Maintance

ইন্সপিরন ১৫-৫৫৬৭ : ডিসপ্লেতে সাধারণ, মানে ও দামে মাঝারি

প্রকাশঃ ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মার্চ ১২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৭ অপরাহ্ন, মে ৩০, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাঝারি মূল্যে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে কেনার জন্য ল্যাপটপ বাছাই করা বেশ কষ্টসাধ্য। প্রায় একই স্পেসিফিকেশনের, কাছাকাছি ডিজাইনের ল্যাপটপ প্রায় সব কোম্পানিই তৈরি করে থাকে। এগুলোর মধ্যে থেকে নিজের পছন্দেরটি কিনতে গিয়ে প্রায়ই ধাঁধায় পড়তে হয়।

আগে থেকে হোমওয়ার্ক করা না থাকলে বিক্রয় কর্মীদের কথার মারপ্যাচে খেই হারিয়ে ফেলতে হবে। এমন বাজেটের ল্যাপটপ যারা কিনতে চান তাদের কথা মাথায় রেখে একটি মডেলের বিস্তারিত নিয়ে এ রিভিউ।

ব্র্যান্ড হিসেবে ডেলকে খুব বেশি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নেই। তবে প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রায়ই নতুন মডেল আনছে এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে একটি মডেলের অনেক কিছু জানার আছে।

এক নজরে ডেল ইন্সপিরন ১৫ ৫০০০ সিরিজ ২০১৬ (১৫-৫৫৬৭)

  • ৭ম জেনারেশন কোর আই ৫ ৭২০০ইউ  প্রসেসর ( ২.৫ গিগাহার্জ, ৩ .১ গিগাহার্জ টার্বো, ডুয়াল – কোর, ৪ থ্রেড)
  • ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লে  (১৯২০x১০৮০ পিক্সেল)
  • ৪ গিগাবাইট ডিডিআর ৪ র‌্যাম
  • এএমডি র‌েডিওন আর৭ এম৪৪৫ জিপিউ, ২ গিগাবাইট ডেডিকেটেড মেমরি (জিডিডিআর ৫)
  • ডিভিডি রম
  • ৩ সেল ব্যাটারি, ৪ ঘন্টা ব্যাকাপ
  • ল্যান, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি
  • ১ টেরাবাইট হার্ড ডিস্ক অথবা ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি

ডিজাইন
গ্লসি প্লাস্টিকে তৈরি ল্যাপটপটি দেখতে তেমন অসাধারণ না হলেও, মূল্যের সঙ্গে মানানসই মানের প্লাস্টিকের কারণে ব্যবহারকারীদের কোনও সমস্যা হবে না। ডান পাশে রয়েছে একটি ইউএসবি ২ পোর্ট, কার্ড রিডার ও ডিভিডি ড্রাইভ। এটির সামনে ও পেছনে কোনও পোর্ট নেই।

বাম পাশে রয়েছে দুটি ইউএসবি ৩ পোর্ট, চার্জিং পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ল্যান পোর্ট ও হেডফোন-মাইক্রোফোন কম্বো জ্যাক।

ল্যাপটপি খুললেই দেখতে পাবেন ১৫.6 ইঞ্চি স্ক্রিন। ঠিক ওপরে ওয়েব ক্যাম ও নিচে কিবোর্ড ও টাচ প্যাড। ডিসপ্লের চারপাশে ম্যাট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হলেও কিবোর্ডে হাত রাখার জায়গাটিতে কিছুটা গ্লসি প্লাস্টিক রয়েছে।

কিবোর্ডের ডান পাশের ওপরের অংশে রয়েছে পাওয়ার বাটন।

ল্যাপটপটির তলায় রয়েছে স্পিকারগুলো ও কুলিং ফ্যান ইনটেক। এ কারণে এটি বিছানায় ব্যবহার না করাই ভাল হবে।  

পারফরমেন্স

সিপিউ : কোর আই-৫ সিপিউগুলো মূলত দৈনন্দিন সকল কাজের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। তবে ইন্টেল বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রসেসিং ক্ষমতার দিকে তেমন নজর না দিয়ে, শুধু ব্যাটারি ব্যবহার কমানোর জন্য গবেষণা করছে।

এ কারণে চতুর্থ প্রজন্মের প্রসেসর সমৃদ্ধ ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের আপগ্রেড করার প্রয়োজন একেবারেই নেই।

বেঞ্চমার্ক স্কোর থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রসেসরটি সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট ভাল। তবে তা সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

তবে ৭ম জেনারেশনে তৈরির কৌশলগত কারণে (১৪ ন্যানোমিটার ট্রানসিস্টর সাইজ) প্রসেসরটি বেশ ভাল ব্যাটারি লাইফ ও কম তাপ উৎপাদন করে থাকে।

অবশ্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই – কেননা প্রসেসরটি ফটোশপ, সাধারণ অফিস কাজ, ব্রাউজিং, মাঝারি গেমিং ও প্রোগ্রামিংয়ের কাজ ভালো ভাবেই করতে প্রস্তুত। যদিও কোনটিই তাক লাগানোর মত দ্রুততার সঙ্গে নয়।

জিপিউ : এএমডি রেডিওন আর৭ এম৪৪৫ – এ বিশাল নামটি দেখে জাঁদরেল একটি জিপিউ মনে হতেই পার। তবে কাজের ক্ষেত্রে এটি খুব ভালো কিছু নয়।

প্রসেসরের সঙ্গে থাকা ইন্টেল এইচডি ৬২০ গ্রাফিক্সের চাইতে এটি দ্বিগুণ পারফরমেন্স দিতে সক্ষম হলেও সত্যিকারের ল্যাপটপ গেমিং গ্রাফিক্স কার্ড- যেমন এনভিডিয়া জিটিএক্স ৯৬০এম এর চাইতে প্রায় তিন গুন কম পারফরমেন্স দিতে পারবে এটি।

dell6

এ নিয়ে এটিকে বাতিলের খাতায় ফেলারও কারণ নেই, কেননা এ বাজেটে আর একটি ল্যাপটপ গ্রাফিক্স কার্ডই বাজারে রয়েছে – এনভিডিয়া জিটি৯৪০এমএক্স, যেটির পারফরমেন্সও ঠিক এম৪৪৫ এর সমান।

এ জিপিউয়ের মাধ্যমে প্রায় সকল গেইম হাই সেটিংয়ে ৩০ এফপিএসে খেলা যাবে। ১২৮০x৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনে ও ফুল ১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে সুবিধা হবে না।

যারা ল্যাপটপে ভিডিও এডিটের কাজ করেন, তারা অবশ্যই জিপিউটির ওপেন সিএল রেন্ডারিং ব্যবহার করে সুফল পাবেন। সেদিক থেকে এ বাজেটে আলাদা জিপিউ ছাড়া ল্যাপটপের চাইতে এটি অবশ্যই ভাল।

স্টোরেজ : এটি মূলত ১ টেরাবাইট ৫৪০০ আরপিএম হার্ডডিস্ক সম্বলিতভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে যদি ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি সম্বলিত সংস্করণটি পাওয়া যায় সেটি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হার্ড ডিস্কটির রিড ও রাইট স্পিড ১০০-১২০ মেগাবাইট/প্রতি সেকেন্ড – যা ভিডিও এডিট বা ফটোশপে ভারি কাজ করার জন্য একেবারেই অপ্রতুল।

অন্যদিকে ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি সম্বলিত সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে স্যানডিস্কের বিজনেস ক্লাস এসএসডি। এটির রিড ও রাইট স্পিড ৫০০+ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড। অনেকের কাছে অবশ্য এটির জায়গা কম মনে হতে পারে।

ব্যবহারিক উপযোগীতা

ডিসপ্লে : ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লে সম্বলিত ল্যাপটপটির রঙ ও ভিউ এঙ্গেলের দিক থেকে বেশ হতাশ করবে। ডিসপ্লেটি এলইডি ব্যাকলাইট সম্বলিত এলসিডি প্যানেল হলেও আইপিএস প্রযুক্তির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে টি-এন প্রযুক্তি।

এ কারণে রঙের ডেপথ বেশ কম। কন্ট্রাস্টের ঘাটতি রয়েছে ও সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে রঙ বদলে যাওয়ার সমস্যা রয়েই গেছে। যদিও এ বাজেটে এর চাইতে ভালো ডিসপ্লের ডিভাইস বাজারে তেমন নেই।

কিবোর্ড ও টাচ প্যাড : চিকলেট কিবোর্ডটি প্রায় সবার কাছেই আরামদায়ক মনে হবে। ফুল নম্বর প্যাড থাকায় এক্সেল ব্যবহারকারীদের কাছে এটি ভালো লাগবে।

তবে কিবোর্ডটি ব্যাকলিট হলে আরও ভাল হতে পারত। সম্ভবত বাজেটের মাঝে রাখার কারণেই সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

টাচপ্যাডটি বেশ প্রশস্ত ও আরামদায়ক। বাটনগুলো টাচপ্যাডের অংশ হবার ফলে যে কোনও জায়গা থেকেই ক্লিক করা যাবে সহজেই।

প্যাডটির ওপর মসৃন প্লাস্টিক ব্যবহার করায় নেভিগেশনেও সমস্যা হবেনা।  

স্পিকার : এটির তলায় থাকা স্পিকার দুটি তেমন জোরালো নয়। সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকেও শুধু কাজ চালানোর মতোই।

থার্মাল ডিজাইন : ল্যাপটপটি সাধারণ ব্যবহারের সময় ফ্যান বন্ধ রেখেই চলতে সক্ষম। তাই বলা যেতে পারে হিট হবার সম্ভাবনা নেই তেমন। ফ্যানগুলোর বাতাস টানার জায়গাগুলো নিচে হওয়ার কারণে ল্যাপটপটি শক্ত টেবিল বা কুলারের ওপর রেখে ব্যবহার করাই ভালো।

গেইম খেলার সময় জিপিউ পুরোদমে চলার কারণে বেশ গরম হতে পারে। 

পোর্ট : মাত্র তিনটি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। সাধারণত এর একটিতে ব্যবহারকারীরা মাউস সংযুক্ত করেন। ফলে বাকি দুটির মধ্যে একটিতে কিবোর্ড যোগ করলে বাকি একটি দিয়ে সব কাজ এক সঙ্গে চালানো মুশকিল।

আলাদা মনিটর বা প্রজেক্টর লাগানোর জন্য দেওয়া রয়েছে একটি এইচডিএমআই পোর্ট। ফলে প্রায় সময়ই এইচডিএমআই টু ভিজিএ অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে।

আলাদা মাইক্রোফোন পোর্ট না থাকার বিষয়টি একটি সমস্যা বলা যেতে পারে। তবে পোর্টের স্বল্পতা আজকাল প্রায় সব ল্যাপটপেরই মূল সমস্যায় পরিণত হওয়ায় আসলে তেমন কিছু করার নেই।

ব্যাটারি লাইফ : তিন সেলের ব্যাটারি চার ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। বাস্তবে অবশ্য তিন ঘন্টার বেশি আশা না করাই ভাল।

মূল্য : দেশের বাজারে ৫৩ থেকে ৫৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভাল

  • মূল্য অনুযায়ী ভালো প্রসেসর, জিপিউ
  • ফুল এইচডি ডিসপ্লে
  • ভাল থার্মাল ডিজাইন
  • র‌্যাম বাড়ানোর সুবিধা
  • ডিভিডি রম থাকায় পরে আরও স্টোরেজ বাড়ানোর সুবিধা
  • ভাল বিল্ড

এক নজরে খারাপ

  • টি-এন প্যানেল ডিসপ্লে, কন্ট্রাস্ট ও কালারে ঘাটতি
  • সাধারণ স্পিকার
  • সাধারণ ব্যাটারি লাইফ
  • গ্লসি প্লাস্টিকে আঙুলের ছাপ পড়ার সম্ভাবনা

এ রিভিউ তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস. এম. তাহমিদ

*

*