টাচস্ক্রিনসহ নতুন রূপে ক্যাননের ৬৫০ডি

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিক্ষানবিশ ফটোগ্রাফারদের প্রথম পছন্দ হিসাবে ক্যাননের রিবেল সিরিজের বেশ সুনাম রয়েছে। এ সিরিজের অন্যতম একটি ক্যামেরা ডিএসএলআর টি৪আই/৬৫০ডি। এর মধ্যে জনপ্রিয় ক্যামেরা ৬০০ডি’কে আপগ্রেড করে ৬৫০ডি তৈরি করা হয়েছে। নতুনদের পাশাপাশি পেশাদার ফটোগ্রাফারদের সব চাহিদা পূরণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আপগ্রেডের সময়।

ক্যামেরাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য টাচস্ক্রিন এলসিডি প্যানেল। সাধারণ কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় টাচপ্যানেলের ছড়াছড়ি দেখা গেলেও উঁচু পর্যায়ের ডিএসএলআরে সাধারণত টাচস্ক্রিন কম দেখা যায়। ৩ ইঞ্চির এ স্ক্রিনটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনের মতোই রেসপন্সিভ। এ ছাড়া আকার-আকৃতির দিক দিয়ে ৬০০ডি থেকে তেমন পরিবর্তন হয়নি। গ্রিপ ও ইরগোনমিক্স খুবই চমৎকার। শাটার বাটন, আইএসও বাটনসহ সব কন্ট্রোলই স্বস্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

canon-650d_techshohor

এর সঙ্গে EF-S 18-55mm f/3.5-5.6 IS II লেন্স কিট, যা সাধারণ ইউজারদের বেশ কাজে দেবে। ক্যামেরাটির মূল ফিচার, যেমন- ১৮ মেগাপিক্সেল সিএমওএস সেন্সর, ৯-পয়েন্ট অটোফোকাস সেন্সর ইত্যাদি ৬০০ডির মতোই। কিন্তু প্রতিটি ফিচারই পৃথকভাবে আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। যা একজন পেশাদারের চোখে সহজেই পড়বে।

৬৫০ডি’র আইএসও রেঞ্জ বাড়িয়ে ২৫৬০০ পর্যন্ত করা হয়েছে, যেখানে ৬০০ডি’র ছিল ১২৮০০। তাই স্বাভাবিকভাবেই ৬৫০ডিতে আরও নিখুঁত ও নয়েজ বিহীন ছবি তোলা যাবে। ফোকাস বেশ দ্রুত ও ত্রুটিবিহীন। ভিডিও করার সুবিধার জন্য নতুন কিছু ফোকাসিং মোড যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কম আলো ও প্রতিকূল পরিবেশে ছবি তোলার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে ৫ এফপিএস বার্স্ট রেট। অন্যান্য নতুন ফিচারের মধ্যে আছে মাল্টি শট নয়েজ রিডাকশন, যার সাহায্যে চারটি ছবি একত্রিত করে একটি ছবি করা যাবে।

ছবির আউটপুট কোয়ালিটি বেশিরভাগ ফটোগ্রাফারকেই সন্তুষ্ট করবে। হোয়াইট ব্যালেন্স ও কালার প্রায় বাস্তবের মতো বলা যেতে পারে, অটো হোয়াইট ব্যালেন্স সিস্টেমও চমৎকারভাবে কালার পৃথক করতে পারে। শার্পনেস ও ডিটেইল ৬০০ডি’র মতোই। তবে র’ ফাইলের চেয়ে জেপিজি ফাইলে কনট্রাস্ট কিছুটা বেশি চোখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বলতে হবে, টাচস্ক্রিন, উচ্চ আইএসও রেঞ্জসহ নানা ছোটখাটো পরিবর্তন ৬০০ডি থেকে উন্নত করেছে ক্যামেরাটিকে। আর নতুনদের জন্য সহজ নির্দেশনার বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করায় সহজেই তারা ডিএসএলআরের বিভিন্ন খুঁটিনাটি আয়ত্তে আনতে পারবেন। তাই যে কোনো পর্যায়ের ফটোগ্রাফারই নির্দ্বিধায় এটি কিনে ফেলতে পারেন।

দেশের বাজারে এর দাম ৫৬ হাজার টাকা।

এক নজরে ভালো

–     উন্নত টাচস্ক্রিন, নিখুঁত কালারিং

–     আরামদায়ক গ্রিপ

এক নজরে খারাপ

–     ছবির কোয়ালিটি আরও উন্নত হতে পারত

–     টাচস্ক্রিনে সব সুবিধা নেই

Related posts

*

*

Top