Maintance

জি প্যাড ৮.৩ নিয়ে ট্যাব বাজারের প্রতিযোগীতায় এলজি

প্রকাশঃ ৪:০৬ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৩ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৩৭ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৩

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন বাজারে এলজি বেশ আগে থেকে সক্রিয় থাকলেও ট্যাবলেট বাজারে একেবারেই ছিল না। কেন- এর উত্তর খুঁজছিলেন সমালোচকরা। সম্প্রতি জবাব পাওয়া গেছে। জি প্যাড ৮.৩ ট্যাব এনে এলজি জানিয়েছে, তারা গত দুই বছর ট্যাব মার্কেট ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করে তারপর নতুন এ ডিভাইসটি তৈরি করেছে।

LG-G-Pad-8.3_techshohor.com

ডিজাইন

এলজির ফ্ল্যাগশিপ ফোন জিটুর বড় ভার্সন বলা যেতে পারে এ ট্যাবকে। চারদিকে বিজেল খুবই পাতলা ও কোণগুলো গোলাকার। ডিজাইনে তেমন বাড়তি আকর্ষণ নেই, কিন্তু স্লিম ও মজবুত হওয়ায় হাতে ধরতে সুবিধা হবে। এ ছাড়া জিটুতে এলজি প্রথমবারের মতো পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার ফোনের পেছনে বসিয়েছিল। এটায় গতানুগতিকভাবে ট্যাবের পাশেই বসানো হয়েছে।

ডিসপ্লে

গ্যালাক্সি নোটকেও ছাড়িয়ে যাবে এর ডিসপ্লের মান। আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের রেজুল্যুশন ১২০০*১৯২০ পিক্সেল, প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল সংখ্যা ২৭৩। কালার সেপারেশন খুবই স্পষ্ট ও নিখুঁত। টেক্সটও ঝকঝকে দেখাবে।

ক্যামেরা

এর প্রধান ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল, ফ্রন্ট ক্যামেরা ১.৩ মেগাপিক্সেল। ফ্ল্যাশ নেই। ট্যাবে যদিও ক্যামেরা অ্যাপের প্রতি তেমন বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, জি প্যাড এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ফোন ক্যামেরার প্রায় সব রকম ফিচার ও অপশন ক্যামেরা অ্যাপে দেওয়া হয়েছে। আইএসও, হোয়াইট ব্যালেন্স, ব্রাইটনেস ইত্যাদি ম্যানুয়ালি ঠিক করার জন্য অনেকগুলো অপশন রয়েছে। ছবির মান ৫ মেগাপিক্সেলের তুলনায় যথেষ্ট ভালো।

কানেক্টিভিটি

ট্যাবটির সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক- ফোরজি এলটিই বা থ্রিজি- কোনোটিই নেই এতে। আছে কেবল ওয়াই-ফাই। সিম ব্যবহারও করা যাবে না। অবশ্য ফোনের সাথে সংযুক্ত করে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বিশেষ অ্যাপ কিউপেয়ার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আছে ব্লুটুথ, জিপিএস, মিরাকাস্ট (টিভিতে ডিসপ্লে শেয়ারিং পদ্ধতি), মাইক্রোইউএসবি ও ইনফ্রারেড।

কনফিগারেশন

অ্যান্ড্রয়েড জেলি বিন চালিত জি প্যাডে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬০০ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রসেসর কোয়াড কোর ১.৭ গিগাহার্জ ক্রাইট ৩০০, জিপিইউ অ্যাড্রেনো ৩২০। র‍্যাম ২ গিগাবাইট। এছাড়া ইন্টারনাল মেম্বরই ১৬ গিগাবাইট, এসডি কার্ড দিয়ে ৬৪ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

পারফর্ম্যান্স

পারফর্ম্যান্সের দিক দিয়ে এটি কেবল অ্যাপলের আইপ্যাডের সাথে তুলনা চলে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর মধ্যে নেক্সাস ৭ ও গ্যালাক্সি নোট ৮ কে সহজেই ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিটি অ্যাপ ও গেইম সর্বোচ্চ কোয়ালিটিতে খুবই স্মুথলি চলবে। হাই কোয়ালিটি ভিডিও দেখা, মাল্টিটাস্কিং ও ব্রাউজিং- কোনোটিতেই সমস্যা হবে না।

ব্যাটারি

এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। এদিক দিয়ে অন্যসব অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবকে পেছনে ফেলেছে এটি। দিনভর ইচ্ছেমতো ব্যবহার করলেও চার্জ কখনোই মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।

দেশের বাজারে শিগগির আসছে ট্যাবটি। এর দাম আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা হতে পারে।

*

*