নোকিয়া লুমিয়া ১৩২০ : ফ্ল্যাগশিপ না হলেও উইন্ডোজ ফোনের স্বাদ

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের সবচেয়ে বড় বিকল্প এখন উইন্ডোজ ফোন। কিছুদিন আগে উইন্ডোজ ফোন ৮.১ বের হওয়ার পর থেকে আরও দ্রুত বাড়ছে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা। আর উইন্ডোজ ফোন মানেই এখন নোকিয়ার লুমিয়া। লুমিয়া ১৩২০ ফোনটিতে কম দামের উইন্ডোজ ফোনের সব সুবিধা মিলছে।

ডিজাইন
ফোনটি কেনার সময় সবার আগে এর আকার নিয়ে ভাবেতে হবে। গ্যালাক্সি নোট ৩ এর চেয়েও বড় স্ক্রিন এটির। তাই ব্যবহারের সময় এটি ধরতে বা বহন করতে সমস্যা হতে পারে। এমনিতে এটি ওজনে হালকা, মাত্র ২২০ গ্রাম। লুমিয়া সিরিজের সব ফোনের মতো এতেও চমৎকার ফিনিশিং রয়েছে।

Nokia_Lumia_1320_techshohor

আরেকটি চমৎকার দিক হলো, ফোনের কাভার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করতে পারবেন। লাল, হলুদ, সাদা, কালোসহ বেশ রংয়ের কাভার পাওয়া যাচ্ছে।

ডিসপ্লে
৬ ইঞ্চির প্রশস্ত আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে এতে স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রেজুল্যুশন ৭২০*১২৮০ পিক্সেল, যা স্ক্রিনের আকারের তুলনায় কিছু কমই বলতে হবে। স্ক্রিন নোকিয়ার ক্লিয়ারব্ল্যাক ফিচারসমৃদ্ধ, উপরে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩ এর প্রলেপ আছে।

ক্যামেরা
এর প্রধান ক্যামেরাটি ৫ মেগাপিক্সেল। সঙ্গে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ। ফুল এইচডি কোয়ালিটিতে ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করা যাবে। জিওট্যাগিং, অটোফোকাস, টাচ ফোকাস ইত্যাদি বাড়তি সুবিধা আছে। ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনের দিকে ভিজিএ ক্যামেরা আছে।

কানেক্টিভিটি
থ্রিজি ও ফোরজিসহ এতে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই হটস্পট, জিপিএস, ব্লুটুথ ও মাইক্রোইউএসবি। এফএম রেডিও আছে। স্মার্টফোনের সেন্সরের মধ্যে আছে অ্যাক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি ও কম্প্যাস সেন্সর।

কনফিগারেশন
এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন এস৪ চিপসেট। রয়েছে ১.৭ গিগাহার্জের   ডুয়াল কোর প্রসেসর। জিপিউ অ্যাড্রেনো ৩০৫। র‍্যাম ১ গিগাবাইট, ইন্টারনাল মেমরি ৮ গিগাবাইট। মেমরি কার্ড দিয়ে ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

পারফরম্যান্স
তুলনামূলক সাধারণ ব্যবহারকারীদের উইন্ডোজে ফোনের স্বাদ দিতে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু উইন্ডোজ ফোনের সবগুলো বৈশিষ্ট্য এতে পরিপূর্ণভাবে রয়েছে। স্মার্টফোনের সব সুবিধা- মাল্টিটাস্কিং, ব্রাউজিং, ভিডিও চ্যাট ইত্যাদি স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারবেন। গেইম খেলার সময় বড় স্ক্রিনের জন্য বেশি মজা পাবেন।

অবশ্য স্ক্রিনের মান খুব ভালো না হওয়ায় অ্যান্ড্রয়েডের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর সাথে তুলনা চলে না। আর যারা ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করেন, এর ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সম্ভবত তাদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে না।

ব্যাটারি
এতে ৩৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে টানা ৯৮ ঘণ্টা মিউজিক প্লে করা যাবে এবং ২৫ ঘণ্টা কথা বলা যাবে।

দেশের বাজারে ফোনটির দাম ২৭ হাজার ৯০০ টাকা।

এক নজরে ভালো
– আকর্ষণীয় ডিজাইন, বড় ও প্রশস্ত ডিসপ্লে
– চমৎকার পারফরম্যান্স, দাম কম

এক নজরে খারাপ
– ডিসপ্লে রেজুল্যুশন কম
– ক্যামেরা দুর্বল
– আকারে বেঢপ

Related posts

*

*

Top