নেটবুকের বিকল্প গ্যালাক্সি ট্যাব প্রো

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সদ্য শেষ হওয়া কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শোতে স্যামসাংয়ের বড় চমক ছিল বড় আকারের ট্যাব। তাদের দুটি জনপ্রিয় ট্যাবলেট সিরিজ গ্যালাক্সি ট্যাব ও গ্যালাক্সি নোটের স্ক্রিন বড় করে এবং আরও উন্নত কনফিগারেশন যোগ করে বাজারে আনতে যাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিটি।

তবে ঘরোয়া ব্যবহারের বদলে প্রফেশনালদের ব্যবহারের জন্য ট্যাব দুটি বিশেষ উপযোগী। দুটির কনফিগারেশন প্রায় একই। কেবল পার্থক্য, নোট প্রো-তে অতিরিক্ত এস-পেন আছে, যা গ্যালাক্সি নোটথ্রি বা নোট ১০.১ এ আমরা আগে দেখেছি। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী অবশ্য ট্যাব প্রোকেই বেছে নেবেন তুলনামূলক কম দামের জন্য। তাই এর ভিত্তিতে রিভিউ করা হয়েছে।

samsung-tab-pro_techshohor

ডিজাইন
নতুন গ্যালাক্সি নোট সিরিজের ডিজাইন এতে ব্যবহার করে হয়েছে। আকারে প্রায় নেটবুকের সমান স্ক্রিন সত্ত্বেও ওজন খুবই কম- মাত্র ৭৩২ গ্রাম। গ্যালাক্সি সিরিজের সব ডিভাইসের মতো এটিও দারুণ স্লিম এবং আউটলুক প্রথম দেখায় নজর কাড়ার মতো। এর পেছন দিকে লেদার ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর ডিজাইনকে দারুণ রুচিশীল করেছে। অর্থাৎ এত বড় আকার সত্ত্বেও এতে বিন্দুমাত্র বেঢপ ভাব নেই। স্যামসাংয়ের পরিচ্ছন্ন ফিনিশিং এর সৌন্দর্য যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডিসপ্লে
আপনি যদি ট্যাব প্রো কিনতে ইচ্ছুক হন, তাহলে সম্ভবত এর ডিসপ্লের প্রেমে পড়বেন প্রথম নজরেই। ১২.২ ইঞ্চির সুপার এলসিডি ডিসপ্লে অনেক হাইএন্ড ল্যাপটপকে লজ্জায় ফেলে দেবে। ডিসপ্লে রেজুল্যুশন ২৫৬০*১৬০০ পিক্সেল। প্রশস্ত, ঝকঝকে এ ডিসপ্লেতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এক কথায় অতুলনীয়।

কানেক্টিভিটি
কানেক্টিভিটির দিক দিয়ে স্যামসাং সব সময়ই এক নম্বর। এত বড় ডিভাইসেও সিম প্রয়োজন হতে পারে তা ভোলেনি তারা। তাই ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই হটস্পটের পাশাপাশি টুজি ও থ্রিজি রয়েছে। ফোরজির পৃথক একটি ভার্সন আছে। ইনফ্রারেড ও ইউএসবি থ্রিসহ অ্যান্ড্রয়েডের উপযোগী সব সেন্সর রয়েছে।

ক্যামেরা
রীতিমতো ল্যাপটপের সমান ট্যাবকে নিশ্চয়ই কেউ ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহার করবেন না। তারপরও এতে ৮ মেগা পিক্সেলের ফ্ল্যাশসহ ক্যামেরা যোগ করা হয়েছে। ক্যামেরায় গ্যালাক্সি এস৪ বা নোট৩ এর সব ফিচার রয়েছে। ভিডিও চ্যাটের জন্য ২ মেগা পিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা আছে।

কনফিগারেশন
স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সাইনস ৫ অক্টা চিপসেট এতে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রসেসর কোয়াড কোর ১.৯ গিগাহার্জ কর্টেক্স এ-১৫ (বা এ-৭), জিপিইউ মালি টি৬২৮ এমপি৬। র‍্যাম ৩ গিগাবাইট, ইন্টারনাল মেমরি ৩২ ও ৬৪ জিবির ভার্সনে রয়েছে। মাইক্রো এসডি লাগানো যাবে।

পারফর্ম্যান্স
স্যামসাং ডিভাইসের পারফর্ম্যান্স নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তা কম বেশি সবাই জানেন। এতে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ এডিশন ৪.৪ কিটক্যাট ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন। গ্যালাক্সি এস৪ বা নোট৩ বা ট্যাব৮ এ যে রকম শতভাগ নিখুঁত অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন গ্রাহকরা, এবারও তাই পাবেন। যে কোন অ্যাপ বা গেইম সর্বোচ্চ কোয়ালিটিতে রান করতে পারবেন।

সফটওয়্যার
স্যামসাংয়ের চিরচেনা টাচ উইজ ইউজার ইন্টারফেস এতেও ব্যবহার করা হয়েছে। স্যামসাং হাব, কাস্টোমাইজড ফ্লিপ বোর্ড, এস ভয়েসসহ স্যামসাংয়ের নিজস্ব অনেক অ্যাপতো আছেই। বড় ডিসপ্লেকে কাজে লাগানোর বিশেষ ধরনের মাল্টি-উইন্ডো সুবিধা রয়েছে, যাতে চারটি অ্যাপ এক সঙ্গে চালানো যাবে।

ব্যাটারি
৯৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি ডিভাইসটির পাওয়ারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নন রিমুভেবল এবং যথেষ্ট সময় ব্যাকআপ দেবে।

এক নজরে ভালো
–        নেটবুকের আদর্শ বিকল্প
–        আকর্ষণীয় ডিজাইন, ডিসপ্লে ও ফিচার
–        অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট, নিখুঁত পারফর্ম্যান্স

এক নজরে খারাপ
–        ট্যাব বা নোটের অন্যান্য ভার্সন থেকে নতুন কিছু নেই
–        এত শক্তিশালী ক্যামেরার বদলে দাম কিছুটা কম রাখা যেত
–        বিল্ট-ইন কিকস্ট্যান্ড নেই

Related posts

টি মতামত

*

*

Top