Maintance

রেডমি নোট ৪এক্স : ক্যামেরার খুঁত বাদে মাঝারি মূল্যে সেরা

প্রকাশঃ ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মার্চ ১৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:১৪ অপরাহ্ন, মার্চ ১৬, ২০১৭

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমি রেডমি নোট ৪এক্স বা নোট ৪ স্ন্যাপড্রাগন ফোনটির জন্য প্রচুর শাওমি ভক্তরাই অপেক্ষায় ছিলেন। মূলত রেডমি নোট ৪ ফোনটির মিডিয়াটেক প্রসেসরটি বদলে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে। মডেলটি এর আগের রেডমি নোট ৩ প্রো ফোনটির উত্তরসূরী বলা যেতে পারে।

তবে নোট ৩ প্রো-এর মতো ফোনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।চলুন দেখা যাক এটির হাল হকিকত।

gsmarena_003

এক নজরে রেডমি নোট ৪এক্স

  • ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি। ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫, ২ গিগাহার্জ গতির অক্টাকোর কর্টেক্স এ৫৩ ৬৪বিট প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ৩ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড সিম স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি এমআই-ইউআই অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৩ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার ব্যাক ক্যামেরা, ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও ডুয়ালটোন ফ্ল্যাশ
  • ১০৮০পি, ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড ভিডিও ধারণক্ষমতা
  • ৫ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও
  • মাইক্রো-ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • ইনফ্রারেড ব্লাস্টার (রিমোট কন্ট্রোলের জন্য)
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • খোলার অযোগ্য ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

Xiaomi-Redmi-Note-4X-v

ডিজাইন
রেডমি নোট সিরিজের অনান্য ফোনের সঙ্গে ডিজাইনে এটির তেমন পার্থক্য নেই। পেছনের ঠিক মাঝে রয়েছে ব্যাক ক্যামেরা, যার নিচে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ ও ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-4

পুরো বডি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হলেও উপরে ও নিচে প্লাস্টিকের দুটি প্যানেল রয়েছে – যেগুলোর মূল কাজ রেডিও সিগন্যাল আদানপ্রদান করার অ্যান্টেনাটির জন্য বাঁধাবিহীন জায়গা করে দেওয়া।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-3-1

ডানে রয়েছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন, বাম পাশে রয়েছে সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে। উপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও আই-আর ব্লাস্টার ও নিচে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রো-ইউএসবি জ্যাক।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-16

সামনে ৫.৫ ইঞ্চি বিশাল ডিসপ্লেটির নিচের দিকে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ বাটন এবং উপরে হেডসেট স্পিকার, সেলফি ক্যামেরা ও কিছু সেন্সর।

সব মিলিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের ধাতব বডির ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি খুবই ভাল। নোট ৪ এর চাইতে এটি হাতের সঙ্গে আরও ভালভাবে মানিয়ে যায়। ফ্রেমের সাইডগুলো বেশ গোলাকার করা হয়েছে।

তবে কিছুটা খুঁত ধরতে গেলে বলা যেতে পারে, পেছনের অ্যালুমিনিয়ামের অংশের সঙ্গে প্লাস্টিকের অংশগুলোর রঙ বেশ বেমানান। মূলত গোল্ড ও গ্রে কালারের ক্ষেত্রে সমস্যাটি কিছুটা প্রকট হলেও তেমন বড় সমস্যা নয়।

xiaomi-redmi-note-4x-review-03

ডিসপ্লে
শাওমি বরাবরের মতই নোট সিরিজে ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে। নোট ৩ বা ৪-এর তূলনায় এবারের ডিসপ্লেটি বেশ উজ্জ্বল ও আরও ভালো কালার দেখাতে সক্ষম।

ডিসপ্লেটির কালার ব্যালেন্স কিছুটা ওয়ার্ম এবং সফটওয়্যারে সেটি বদলানোর সুবিধা রয়েছে। কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

যদিও রেজুলেশন ও সাইজের কারণে ভিআর কনটেন্ট উপভোগ করতে কিছুটা পিক্সেলেশন সহ্য করতে হবে। অবশ্য বাজেট অনুযায়ী এর চাইতে ভাল ডিসপ্লে আশাও করা যায় না।

পারফরমেন্স
কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ মূলত মাঝারি পারফরমেন্সের প্রসেসর। ৬০০ সিরিজের বেশ নিচের দিকের এ প্রসসেরে হাই পাওয়ারের কোনও কোর নেই।

ফলে এটির প্রসেসিং পারফরমেন্সে মিডিয়াটেক প্রসেসর সমৃদ্ধ নোট ৪-এর চাইতে খুব একটা বেশি নয়, যা হয়ত কিছু ব্যবহারকারীদের হতাশ করবে।

অন্যদিকে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাড্রিনো জিপিউটি সাধারণত সমমানের মিডিয়াটেক প্রসেসরের মালি সিরিজের জিপিউর চাইতে বেশি শক্তিশালী হওয়ায় সব মিলিয়ে কিছুটা ভাল গেইমিং বা স্মুথ অপারেশন পাওয়া যাবে ডিভাইসটিতে।

আনটুটু বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী ডিভাইসটির স্কোর ৬০,০০০ – যা ফ্ল্যাগশিপ স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ চিপের চাইতে অনেক কম। এ স্কোর মাঝারি মানের সব ফোন বা স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ চিপসমৃদ্ধ ফোনগুলোর কাছাকাছি।

এ কারণে বলা যেতে পারে ফোনটিতে প্রায় ৯৮% গেইম বা অ্যাপ্লিকেশন খুব ভালো ভাবে খেলা বা চালানো যাবে। এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার দরকার নেই।

antutu

র‌্যামের দিক থেকেও ফোনটি এগিয়ে রয়েছে। সর্বনিম্ন ৩ গিগাবাইট ও সর্বোচ্চ ৪ গিগাবাইট পর্যন্ত র‌্যাম সমৃদ্ধ ফোনগুলোতে মাল্টিটাস্কিং নিয়ে কখনই ঝামেলায় পরতে হবে না।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, বাজেট অনুসারে ভাল পারফরমেন্সের ডিভাইস রেডমি নোট ৪এক্স। যারা কেনার কথা চিন্তা করছেন, তারা চোখ বুঁজে কিনে ফেলতে পারেন।

সাউন্ড
সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে রয়েছে। হাই-ফাই অডিও প্লেব্যাক অপশন থাকায় লসলেস ফ্ল্যাক ফরম্যাটের গান চালানো যাবে সহজেই।

স্পিকারে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালো হলেও ভলিউম কিছুটা কমিয়ে না রাখলে সাউন্ড একটু ফেটে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

হেডফোনে সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো শোনায়, যদিও ডেডিকেটেড অ্যাম্প না থাকায় ভলিউম কিছুটা কম। এ বাজেটে এর চাইতে বেশি আশা না করাই ভালো।

ক্যামেরা
শাওমি রেডমি নোট ৪এক্সে সনি আইএমএক্স২৫৮ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি রেডমি প্রো ফোনেও ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবির মানের দিক থেকে তাই তেমন নতুনত্ব নেই।

ক্যামেরাটির f/2.0 অ্যাপার্চার বেশ আলো প্রবেশ করতে দেওয়ায় ছবিগুলো বেশ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার। তবে কালার ব্যালেন্স, ডিটেইল ও ডাইনামিক রেঞ্জের বেশ ঘাটতি রয়েছে।

ক্যামেরাটির ফেস ডিটেকশন অটোফোকাস কিছুটা ধীরগতির। এতে দ্রুত পরিবর্তনশীল কোনও দৃশ্য ধারণ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় ভিডিও ধারণের সময় কিছুটা কাঁপাকাঁপি রয়েই যায়।

সেলফি ক্যামেরাটি কাজ চালানোর মতো হওয়ায় সেলফিপ্রেমীরা তেমন মজা পাবেন না।

নীচে কিছু ক্যামেরা স্যাম্পল দেয়া হলো।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-3 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-8 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-5 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-4

ব্যাটারি
মাঝারি মানের চিপসেট ও আকারে বিশাল ব্যাটারির কারণে ফোনটি চার্জ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রাজা হবে সেটি নতুন নয়। ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারিটি অন্তত ১১ ঘন্টা পর্যন্ত স্ক্রন অন টাইম বা ফোন ব্যাবহারের সুযোগ দেবে।

স্ট্যান্ডবাই রাখলে দু’দিন পর্যন্ত চার্জ না করেই ব্যবহার করা সম্ভব। যারা প্রতিদিন দু-তিন বার চার্জ দেওয়া নিয়ে বিরক্ত তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।

সর্বশেষ
ভালো ডিজাইন, বিল্ড কোয়ালিটি, ব্যাটারি লাইফ ও মানানসই পারফরমেন্সের বিচারে রেডমি নোট ৪এক্স এই দামে অদ্বিতীয়। ক্যামেরা পারফরমেন্সে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও এ বাজেটে বিকল্প পাওয়া খুবই মুশকিল।

যারা এ ফোন কেনার চিন্তা করছেন; কিন্তু কিছুটা বেশি দাম দিয়ে ৪এক্স না কিনে ৪ মডেল কেন কিনবেন না, সেটি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না- তাদের বলা যেতে পারে, সাধারণত স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোনগুলো দ্রুত অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পেয়ে থাকে ও থার্ড পার্টি রম চালানোর সুবিধা ভোগ করে।

যাদের এসব তেমন প্রয়োজন নেই, তারা নোট ৪ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন; কিন্ত টেক-অনুরাগী ক্রেতারা অবশ্যই নোট ৪এক্স বেছে নেবেন।

দাম : ১৭ বা ১৮ হাজার টাকায় বাজারে পাওয়া যাবে।

এক নজরে ভালো

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • মূল্য অনুসারে পারফরমেন্স
  • ব্যাটারি লাইফ
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি
  • স্টোরেজ, বিল্ট-ইনের পরিমান ও কার্ড ব্যবহারের সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • ক্যামেরা মাঝারি মানের
  • এক সঙ্গে দুটি সিম ও মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা নেই

*

*