স্মার্টফোনে ভিন্ন আমেজ আনল অপ্পো এন ১

শাহারিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দুই বছর আগে ২০১১ সালের শুরুর দিকে সায়ানোজেনমড নামের কাস্টম রমটি নিয়ে ভালোই মাতামাতি হয়েছিল। এর গোছানো পরিবেশ ও স্টক এবং অ্যান্ড্রয়েডে যোগ করার মতো কিছু লোভনীয় ফিচার মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। কিন্তু অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ ইনস্টলেশন প্রক্রিয়ার কারণে এটাকে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এড়িয়ে চলত। এ বছর আবারো সায়ানোজেনমড এর সপ্তম ভার্সন নিয়ে বাজারে আসলো অপ্পোর নতুন ফোন, অপ্পো এন ১।

চীনা কোম্পানির তৈরি স্মার্টফোনটিতে এবার  হার্ডওয়্যারে কিছু ব্যতিক্রমী পরিবর্তন যোগ করা হয়েছে। যা একে অন্যান্য স্মার্টফোন জায়ান্টদের চেয়ে ভিন্ন করে তুলেছে।

Oppo N1_techshohor

ফোনটির পেছনের প্ল্যাস্টিক বডিতে যুক্ত করা এমন একটি টাচ প্যানেল রয়েছে। যা দিয়ে আপনাকে আর কষ্ট করে হাত ডিসপ্লের সামনে এনে ব্যবহার করতে হবে না! পেছনে আঙ্গুল বুলিয়েই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ফোনটিকে।

এ টাচ প্যানেল সাপোর্ট করে স্ক্রোলিং, স্লাইডিং, সিঙ্গেল ট্যাপ, ডবল ট্যাপ সহ আরো অনেক কিছু। তবে এটি একটি চমৎকার ফিচার হলেও প্যানেলটির পজিশনের কারণে অনেক কাজ অনাকাঙ্খিতভাবে হয়ে যায় বলে আপত্তি জানিয়েছেন সমালোচকরা।

ফোনটির আরেক বিস্ময় হল এর ক্যামেরা। পেছনের ১৩ মেগাপিক্সেল ব্যতিক্রম কিছু নয়। তবে ব্যতিক্রম হলো এটি সামনে ঘুরিয়ে ব্যবহার করা যাবে ফ্রোন্ট ক্যামেরা হিসেবে। অর্থাৎ আপনি সামনে-পিছনে দু’জায়গাতেই পাচ্ছেন ১৩ মেগাপিক্সেল। কোনো স্মার্টফোন যা এখনো করতে পারেনি তাই করে বসে আছে অপ্পো এন ১!

এমনকি সাথে থাকছে ক্যামেরা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রিমোট কন্ট্রোল। ছবির অসাধারণ কোয়ালিটি, ডুয়াল ফ্ল্যাশ ও সায়ানোজেনমড-এর যুক্ত করার কিছু ব্যতিক্রম ফিচার দিয়ে গড়া এ ক্যামেরা ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হিসেবে ধরা হয়।

এসব ছাড়াও ফোনটির বিশাল ৫.৯ ইঞ্চি স্ক্রিনে ধারণ করছে পরিষ্কার-পরিছন্ন১৯২০* ১০৮০ পিক্সেল ডিসপ্লে ও৩৭৩ পি.পি.আই (পিক্সেলপারইঞ্চি)। ভিতরে রয়েছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ১.৭গিগাহার্জেরপ্রসেসর যা দিয়ে গেম খেলা, ওয়েব ব্রাউজিং ও মাল্টি-টাস্কিং করা যাবে নির্বিঘ্নে।

খানিকটা পুরোনো, জেলিবিন ৪.২ ভার্সনে অথবা সায়ানোজেনমডে চালিত ফোনটির ওজন ২১৩ গ্রাম ও পুরুত্ব ৯ মিলিমিটার। নতুন রম সায়ানোজেন্‌মড ১১ প্রশংসিত হয়েছে তুমুলভাবে।

স্টক অ্যান্ড্রয়েডের প্রত্যেকটি খাত ঢেলে সাজিয়ে যুক্ত করা হয়েছে আকর্ষণীয় ও প্রয়োজনীয় সব ফিচার। অনেকেই বলে এটি ব্যবহারের পর স্টক অ্যান্ড্রয়েডকে মনে হবে আনাড়ি ও অসম্পূর্ণ এক রম!

ফোনটি ব্যাটারি লাইফে টেক্কা দিয়েছে বাজারে আর সব স্মার্টফোনকে। এত বিশাল স্ক্রিনের জন্য ব্যাটারি শক্তিশালী হওয়া অনিবার্য। কিন্তু একটু বেশিই দেওয়া হয়েছে অপ্পো এন ১-এ! ৩৬১০ মিলিএম্পিয়ার ব্যাটারিতে অনাসায়ে ফোনটি ব্যবহার করে কাটিয়ে দিতে পারবেন পুরো দুই দিন।

এক নজরে ভালোঃ

-বৈচিত্রময় ক্যামেরা

– দ্রুতগতির ও-টাচ্‌ প্যানেল

– প্রসেসর ও র‍্যামের বদৌলতে দ্রুত পারর্ফম্যান্স

– দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ

– আকর্ষণীয় কাস্টম রোম

এক নজরে খারাপঃ

– অত্যন্ত বড় ডিসপ্লে

– ও-টাচ্‌ প্যানেলের বেখাপ্পা পজিশন

– ৪ জিসাপোর্টকরেনা।

 

Related posts

*

*

Top