এসার অ্যাস্পায়ার আর৭ : ট্যাব-ডেস্কটপ একাকার

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উইন্ডোজ ৮ বের হওয়ার পর থেকে হাইব্রিড ডিভাইসের ধুম পড়েছিল। টাচ ও সাধারণ ইনপুটের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় অনেক ডিভাইস বাজারে এনেছিল কোম্পানিগুলো। সে ধারা যে এখনও থামেনি, তার প্রমাণ এসারের অ্যাসপায়ার আর৭।

ল্যাপটপ, ট্যাব ও ডেস্কটপের হাইব্রিড এ কম্পিউটারকে শুরুতে উদ্ভট মনে হতে পারে। কিন্তু কেউ কেউ এর মধ্যে নতুন ফ্লেভার খুঁজে পাবেন।

acer aspire R7_techshohor

ডিজাইন
অ্যাসপায়ার আর৭ দেখতে বড়সড় নোটবুকের মতো। কিন্তু লিড খুললে ডেস্কটপের মতো রূপ নেবে। লিড অ্যাডজাস্ট করার জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ একটি কিকস্ট্যান্ড, যাকে ইজেল হাইঞ্জ বলা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিভাইসটির ডিজাইন খুবই আকর্ষণীয় ও উঁচুদরের। ওজন ৫.৪ পাউন্ড ও পুরুত্ব ১.১২ ইঞ্চি। কিছুটা ভারী বটে কিন্তু সহজে ব্যাগে নিয়ে বহন করা যাবে।

ডিসপ্লে
১৫.৬ ইঞ্চির আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে সহজে নজর কাড়বে। ডিসপ্লে রেজুল্যুশন ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল। ছবির মান খুবই চমৎকার ও উজ্জ্বল। ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল ও কালার ব্যালেন্সও ভালো। মুভি দেখার উপযোগী স্ক্রিন বলা যায় একে।

কনফিগারেশন
হার্ডওয়্যারের দিক দিয়ে খুবই শক্তিশালী হাইব্রিড ডিভাইসটি। চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই৫ ১.৮ গিগাহার্জ প্রসেসরের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টেল এইচডি ৪৪০০ ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স, ৬ জিবি র‌্যাম ও ৫০০ জিবি হার্ডডিস্ক। তবে এসএসডি নেই। ডিসপ্লের ওপর একটি ওয়েবক্যাম আছে। চমৎকার অডিওর জন্য চারটি স্পিকার রয়েছে।

কানেক্টিভিটি
এতে তিনটি ইউএসবি ৩.০ পোর্ট, একটি এইচডিএমআই ও একটি ৩.৫ মিলিমিটার জ্যাক রয়েছে। ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ আছে। চিকলেট স্টাইলের কিবোর্ড আরামে ব্যবহার করা যাবে। ট্র্যাকপ্যাডটি কিবোর্ডের নিচের বদলে উপরে অবস্থিত।

অবশ্য যেহেতু উইন্ডোজ ৮ টাচস্ক্রিনের উপর ভিত্তি করেই অনেকে ব্যবহার করবেন, তাই সেটা তেমন সমস্যা নয়। এর বাইরে পেন ইনপুটের জন্য একটি প্রেশার সেন্সিটিভ স্টাইলাস রয়েছে।

পারফর্ম্যান্স
শক্তিশালী র্যাম ও প্রসেসরের সমন্বয়ে এর পারফর্ম্যান্স সর্বোচ্চ পর্যায়ের হওয়াই স্বাভাবিক। মাঝারি ও কিছুটা হাই গ্রাফিক্সের গেইমও খেলা যাবে। উইন্ডোজ ৮ এর মসৃণ ইন্টারফেস ও গতি পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে। সাধারণ থেকে হার্ডকোর ইউজারদের বেশিরভাগ প্রয়োজনই মেটাবে এক কথায়।

ব্যাটারি
এতে ৩৫৬০ মিলিঅ্যাম্পের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো ব্যাকআপ দেবে।

দেশের বাজারে এর দাম ৯৬ হাজার টাকা।

এক নজরে ভালো
– ইউনিক ডিজাইন ও ব্যতিক্রমী ইউজার এক্সপেরিয়েন্স
– শক্তিশালী পারফর্ম্যান্স
– পেনসহ সব ধরনের ইনপুট সুবিধা
– উন্নত ডিসপ্লে

এক নজরে খারাপ
– পুরুত্ব বেশি
– অনেকের ব্যবহারে বেশ অসুবিধা হতে পারে

Related posts

*

*

Top