Maintance

হেলিও এস২৫ : ডিসপ্লেতে মুগ্ধ, পারফরমেন্সে হতাশ

প্রকাশঃ ২:৫৬ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:০৬ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৯, ২০১৭

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যালুমিনিয়াম বডি, ডুয়াল ক্যামেরা, ৪ গিগাবাইট র‌্যাম – এমন স্পেসিফিকেশন নিয়ে হেলিও সিরিজের সর্বশেষ ফোন হেলিও এস২৫। বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে নতুন নতুন চেষ্টার কমতি নেই দেশি কােম্পানিটির। এরই ধারাবাহিকতায় বলার মতো দারুণ সব ফিচারের নতুন সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে এবার।

ফিচার লিস্ট অনুযায়ী দুর্দান্ত ফোনটি কি আসলেই ২১ হাজার ৯৯০ টাকা মূল্যে বিক্রয়যোগ্য? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে হেলিও এস২৫

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেলে রেজুলেশনের ইন-সেল এলসিডি ডিসপ্লে
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি১০ অক্টাকোর প্রসেসর, যাতে রয়েছে আটটি ১.৯৫ গিগাহার্জ কর্টেক্স এ৫৩ কোর
  • ডুয়াল সিম
  • চার গিগাবাইট র‌্যাম
  • মালি টি৮৬০এমপি২ জিপিউ
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো ৬.০ এর ওপর তৈরি অ্যামিগো ইউআই অপারেটিং সিস্টেম
  • ১২ মেগাপিক্সেল f/2.0 + ৫ মেগাপিক্সেল f/2.2 ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা, f/1.0 থেকে f/4.5 ভার্চুয়াল অ্যাপার্চার, ১৩ মেগাপিক্সেল f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও রেকর্ডিং
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর (সামনে অবস্থিত)
  • ৩০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

DSC00629

ডিজাইন
হেলিও এস২৫ ফোনটির গড়ন দেখে প্রথমেই আইফোন ৬ বা ৬এস এর কথা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধাতব বডি, কোণাগুলো কিছুটা চক্রাকার, পেছনের অ্যান্টেনা ব্যান্ড ও স্ক্রিনের নিচে অবস্থিত হোম বাটন – সবকিছুতেই আইফোনের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ডিজাইনে মিল থাকাটা একপ্রকার ভাল লক্ষণ বলা যেতে পারে। ফোনটির অ্যালুমিনিয়াম বডিতে বেশ দৃষ্টিনন্দন কালো ফিনিস দেওয়া হয়েছে।

সামনের গরিলা গ্লাস ৪ প্যানেলের প্রায় সবটুকু জুড়েই রয়েছে। ৫.৫ ইঞ্চি ফুলএইচডি ডিসপ্লের ঠিক ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস। এটির ডানপাশে সেলফি ক্যামেরা ও বামে রয়েছে প্রক্সিমিটি সেন্সর।

স্ক্রিনের ঠিক নিচে রয়েছে হোম বাটন, যার মাঝে অবস্থান করছে ফোনটির ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। বাটনটি কিছুটা ডাবানো হবার ফলে হঠাৎই বুঝার উপায় নেই যে এটি টাচ বাটন নয়, বরং সত্যিকারের ফিজিকাল বাটন।

শুধু তাই নয়, ফিংগারপ্রিন্ট রিডারটিতে জেসচার থাকার ফলে এটি টাচ বাটন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। হোম বাটনের দুপাশে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ ব্যাক ও মাল্টিটাস্কিং বাটন।

DSC00640

ভলিউম বাটন ও পাওয়ার কি, দুটোই অবস্থান করছে ফোনটির ডান পাশে। সিম ও মেমরিকার্ড ট্রে রয়েছে বামে। ওপরে হেডফোন জ্যাক ও তলদেশে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রোইউএসবি চার্জিং পোর্ট, যা ওটিজি ডিভাইস সমর্থন করে।

DSC00639

পেছনের মূল আকর্ষণ বলা যেতে পারে ফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা – যা পেছনের উপরের অংশের ঠিক মাঝ বরাবর অবস্থিত রয়েছে। এর ঠিক ডান পাশে রয়েছে ফ্ল্যাশ, ঠিক নিচে রয়েছে হেলিও লোগো ও নিচের অংশে প্রায় অদৃশ্যভাবে হেলিও লেখা রয়েছে।

DSC00638

ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে কোনও বড়মাপের খুত নেই। কোনও স্থানে ধরে মনে হবেনা এটি বাঁকিয়ে যেতে পারে, বা একটুতেই স্ক্র্যাচ পরারও সম্ভাবনা নেই। শুধুমা্ত্র কিছুটা অদ্ভুত হোম বাটন ও ফিংগারপ্রিন্ট রিডার ছাড়া ডিজাইন নিয়ে তেমন কিছু সমস্যা নেই।

ডিসপ্লে

ইন-সেল এলসিডি ডিসপ্লের নাম তেমন শোনা না গেলেও কাজের ক্ষেত্রে এটি হেলাফেলার বিষয় নয়, সেটি এ ফোন একবার হাতে নিলেই বোঝা যাবে। কন্ট্রাস্ট, কালার ডেপথ ও ভিউইং অ্যাঙ্গেল  – প্রায় সবদিক থেকেই ডিসপ্লেটি বেশ এগিয়ে রয়েছে।

ভিডিও দেখা বা ওয়েব ব্রাউজিং, ডিসপ্লের দিক থেকে সবকিছুতেই সমান পারদর্শী হেলিও এস২৫।

IMG_20170405_222617

১০৮০পি ডিসপ্লের মূল সমস্যা ফোনটির ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে। পিক্সেল ঘনত্ব কম হবার ফলে ভিআর কনটেন্ট দেখে তেমন মজা পাওয়া যাবে না। তবে ভি আর নিয়ে তেমন মাথা ঘামানোর প্রয়োজনও নেই।

কালার ব্যালেন্স নিয়ে অনেক ফোনেই বেশ সমস্যা দেখা যায়। এ ফোনটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কোনও রঙ মাত্রাতিরিক্ত মনে হবে না ও হোয়াইট ব্যালেন্সের দিক থেকেও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে, যাদের ফোনের ডিসপ্লের খুঁত সহজেই চোখে পরে তাদের কাছেও এটির ডিসপ্লে খুবই ভালো লাগবে।

পারফরমেন্স
অক্টাকোর প্রসেসর, চার গিগাবাইট র‌্যাম, ৬৪ গিগাবাইট রম- এমন স্পেসিফিকেশনের ফোনের পারফরমেন্স খুবই ভালো হবে এমনটাই আশা করা যায়। তবে সেদিক থেকে এস২৫ ফোনটি বেশ হতাশ করেছে।

মিডিয়াটেক ৬৫৭৭ বা হেলিও পি১০ প্রসেসরটিতে রয়েছে ১.৯৫ গিগাহার্জ গতির আটটি কর্টেক্স এ৫৩ কোর। কর্টেক্স এ৫৩ কোরগুলো মূলত স্বল্পশক্তির হবার ফলে সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে ফোনটি খুবই পিছিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে ২০১৩-১৪ সালের প্রসেসরগুলোও পি১০-এর চাইতে সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

Screenshot_20170405-215500

তবে আট কোর হওয়ায় মাল্টি-টাস্কিংয়ে ফোনটি তেমন হতাশ করেনি। গিকবেঞ্চে অনুযায়ী, অন্যান্য অক্টাকোর প্রসেসরের চেয়ে এটি তেমন পিছিয়ে নেই।

চার গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে মাল্টি-টাস্কিং নিয়েও সমস্যা দেখা যায়নি। বেশিরভাগ সময়ই দুই গিগাবাইট র‌্যাম খালি পাওয়া গিয়েছে।

Screenshot_20170405-215508

এর পরও ফোনটির পারফরমেন্সের ব্যাপারে বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়ে গেছে। কেননা এতে ব্যবহৃত জিপিউটির মান একেবারেই আশানুরূপ নয়।

থ্রিডি-মার্ক ও আনটুটু বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী, মালি টি৮৬০এমপি২ জিপিউটি হাই-ডেফিনিশন গেম চালাতে পারদর্শী নয়।

বেঞ্চমার্কই সব কথার শেষ কথা নয়। তাই বেশ কিছু গেইম, যেমন ব্রেক-নেক বা অ্যাসফল্ট এক্সট্রিম খেলেও বেশ ভাল পরিমান ল্যাগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, অ্যাপ সুইচ করা বা ডুয়াল উইন্ডোতে অ্যাপ চালানোর সময়ও কিছু ল্যাগ পাওয়া গেছে। দুর্বল জিপিউর কারণেই এমনটি হয়েছে।

Screenshot_20170405-215535

স্টোরেজের গতি ও সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্স খারাপ হওয়ার কারণে ফোনটিতে অ্যাপ ইনস্টল, লঞ্চিং দুটো ক্ষেত্রেই বেশ ভাল সময় লেগে যায়। এমন দাম ও স্পেসিফিকেশনের ফোনের কাছ থেকে এটি আশা করা যায় না।

Screenshot_20170405-215556

সব মিলিয়ে, সিম্ফোনি হেলিও এস২৫ ফোনটির পারফরমেন্সে বেশ ভালো ঘাটতি রয়েছে। কেনার আগে এ বিষয়গুলো যে কোনো ক্রেতাই বিবেচনা করতে ভুল করবে না।

IMG_20170405_181659

ক্যামেরা
ফটোগ্রাফিনির্ভর ফোনটিতে তিনটি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পেছনে মূল ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের সনি আইএমএক্স সেন্সর, সঙ্গে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল স্যামসাং সেন্সর। সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ক্যামেরা।

ডুয়াল ক্যামেরা সেন্সর থাকায় ক্যামেরাটিতে একটি বিশেষ মোড রয়েছে – যার নাম দেয়া হয়েছে বোকেহ মোড। এ ছাড়া ডুয়াল ক্যামেরা হার্ডওয়্যারের তেমন কোনও ব্যবহার নেই। অতএব, বোকেহ মোড ছাড়া বাকি সব মোডে শুধু ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সরটিই ব্যবহার হয়ে থাকে।

ক্যামেরা অ্যাপ খোলার সাথেই চোখে পড়বে বেশ কিছু মোড। তবে বাম দিকে নিচের কোণায় অবস্থিত বাটনে চাপ দিয়ে আরও বেশ কিছু মোডেও ছবি তোলা যাবে। এগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্যাতিক্রমি কিছু মোড বলা যেতে পারে- জিআইএফ ক্যামেরা, স্লো-মোশন, টেক এনিটাইম, প্রফেশনাল মোড ও এর আগে লেখা বোকেহ মোড।

সাধারণ ফটো মোডে ছবি তোলার সময় প্রথমেই খটকা লাগবে এর ফোকাসিং স্পিড। ডুয়াল ক্যামেরার একটি ফোনের কাছ থেকে এর চাইতে দ্রুত ও নির্ভুল ফোকাসিং থাকা উচিত ছিল। বিশেষত ম্যাক্রো ফোকাসিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি আশাহত করেছে।

IMG_20170405_181644

অটো মোডে তোলা ছবিগুলোর ডিটেইলের মাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। মূলত বলা যেতে পারে খুব ভারি নয়েজ রিডাকশন করার ফলে ছবিতে ডিটেইলের পরিমান বেশ কমে গেছে, যা এরূপ রেজুলেশনের থেকে আশা করা যায় না।

ডাইনামিক রেঞ্জ ও হাইলাইট-মিডটোন ও শ্যাডোর মাঝে কন্ট্রাস্টেও বেশ ঘাটতি দেখা গেছে। খুব ভাল পরিমান আলোতে ছবি না তোলা হলে ছবিতে নয়েজের পরিমান বেশ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ডিটেইলের ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে। বলা যেতে পারে কম আলোতে ছবি না তোলাই ভাল।

তবে ছবি তোলার ক্ষেত্রে অন্তত নয়েজ কম রাখার জন্য প্রফেশনাল মোডটি ব্যবহার করা যেতে পারে – যার মাধ্যমে ফোকাসিং, আইএসও ও শাটার স্পিড নিজ থেকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে কিছুটা ভাল ছবি তোলা সম্ভব। এরপরও অবশ্য ডিটেইলের ঘাটতি রয়েই যাবে- সে ব্যাপারে কিছু করার নেই।

IMG_20170405_181552

টেক এনিটাইম মোডে ক্যামেরাটি শাটার চাপার আগে থেকেই ছবি ধারণ করতে শুরু করে। ফলে দ্রুত ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার চিত্রও ধারণ করা সম্ভব। জিআইএফ ক্যামেরার মাধ্যমে অ্যানিমেটেড ছবি বা জিআইএফ ফরম্যাটে ঘটনা রেকর্ড করা যাবে।

সেলফি ক্যামেরাতে ধারণ করা ছবিগুলোতেও বেশ ভাল পরিমান নয়েজ রিডাকশন ও বিউটিফাই ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে চেহারার ডিটেইল ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ ডিটেইলবিহীন মনে হতে পারে, যা ১৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ভিডিওর ক্ষেত্রেও প্রায় একই কথা বলা যেতে পারে, তবে ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন থাকার ফলে অযথা কাপুঁনি দেখা যাবে না। তবে ডিটেইলে প্রচুর ঘাটতি, ডাইনামিক রেঞ্জের অভাব ভিডিওগুলোর প্রানশক্তিই কেড়ে নিয়েছে অনেকটাই।

সব মিলিয়ে, হেলিও এস২৫ দাম অনুসারে ক্যামেরা পারফরমেন্সে আহামরি কিছু দেখাতে পারেনি।

সাউন্ড কোয়ালিটি
ভলিউম বা ইকুইলাইজার – দুটি দিক থেকেই ফোনটি বেশ এগিয়ে রয়েছে। বাধ সেধেছে স্টেরিও ডিস্টরশন, নয়েজ ও স্যাম্পলিং রেট।

হঠাৎ করেই এদিকগুলো চোখে না পরলেও, ভাল মানের একটি প্লেয়ারে একই গান শোনার পর ফোনটির ব্যার্থতাগুলো প্রকট হয়ে উঠবে।

DSC00636 (2)

তবে যারা সাউন্ডের মান নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না, শুধু উচ্চ ভলিউম ও বেস হলেই চলবে তাদের জন্য ফোনটি যথেষ্ট।

সফটওয়্যার
ফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০-এর কাস্টমাইজ করা সংস্করণের ভাল ও খারাপ উভয়ই বিরাজমান। প্রথমত, ডুয়াল উইন্ডো থাকার ফলে একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো যেতে পারে – নিঃসন্দেহে বেশ কাজের।

টাস্ক সুইচারটিতে আইওএস লুক দেয়া হয়েছে, সেটিংসএ ও আনা হয়েছে বেশ ভিন্নতা। স্ক্রিনশট নেওয়ার সময় অটো স্ক্রোল বা কিছুটা যায়গা শট নেবার সুবিধাটিও তারিফ করার মতো।

তবে নিচ থেকে ওপরে সোয়াইপ করে নোটিফিকেশন টগল আনার ব্যবস্থা, ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে জেসচার থাকার ফলে হোম বাটন চাপার সময় সাইডবার চলে আসা বিরক্তিকর।

সবচাইতে বিরক্তিকর বলা যেতে পারে, বেশ কিছু ফিচারের নাম উল্টোপাল্টাভাবে লেখা রয়েছে। মনে হতে পারে চাইনিজ ফার্মওয়্যার কেউ কাঁচা ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্বল জিপিউর কারণে মাঝে মাঝে ল্যাগ তো রয়েছেই। ফোনের সঙ্গে দেওয়া সকল অ্যাপ্লিকেশনই ফোন অ্যাক্সেস বা এসএমএস একসেস চাওয়ার প্রবণতাও বিরক্তি তৈরি করে। মিউজিক অ্যাপ বা ভিডিও অ্যাপের কেন কল লগ পড়তে হবে- চিন্তার বিষয় বটে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, ফোনটির অপারেটিং সিস্টেমটির আরও কিছু উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটির স্ট্যান্ডবাই টাইম অসাধারণ। অব্যবহৃত অবস্থায় ব্যাটারি ড্রেইন নেই বললেই চলে। তবে ব্যবহারের সময় বেশ দ্রুতই চার্জ কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

চার্জিং টাইমও নেহাত কম নয়। একদিনের বেশি চার্জ থাকবে এমন আশা করা ভুল হবে।

পরিশেষ
সিম্ফোনির ফোনটিকে বলা যেতে পারে, ২০১৪ সালের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর মতো শক্তিশালী ও ফিচারবহুল। এখনকার বিচারে এটি মিড-রেঞ্জ; কিন্তু বাধ সেধেছে এর মূল্য।

প্রায় ২২ হাজার টাকা দামের ফোনটির পারফরমেন্স একই দামের অন্যান্য ফোনের চেয়ে বেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এখনকার স্মার্ট ক্রেতারা এ বিষয়গুলোতে অনেক সচেতন। তারা বাজার যাচাইয়ের পাশাপাশি ফোনগুলোর রিভিউ ও টুকিটাকি তথ্য বেশ আমলে নিয়ে থাকেন।

মূল্য : সিম্ফোনির কাছ থেকে ২১ হাজার ৯৯০ টাকায় ফোনটি কেনা যাবে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড ও ডিজাইন
  • ডিসপ্লে
  • কিছু ইউজার ইন্টারফেস সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • পারফরমেন্স
  • ক্যামেরার ডিটেইল, ডাইনামিক রেঞ্জ, ও কিছু লেন্স ডিস্টরশন
  • সাউন্ড কোয়ালিটি

*

*