকৃতির কোনাগুলোর ফলে এটি ধরতে ও দেখতে পি৯ বা প৮-এর চেয়ে বেশ ভালো। খুবই ভালো মানের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফোনটির শ্যাসি খুবই শক্তপোক্ত। 

তবে সামনের পুরো অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহারের ফলে স্ক্র্যাচ নিয়ে চিন্তা না থাকলেও হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ভঙ্গুর প্রবণতা অবশ্য আজকালের সব ফোনের ক্ষেত্রেই রয়েছে।

সামনে ডিসপ্লের ঠিক নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার পাশে অনেকেই ক্যাপাসিটিভ কি আশা করলেও ফোনটিতে ক্যাপাসিটিভ কি দেয়ার বদলে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে সোয়াইপ করে ব্যাক বা মেন্যুতে যাওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছে। অনেকের কাছেই এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে ভেবেই হুয়ওয়ে অনস্ক্রিন ন্যাভিগেশনেরও ব্যবস্থা রেখেছে।

এ ছাড়া ডিসপ্লের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, সেন্সরগুলো ও ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডান পাশে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি, বাম পাশে সিমট্রে, ডুয়াল সিম সংস্করণের যার মাঝেই মেমরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের দিকে তেমন কিছু নেই। নিচে স্পিকার গ্রিল, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে।

পেছনে ওপরের অংশে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা, যার পাশে লেজার অটোফোকাস সেন্সর, এলইডি ফ্ল্যাশ ও লাইকা ব্র্যান্ডিং।

ফোনটির পেছনে হুয়াওয়ে লোগো ছাড়া তেমন কিছুই নেই। আর অ্যান্টেনা ব্যান্ডগুলো সুন্দরভাবে বেজেলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন খুবই দৃষ্টিনন্দন ও উন্নতমানের।

huawei_p10_review_2

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি ৫.১ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের ফোন বাজারে অনেক থাকলেও পি ১০ ফোনে ব্যবহৃত আইপিএস নিও প্রযুক্তির প্যানেল অন্যসব আইপিএস প্যানেলের চাইতে বেশি কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। হুয়াওয়ের দাবি, ডিসপ্লেটিতে অন্তত ৬০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে পরীক্ষা করে তেমনটিই দেখা গেছে।

কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও ফোনটি খুবই এগিয়ে রয়েছে- ১৪২৩:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও সহজ কথা নয়।

অন্যদিকে কালার অ্যাকুরেসির দিক থেকে ডিসপ্লেটি বেশ পিছিয়ে। রঙের ব্যতিচার বা ডেল্টাই এর মান খুবই বেশি। ৬ দশমিক ৫ ডেল্টাই হবার ফলে প্রায় সব রঙ ডিসপ্লেটিতে কিছুটা নীলচে দেখা গেছে। তবে সেটিংস থেকে ওয়ার্ম ডিসপ্লে মোড ব্যবহার করলে ডেল্টাই কমে ৪ দশমিক ৮-এ নেমে আসে। তবে কোনও অবস্থায়ই ডিসপ্লেটি খুব অ্যাকুরেট কালার দিতে সক্ষম নয়।

সরাসরি রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি খুবই ভালো। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ছাড়া পি১০-এর ডিসপ্লেটিকে এক্ষেত্রে হারাতে পারবে এমন ডিসপ্লে খুব বেশি নেই।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও রোদে ব্যবহারের সুবিধা কালার কোয়ালিটির কিছুটা ঘাটতি বেশ পুষিয়ে দিয়েছে।

পারফরমেন্স
বেশ কিছু বছর ধরে হুয়াওয়ে তাদের ফোনগুলোতে নিজস্ব কিরিন প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে। কিরিন ৯৬০ প্রসেসরটিতে ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ কোর থাকার ফলে প্রসেসরটি সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে প্রসেসরটি সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্সে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১- এর সমান। মাল্টিকোর পারফরমেন্সেও প্রসেসরটি খুবই এগিয়ে রয়েছে। চারটি এ৭৩-এর সঙ্গে আরও চারটি এ৫৩ কোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার ফলে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮২১-এর কোয়াডকোর পারফরমেন্সকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সাধারণত হাইসিলিকন কিরিন প্রসেসরের জিপিউ পারফরমেন্স কোয়ালকম অ্যাড্রিনো জিপিউর চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকে। এ ফোনে ব্যবহৃত মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউটি গ্রাফিক্স পারফরমেন্সে প্রায় অ্যাড্রিনো ৫৩০-এর কাছাকাছি, তবে পুরোপুরি নয়।

বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী এটি অ্যাড্রিনো ৫৩০ এর চাইতে ১০১৫% কম শক্তিশালী। যদিও ১০৮০পি ডিসপ্লেতে এইচডি গেইম চালাতে সমস্যা হবার কথা নয়।

benchmarkp10

র‌্যামের দিক থেকে ফোনটি মূলধারায় রয়েছে। নতুন সকল ফ্ল্যাগশিপেও এখন চার গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই মাল্টিটাস্কিং ও টাস্ক সুইচিংয়ে কোনও ল্যাগ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভবিষ্যতে চার গিগাবাইট র‌্যাম কিছুটা কম মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হুয়াওয়ে পি১০ এর কাছ থেকে ফ্ল্যাগশিপ পারফরমেন্স পাওয়া গিয়েছে।সমস্যার দিক থেকে চিহ্নিত করা যায় এটির থার্মাল পারফরমেন্স। টানা ব্যবহারে ফোনটি বেশ গরম হতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে থার্মাল থ্রটোলিংয়ে পরিণত হয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পারফরমেন্স কমে যেতে দেখা গেছে।

huawei_p10_review_6

ক্যামেরা
বরাবরের মতো পি সিরিজের ফোনগুলোতে হুয়াওয়ে ক্যামেরার দিকে বেশি জোর দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। এর আগের পি৯-এর লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ক্যামেরাটি ছবির ডিটেইলের ক্ষেত্রে তূলনামূলক হতাশ করেছিল। তাই পি১০-এর ক্যামেরার মান নিয়ে সবার কিছুটা শংশয় থাকাই স্বাভাবিক।

ফোনটিতে পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। যার একটি ২০ মেগাপিক্সেল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট সেন্সর ও অপরটি ১২ মেগাপিক্সেল ফুল কালার সেন্সর। বলা যেতে পারে এটিই আসলে ফোনটির মূল ক্যামেরা।

দুটি সেন্সরের সামনেই f/2.2 অ্যাপার্চারের লেন্স দেওয়া হয়েছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় কিছুটা কম বলা যেতে পারে। কেননা বেশ কিছু বছর ধরেই f/2.0 বা f/1.8 সহ ক্যামেরা মূলধারায় চলে এসেছে।

ক্যামেরায় ডুয়াল সেন্সর থাকার ফলে সেটি তেমন সমস্যা নয়। সেন্সর দুটিতে ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস থাকার পরও এর সঙ্গে লেজার অটোফোকাস যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ফোকাসিংয়ের দিক থেকে পি১০ খুবই এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরা দুটি এক সঙ্গে কাজ করার ফলে প্রতিটি ছবিরই ডিটেইল, এক্সপোজার, টেক্সচার ও ডাইনামিক রেঞ্জ খুবই ভাল। একমাত্র অতিরিক্ত আলোর মাঝে তোলার সময় ছাড়া উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল যায়গার মাঝে ডিটেইলে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

কম আলোতে ছবি তোলার সময়ও ক্যামেরাটি হতাশ করেনি। বেশ উজ্জ্বল ও কম নয়েজ যুক্ত ছবি এটি ধারণ করতে পেরেছে। হলদে আলোতেও কালার ব্যালেন্স নিয়ে সমস্যা দেখা যায়নি।

তাই বলে ক্যামেরার দিক থেকে ফোনটির সবকিছুই ভালো এমনটি বলা যাবে না। মূল্য অনুসারে ফোনটিতে তোলা ছবিতে যেটুকু নয়েজ, কালার শিফট দেখা যাওয়া উচিৎ তার চেয়ে বেশ অনেকটুকু বেশি দেখা গেছে।

বিশেষত মেঘলা আকাশের মত উজ্জ্বল ও ভিন্ন টেক্সচারের সাবজেক্টের ছবিতে নয়েজ ও আর্টিফ্যাক্ট খুব ভালভাবে বিদ্যমান।

huawei_p10_review_bt_tower_hdr_off

ভিডিওর দিক থেকে ফোনটি পিছিয়ে নেই। ফোর কে রেজুলেশন পর্যন্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটিতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ও লেজার অটোফোকাস থাকায় ফোকাসিং ও ভিডিওর কাঁপুনি নিয়ে ভাবনা নেই।

যদিও সবকিছুই একদম নিখুঁত নয়। মূলত কম্প্রেশন আর্টিফ্যাক্ট, নয়েজ, ডিটেইলের অভাব ও মাঝে মাঝে উদ্ভট স্ট্যাবিলাইজেশন ‘জেলি’ ইফেক্ট ক্যামেরাটির ভিডিও ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

huawei_p10_review_indoor

সেলফি ক্যামেরাটির অ্যাপার্চার বেশ বড় হবার ফলে পোট্রেইট তোলার সময় পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ বেশ ভালোভাবে বোঝা গেলেও অনান্য দিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ সাধারণ মানের। ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনের কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করাই যায়।

সাউন্ড কোয়ালিটি
পি১০ এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ উন্নতমানের। ফোনটির সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও বেশ ভাল, ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স ২০ হার্জ থেকে ২০ হাজার হার্জ পর্যন্ত একেবারে সমান এবং স্টেরিও ক্রসটকের পরিমানও না ধরার মতই।

সমস্যা বলা যেতে পারে এর ভলিউমে। হেডফোন বা স্পিকারের উভয় ক্ষেত্রেই ফোনটি খুবই কম ভলিউমে সাউন্ড দিতে সক্ষম, যা এ দামের ফোনের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সঙ্গীত প্রেমীরা ভলিউমে ঘাটতি বেশ ভালোভাবে টের পাবেন।

huawei_p10_review_4

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটিতে ব্যবহৃত ৩২০০ এমএএইচ ব্যাটারিটি টানা দুই দিন স্ট্যান্ডবাই দিতে সক্ষম। স্মার্টফোন যেহেতু কেউ স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখতে ব্যবহার করেন না, তাই স্ক্রিন অন টাইমকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্তত ৭৮ ঘন্টা স্ক্রিন অন পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, সাধারণ ব্যবহারে অন্তত এক দিন চার্জ না করেই ব্যবহার করা যাবে। কিছুটা কম ব্যবহারে দু’দিন সহজেই ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

ফাস্ট চার্জিং ফোনটির বিশেষ ফিচার হলেও অপ্পো বা কোয়ালকমের চেয়ে সেটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ২ শতাংশ থেকে ৩০ মিনিটে ফোনটি ৫৫ শতাংশ চার্জে যেতে সক্ষম – যা ড্যাশ (ভুক) চার্জ বা কুইকচার্জের চেয়ে ৫১০ শতাংশ কম।

পরিশিষ্ট
মূল্য অনুসারে ফোনটিকে ফ্ল্যাগশিপের কাতারে ফেলা যায়। ইদানিং অবশ্য ফ্ল্যাগশিপের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ায় এটি আসলে মাঝারি বাজেটের মধ্যে উচ্চ মূল্যের কাতারে পরেছে।

সে হিসেবে ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতিম ও কিছুটা খারাপ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স হয়ত মেনে নেওয়া যায়। তবে বাধ সেধেছে ওভারহিটিং, ব্যাটারির কুইকচার্জে বেশ ধীরগতি এবং ক্যামেরার ছবি ও ভিডিওতে বেশ বড় ধরনের নয়েজ।

এ দামে এর চাইতে ভালো ক্যামেরা, পারফরমেন্স ও স্ক্রিনের ফোন বাজারে রয়েছে। তাই বলা যায়, ফোনটি বেশ ভালো হলেও কেনার আগে ক্রেতা মনমতো পারফরমেন্স পাবেন কিনা সেটি বিবেচনা করতে হবে।

মূল্য 
ফোনটি প্রিঅর্ডারে সরাসরি হুয়াওয়ের কাছ থেকে ৫৬ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।বাইরে গ্রে মার্কেটে আরও কমে ওয়ারেন্টি ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ, চার্জিং
  • দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরমেন্স
  • স্টিল ফটোগ্রাফি  

এক নজরে খারাপ

  • গ্রাফিক্স পারফরমেন্স
  • ভিডিওগ্রাফি
  • মূল্য অনুসারে ক্যামেরার ডিটেইলে ঘাটতি
  • সাউন্ডের ভলিউমে বেশ ঘাটতি

*

*

Related posts/