এইচপির ব্যতিক্রমী ট্যাব স্লেট ২১ অল ইন ওয়ান

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যান্ড্রয়েড ফ্যানদের জন্য নানা ধরনের ডিভাইসের অভাব নেই বাজারে। এর মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী কিন্তু কাজের ডিভাইস এইচপি স্লেট ২১ অল-ইন-ওয়ান। অ্যান্ড্রয়েডকে ঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে প্রায় ডেস্কটপের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যে সম্ভব, তার প্রমাণ এ হাইব্রিড ট্যাবটি।

ডিজাইন

প্রথম দর্শনেই ডিভাইসটিকে দেখে অ্যাপলের আইম্যাকের কথা মনে পড়বে। একইধরনের সাদা বডি, কোনগুলো রাউন্ড। বেজেল বেশ পুরু। ডেস্কে বসানোর জন্য একটি সাদা স্ট্যান্ড রয়েছে পেছনে। ওজন প্রায় দশ পাউন্ড। অর্থাৎ আপনার টেবিলের ভালো পরিমাণ জায়গা দখল করবে এটি।

HP-slate 21_techshohor

ডিসপ্লে

ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের এ হাইব্রিড ডিভাইসটির ডিসপ্লে সাড়ে ২১ ইঞ্চি। রেজুল্যুশন ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল। এতবড় স্ক্রিনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবে অনেকেরই নেই; তাই গতানুগতিক ডেস্কটপের চেয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। ইমেজ কোয়ালিটি খুবই চমৎকার। তবে প্ল্যাটফর্মটি অ্যান্ড্রয়েড হওয়ায় কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন- অনেক অ্যাপ্লিকেশনই এতো বড় স্ক্রিনে ভিজ্যুয়ালি ফিট হতে পারে না, ফলে তা চ্যাপ্টা বা ঘোলা দেখাতে পারে। তবে বহুল ব্যবহৃত অ্যাপগুলোতে এ সমস্যা হবে না। টাচস্ক্রিনটি সাধারণ সব ট্যাবের মতোই দ্রুতগতির ও রেসপন্সিভ।

কানেক্টিভিটি

৮০২.১১ এ/বি/জি/এন ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ আছে এতে। পোর্টের মধ্যে আছে তিনটি ইউএসবি ২.০ পোর্ট, একটি হেডফোন/মাইক্রোফোন পোর্ট ও এসডি কার্ড রিডার। বিশেষ সুবিধা হিসেবে সাথে আছে মাউস ও কিবোর্ড। অর্থাৎ ট্যাব থেকে যারা ডেস্কটপের এক্সপেরিয়েন্স নিতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামই এতে দেওয়া হয়েছে। তবে কিবোর্ড ও মাউসটি ব্লুটুথ না হওয়ায় এর অত্যাধুনিক স্টাইলের সঙ্গে কিছু বেমানান লাগতে পারে।

কনফিগারেশন

ট্যাবটির ভেতরে রয়েছে শক্তিশালী এনভিডিয়া টেগ্রা ফোর প্রসেসর ও এনডিয়ার ৭২ কোরের গ্রাফিক্স প্রসেসর। র‍্যাম ১ গিগাবাইট। স্টোরেজ হিসেবে ৮ গিগাবাইটের মাল্টিমিডিয়া কার্ড রয়েছে। এ ছাড়া স্ক্রিনের ঠিক ওপরে ২.১ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আছে। ইন্টিগ্রেটেড ডিটিএস বেশ জোরালো সাউন্ড দেবে, যা কিছু ল্যাপটপকেও ছাড়িয়ে যাবে।

সফটওয়্যার

অ্যান্ড্রয়েডের মোবাইল ইন্টারফেসকে বড় স্ক্রিনে রূপ দেওয়ার জন্য সফটওয়্যার ও ইন্টারফেসে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে এইচপি। লকস্ক্রিনের ক্লক উইজেটটি ডিফল্টভাবে স্ক্রিনের ঠিক মাঝামাঝি থাকবে, দুই পাশে সারিতে থাকবে অ্যাপ আইকনগুলো। হোমপেজের একেবারে উপরে গুগল বার রয়েছে, নিচে আছে অ্যাপ ট্রে। যে কোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের মতোই উপর থেকে ফ্লিক করলে নোটিফিকেশন প্যানেল ওপেন হবে। তবে ট্যাবটির বেজেল স্ক্রিন থেকে কিছুটা উপরে থাকায় এটি ওপেন করতে অসুবিধা হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবহারকারীর জন্য পাঁচটি ইউজার অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে।

পারফর্ম্যান্স

আকারে ডেস্কটপের মতো হলেও এর পারফর্ম্যান্স সব মিলিয়ে সন্তোষজনক বলতে হবে। প্রসেসর শক্তিশালী হলেও র‍্যাম কম হওয়ার কারণে কিছুদিন পর ধীরগতির হয়ে যেতে পারে। তবে গেইম, ব্রাউজিং, মাল্টিটাস্কিং ইত্যাদি বেশ মসৃণভাবে চলবে। অর্থাৎ এটি বেশ ব্যতিক্রমধর্মী ডিভাইস হলেও কিছু অহেতুক সীমাবদ্ধতা না থাকলে একে বছরের অন্যতম ক্রিয়েটিভ হাইব্রিড স্মার্ট ডিভাইস বলা যেত।

দেশের বাজারে এর দাম ৩৫ হাজার টাকা।

এক নজরে ভালো

–        বড়, চমৎকার স্ক্রিন

–        বিস্তৃত কানেক্টিভিটি

–        ডেস্কটপের বিকল্প হতে পারে

এক নজরে খারাপ

–        র‍্যাম ও ফোনের মেমরি কম

–        কিবোর্ড ও মাউস ওয়্যারলেস নয়

–        পারফর্ম্যান্স আশানুরূপ নয়, অ্যান্ড্রয়েড পুরোপুরি অপটিমাইজড নয়

সূত্র- স্টারটেক, পিসিম্যাগ, টমসগাইড

Related posts

*

*

Top