আসুস এক্স৫৪০এলজে : দামেও মাঝারি কাজেও তাই

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ল্যাপটপ কেনার সময় সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তরুনদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় ভার্সিটিতে ওঠার পরপরই ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজন হয়। অথচ সেই সময় হাতে তেমন বাজেট থাকে না। বেশ দেখে শুনেও খুব ভালো স্পেসিফিকেশনের ল্যাপটপ জোটানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

তবে হতাশ হবার কারণ নেই, অল্প বাজেটের মধ্যে সবকিছুই মোটামুটি করা যাবে এমন ল্যাপটপ আছে আসুসের। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি শখের গেইমিংও করতে পারবেন আসুস এক্স৫৪০এলজে মডেল দিয়ে।

এ রিভিউতে থাকছে দেশে বেশ জনপ্রিয় এ ব্র্যান্ডের অপেক্ষাকৃত নতুন এ মডেলের আদ্যোপান্ত।

একনজরে আসুস এক্স৫৪০এলজে

  • কোর আই-থ্রি পঞ্চম প্রজন্মের প্রসেসর (i3 5005U)
  • ৪ গিগাবাইট ডিডিআর থ্রি র‌্যাম
  • ১৫.৬ ইঞ্চি এইচডি স্ক্রিন (১৩৬৬ x ৭৬৮ পিক্সেল রেজুলেশন)
  • এনভিডিয়া ৯২০এম ২ গিগাবাইট ডিডিআর ৩ ভির‌্যাম জিপিউ
  • ১ টেরাবাইট ৫৪০০আরপিএম হার্ডডিস্ক
  • ডিভিডি রাইটার
  • ভিজিএ ওয়েব ক্যামেরা
  • ১০/১০০ মেগাবিট ল্যান, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ
  • ১.৯ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন
বাজেট ল্যাপটপের তূলনায় বেশ ভাল বিল্ড কোয়ালিটির এ ডিভাইস তৈরিতে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। উপরের দিকে ও কিবোর্ডের আশেপাশের অংশে ব্যবহৃত প্লাস্টিকটিতে ব্রাশ করা ধাতব লুক দেওয়া হয়েছে।

ডান পাশে রয়েছে ডিভিডি ড্রাইভ এবং বামে একটি করে ইউএসবি ২, ৩, টাইপ-সি ৫ গিগাবিট পোর্ট, ল্যান পোর্ট, এইচডিএমআই পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, চার্জ পোর্ট ও হেডফোন/মাইক্রোফোন জ্যাক।

এটির স্ক্রিন ও নিচের অংশ তৈরি করা হয়েছে কালো ম্যাট প্লাস্টিক দিয়ে। নম্বরপ্যাডসহ আইল্যান্ড স্টাইল কিবোর্ড ব্যবহৃত হয়েছে।

পারফরমেন্স
কোর আই-থ্রি প্রসেসর নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই। ডুয়াল কোর ১.৯ গিগাহার্জ গতির প্রসেসরটি সাধরণ সব কাজ করতে সক্ষম। যদিও ভারি কাজ, যেমন- ফটোশপ বা ভিডিও এডিটের জন্য ব্যবহার না করাই ভাল। সেক্ষেত্রে বাজেট একটু বাড়িয়ে কোর আই৫ সংস্করণটি কেনাই উত্তম।

এর সঙ্গে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে বড় ভার্চুয়ালাইজেশনের কাজ বা ডিজাইনের কাজ করার জন্যও ল্যাপটপটি খুব বেশি সুবিধার নয়। নিচে প্রসেসরের গিকবেঞ্চ স্কোর দেয়া হলো।

তবে ডুয়াল কোর প্রসেসর ও ৪ গিগাবাইট র‌্যামের ফলে ল্যাপটপটি নেহাত বাজে নয়। সাধারণ অফিস কাজ, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ওয়েব ব্রাউজ করার জন্য ল্যাপটপটি আদর্শ।

তবে ল্যাপটপটিতে এনভিডিয়া ৯২০এম গ্রাফিক্স ব্যবহার করার ফলে কিছুটা গেমিংও করা যাবে। যারা অল্প মূল্যের মাঝে পুরাতন ও কিছু নতুন গেইম খেলার মত একটি ল্যাপটপ খুজছেন তারা এটি কিনতে পারেন।

অন্যদিকে এনভিডিয়া জিপিউ হলেও ৯২০এম এর কাছ থেকে অসাধারণ পারফরমেন্স আশা করাটা ভুল হবে। যারা লো সেটিংস ও ৭২০পি রেজুলেশনে গেইম খেলতে দ্বিধা করবেন না তারা এটিতে লেটেস্ট সব গেইম যেমন রেসিডেন্ট ইভিল ৭, ব্যাটলফিল্ড ১ এর মত গেইমগুলো ৩০ ফ্রেম/প্রতি সেকেন্ড গতিতে খেলতে পারবেন।

পুরোনো গেইমের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটি আরও বাড়বে, যেমন বায়োশক ইনফিনিট গেইমটি ৬০ এফপিএস স্পিডে পর্যন্ত চলতে দেখা গেছে – তবে লো সেটিংসের ওপর যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা
ল্যাপটপের পারফরমেন্সই শেষ কথা নয়। এটির ব্যবহারযোগ্যতা আরও অনেক কিছুর ওপরই নির্ভর করে। একটি একটি করে সেসব দেখা যাক।

  • ব্যাটারি লাইফ : এতে ইউ সিরিজের আই থ্রি প্রসেসর ব্যবহার করার ফলে ব্যাটারি লাইফ নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। ৪-৫ ঘন্টা থেকে ৭ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ আশা করা যেতে পারে। তবে গেইম খেলার সময় ২ ঘন্টার বেশি আশা করা ঠিক হবে না।
  • থার্মাল ডিজাইন : ল্যাপটপটিতে তেমন আহামরি কোনও থার্মাল ডিজাইন করা হয়নি। এ কারণে একটু গরম হবে। বিশেষত গেইম খেলার সময়। তবে সমস্যা হবার পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • কিবোর্ড : আসুস ল্যাপটপের কিবোর্ডগুলো সাধারণত খুব ভাল বা খুব খারাপ নয়। মাঝারি মানের আইল্যান্ড স্টাইল কি ব্যবহার করা হয়। এখানেও কোনো ব্যাতিক্রম নেই। অতএব লম্বা সময় টাইপিংয়ে খুব সমস্যা হবে না। অবশ্যই এর চাইতে ভাল কিবোর্ড রয়েছে।
  • ওয়েবক্যাম : ভিজিএ ওয়েবক্যামটি একেবারে সাধারণ স্কাইপ কল ছাড়া অন্যান্য কাজে তেমন ব্যবহার উপযোগী নয়।
  • অডিও : কাজ চালানোর মত স্পিকার ও মাইক্রোফোন ল্যাপটপটিতে দেওয়া হয়েছে। আসুসের দাবি, প্রফেশনাল কোডেকের সাউন্ড হার্ডওয়্যার ও বেশ বড় ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্সের স্পিকার ব্যবহারের ফলে ভিডিও দেখায় বেশ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় তা দেখাও গিয়েছে। যারা ল্যাপটপের স্পিকারে গান শোনা বা ভিডিও দেখে থাকেন তাদের জন্য বেশ ভাল এটি।
  • ওজন: ১.৯ কিলো ওজনের ল্যাপটপটি বেশ সহজেই বহনযোগ্য।

মূল্য
৩৪,৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আসুসের ডিলারদের কাছ থেকে।

একনজরে ভাল

  • এনভিডিয়া জিপিউ থাকায় হালকা গেমিং করা যাবে
  • কোর সিরিজের প্রসেসর। ফলে ব্রাউজিং বা এইচডি ভিডিও দেখতে সমস্যা নেই
  • দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন
  • মূল্য সাধ্যের মধ্যে

একনজরে খারাপ

  • ভারি কাজের জন্য যথেষ্ট নয়
  • র‌্যাম বাড়ানো বেশ ঝামেলার
  • ফুল প্লাস্টিক বডি

Related posts

*

*

Top