Maintance

সারফেস প্রো ৪ : ক্যামেরা ছাড়া সবকিছুই স্টাইলিশ

প্রকাশঃ ১:৪৭ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ৩১, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬

ফারজানা মাহমুদ পপি, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ল্যাপটপকে জাদুঘরে পাঠানোর মতোই স্লোগান নিয়ে মাইক্রোসফট বাজারে আনে সারফেস ট্যাবলেট। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের শেষ দিকে আসে সারফেস প্রো ৪। দামটা বেশি হলেও ইতিমধ্যেই বাজার মাত করেছে ল্যাপটপ কাম ট্যাবলেটটি।

সফটওয়্যার জায়ান্টটি ডিভাইসের প্রতিযোগিতায় সারফেসের মাধ্যমে একটু হলেও জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। কেননা স্মার্টফোনে এখন পর্যন্ত খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি মাইক্রোসফট।

Surface Pro 4-TechShohor

পাঁচটি ভিন্ন মডেল
দাম ও প্রয়োজনীয়তার বিচারে পাঁচটি ভিন্ন মডেলের সারফেস প্রো ৪ বাজারজাত করা হয়েছে। প্রথমত মধ্যমানের মডেলটিতে রয়েছে ৬ষ্ট জেনারেশনের ২.৪ গিগাহার্জের ইন্টেল কোর আই ৫-৬৩০০ইউ প্রসেসর। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিক্স ৫২০, ৮ গিগাবাইট মেমরি ও ২৫৬ গিগাবাইটের সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি)।

বাজেট ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ইন্টেল কোর আই ৩ প্রসেসরের ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ১২৮ গিগাবাইটের স্টোরেজের মডেল। এতে সব থেকে বেশি দামের মডেলের ফিচার হিসেবে রয়েছে ইন্টেল কোর আই ৭ প্রসেসর, ১৬ গিগাবাইটের র‍্যাম ও ৫১২ গিগাবাইটের মেমরি।

অসাধারণ ডিসপ্লে
সারফেস প্রো ৪ -এ ২৭৩৬ বাই ১৮২৪ পিক্সেল রেজুলেশনের ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চির টাচ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের থ্রিডি পারফরমেন্স দেবে। তবে ডিভাইসটিতে নামমাত্র বেজেল থাকায় এটি সারফেস প্রো থ্রির আকারে সমান। সারফেস প্রো থ্রিতে আছে ১২ ইঞ্চির ডিসপ্লে।

ট্যাবলেটটির ডিসপ্লে সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে করনিং গরিলা গ্লাস ফোর। এ ছাড়া এর সঙ্গে আছে একটি স্টাইলাস। এ স্টাইলাসকে সারফেস পেন নাম দেওয়া হয়েছে।

একটি মাত্র ইউএসবি পোর্টে ভোগান্তির সম্ভাবনা
ডিজাইনের দিক থেকে সর্বোচ্চ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ট্যাবটিতে। উপরে সারফেস ৩-এর মতোই ভলিউম বাটনের পাশেই পাওয়ার বাটন রয়েছে।

এ ছাড়া রয়েছে মিডি ডিসপ্লে পোর্ট কানেকটর, মাইক্রো এসডি কার্ড রিডার, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.০। তবে ট্যাবটির অন্যতম একটি দুর্বলতা হলো এর একটি মাত্র ইউএসবি ৩.০ পোর্ট। ফলে পোর্টটি কোনো কারণে নষ্ট হলে বেকায়দায় পড়তে হবে ব্যবহারকারীকে।

কিকস্ট্যান্ড
সারফেস প্রো ৩-এর কিকস্ট্যান্ড থেকে এ ট্যাবেও একই ধরণের কিকস্ট্যান্ড রয়েছে। স্টেজ মুডে ৩০ ডিগ্রি কোনে দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। এরপর কয়েকটি ধাপে ১৫০ ডিগ্রি কোন পর্যন্ত ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ট্যাবলেটটি সহজেই কোলে বসিয়ে কাজ করা যায়।

Surface-Pro-4-TechShohor-1

পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে উইন্ডোজ হ্যালো
এর অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ এর সঙ্গে রয়েছে ‘উইন্ডোজ হ্যালো’ নামের ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে আপনি প্রতিবার ট্যাবটি চালু করার সময় পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে চেহারা দেখিয়ে চালু করতে পারবেন। এর মাধ্যমে অবৈধ ব্যবহারকারীর হাত থেকে আপনার ট্যাবটি রক্ষা পাবে।

ভিডিওতে সেরা হলেও ছবিতে সাধারণ
সারফেস প্রো ৪ এর পিছন দিকে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ১০৮০ পিক্সেলে স্বচ্ছ ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। ছবির কোয়ালিটি ভালো হলেও একেবারেই প্রো হিসেবে ব্যবহার যোগ্য নয়।

ব্যাটারিতে অতুলনীয়
আগের সংস্করণগুলো থেকে নতুন এ সংস্করণে ব্যাটারির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে মাইক্রোসফট। সারফেস প্রো ৩ টানা প্রায় ৯ ঘন্টার চললেও সারফেস প্রো ৪ প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

আসুসের ট্রান্সফরমার বুক কিংবা লেনোভোর থিংকপ্যাড ইয়োগার থেকে প্রায় দ্বিগুণ পরিমান ব্যাকআপ দিতে পারার কারণে এটি ব্যবহারকারীদের সহজেই মন জয় করে।

শব্দকৌশল
সারফেস প্রো ৪ এর রয়েছে স্টেরিও ডলবি স্পিকার। এতে দৃশ্যমান কোনো গ্রিল নেই ও শব্দ ট্যাবলেটটির ভিতর থেকে তৈরি হয় এবং পাশের ভেন্টিলেশন দিয়ে বের হয়। ফলে উচ্চ শব্দেও এর মানে কোনো পরিবর্তন হয় না এবং শব্দ জোরালো হয়।

এছাড়া হেডফোনের জন্য বামপাশে একটি জ্যাক রয়েছে। ব্যবহারকারী পাওয়ার বাটনের পাশেই থাকা ভলিউম বাটন দিয়ে শব্দ নিয়ন্ত্রন করতে পারেন।

Microsoft-Surface-Pro-4-TechShohor

পারফরম্যান্স
সারফেস প্রো ৪ আগের সংস্করণগুলো থেকে আরও দ্রুত কাজ করে। এর বুটিং আপ টাইমও কম। পিসিমার্ক ৮ ওয়ার্ক কনভেনশনাল টেস্টে এটি ২৬১২ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে, যা প্রায় সমমূল্যের আসুসের ট্রান্সফরমার বুক কিংবা লেনোভোর থিংকপ্যাড ইয়োগার মতোই কাজ করে।

এটি বড় ধরণের গ্রাফিক্স, ভিডিও এনকোডিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ারের চেয়েও দ্রুতগতির। এটি গেইম পাগলদের জন্য ঠিক উপযোগী নয়, তবে মধ্যমমানের গেইম চালাতে সক্ষম।

দামটা একটু বেশিই
আপাতভাবে বাংলাদেশের বাজারে না পাওয়া গেলেও পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে জানুয়ারির প্রথমদিকে উম্মুক্ত করা হয়েছে ট্যাবটি। যদিও গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রাথমিকভাবে এর বিক্রি শুরু হয়। তবে দামের দিক থেকে সাধারণের নাগালেই বাইরেই বলা চলে।

ভারতে বিভিন্ন মডেল ভেদে সারফেস প্রো ৪ বিক্রি হচ্ছে ৮৯ হাজার ৯৯০ রুপি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯০ রুপিতে। তাই বলা চলে জিনিস যা ভালো দাম তার একটু বেশিই।

আরও পড়ুন: 

*

*