গেইমারদের পছন্দসই হেডসেট রেজারের ক্রাকেন প্রো

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উচ্চমানের গেইম সামগ্রী তৈরির জন্য বিখ্যাত কোম্পানি তাইওয়ানের রেজার। এক্সক্লুসিভ ফিচার সমৃদ্ধ অনেক অ্যাক্সেসরিজও তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে তাদের পণ্য প্রিমিয়াম ও হাউএন্ড ইউজারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গেইমিং মাউস ও কিবোর্ড দিয়ে গেইমারদের মন জয় করার পর গেইমিং হেডসেট বাজারে আনে তারা। রেজারের এমন একটি বিখ্যাত হেডসেট ক্রাকেন প্রো।

হার্ডকোর গেইমারদের পাশাপাশি যারা হেডফোন থেকে হাই বেজ অডিও এক্সপেরিয়েন্স চান তাদের জন্য চমৎকার হতে পারে এটি।

Razer Kraken Pro_techshohor

রেজারের বেশিরভাগ পণ্যই একটু বড় আকারের, ফিউচারিস্টিক স্টাইলের হয়। সেখানে প্রাধান্য পায় তাদের ব্র্যান্ডের সবুজ ও কালো রঙ। ক্রাকেন প্রো-র উজ্জ্বল সবুজ রংকে প্রথম দেখায় পছন্দ না হতে পারে; কিন্তু সব মিলিয়ে এটি ডিজাইনের সাথে দারুণ মানিয়ে গেছে। এ ছাড়া এটি মূলত প্লাস্টিকে তৈরি হলেও মজবুত গড়নের। ইয়ার কাপ দুটির ওপর মেটাল আবরণ রয়েছ।

হেডব্যান্ডটি ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিকে তৈরি। তাই যে কারও মাথায় সহজে বসে যাবে। বেশ শক্তভাবে এঁটে থাকবে, সহজে খুলে পড়ার সম্ভাবনা নেই। নরম লেদারের আবরণ থাকায় পরতে কোনো অস্বস্তি হবে না। তবে ওজন বেশি হওয়ায় অনেকের মাথায় ভারী লাগতে পারে।

ইয়ার কাপ দুটি দুই কানকে সম্পূর্ণ ঢাকার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। এটিও যথেষ্ট আরামদায়ক, দীর্ঘ সময় স্বাচ্ছন্দ্যে পরে থাকা যাবে। ইয়ার কাপ দুটির সমস্যা হলো- এরা সম্পূর্ণ ফিক্সড, টিল্ট করা যাবে না।

এটি প্রধানত পিসি গেইমারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই পিসির সাথে কানেক্ট করার মূল মাধ্যম ইউএসবি। তবে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাকও রয়েছে, যার ফলে পিসি বা স্মার্টফোনের অডিও জ্যাকে সংযুক্ত করা যাবে। ভলিউম বাড়ানো-কমানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই পুরো হেডসেটে, যা অনেকের জন্য সমস্যা হতে পারে।

সর্বোচ্চ গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করার জন্য এর প্রতিটি ইয়ার কাপের ভেতর ৪০ মিলিমিটার ড্রাইভার রয়েছে। এ ড্রাইভার নিখুঁত বেজের জন্য বিশেষভাবে টিউন করা। তাই গোলাগুলির শব্দ, গাড়ির শব্দ ইত্যাদি রীতিমতো নিখুঁত হয়ে উঠবে। যে কোনো গেইমেই সন্তুষ্ট হওয়ার মতো সাউন্ড দেবে এটি।

এ ছাড়া গান শোনা, মুভি দেখার ক্ষেত্রে হাই বেজ আলাদা স্বাদ দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত বেজ অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে।

হেডফোনটি অ্যানালগ প্রকৃতির হওয়ায় কৃত্রিমভাবে সারাউন্ড সাউন্ড তৈরি করতে পারে না, যা এর আরেক দুর্বলতা। এদিক থেকে চিন্তা করলে দাম কিছুটা বেশিই বলতে হবে, ৮ হাজার টাকা।

পাওয়া যাচ্ছে কম্পিউটার সোর্সে। তারপরও রেজারের পণ্যের অভিনবত্বের সবটুকুই এর মধ্যে পাওয়া যাবে।

এক নজরে ভালো
–        দেখতে খুবই সুন্দর
–        পরতে আরামদায়ক
–        বেজের জন্য বিশেষভাবে টিউন্‌ড

এক নজরে খারাপ
–        দাম বেশি
–        অ্যানালগ স্টেরিও সাউন্ড, সারাউন্ড নয়
–        ভলিউম রকার নেই

Related posts

*

*

Top