নতুন গ্যালাক্সি নোট ট্যাব ও স্মার্টফোনের যুগলবন্দী

টেক শহর ডেস্ক : গ্যালাক্সি নোট ও নোট টু’র ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে স্যামসাং বাজারে এনেছে গ্যালাক্সি লাইনআপের নতুন ডিভাইস নোট থ্রি। আগের গুলোর চেয়ে বেশ কিছু আকর্ষণীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে নতুন এ নোটে। যে কারণে বাজারে আসার পরপরই ক্রেতাদের আগ্রহের তালিকায় শীর্ষে আছে রয়েছে ডিভাইসটি।

গ্যালাক্সি নোটকে যদিও অনেকে বড়সড় আকারের ফোন বলে থাকেন, এটি মূলত ফ্যাবলেট, অর্থাৎ ট্যাবলেট ও ফোনের মিশ্রণ। ৫.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের ডিভাইসটির আকার স্বাভাবিকভাবেই অনেকের কাছে বেঢপ মনে হবে, হাত দিয়ে ধরে স্বস্তি পাওয়া যাবে না। তারপরও ডিভাইসটি নিয়ে এত আগ্রহের কারণ?

এক কথায়, নোট থ্রি একদিক দিয়ে যেমন স্মার্টফোনের চাহিদা মেটাবে, আরেকদিক দিয়ে মেটাবে ট্যাবলটের চাহিদা। বিশেষ করে অনেকেই আছেন যারা ট্যাবলেট কিনতে চাইলেও স্মার্টফোন থাকায় দ্বিধায় রয়েছেন কি করবেন। আবার ফোন কিনতে গিয়ে ভাবতে থাকেন, ট্যাবের বড় স্ক্রিনে গেইম খেলতে বা মুভি দেখে কি দারুণ মজা পাওয়া যেত! এ দ্বন্দ্বে থাকা ভোক্তাদের সেরা সমাধান গ্যালাক্সি নোট ৩।

galaxy note, techshohor

নোট ৩-এর ৫.৭ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড স্ক্রিন ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল রেজুল্যুশন সাপোর্ট করে, যা গ্যালাক্সি এস ফোরের সমান। তবে নোটের স্ক্রিন এর চেয়ে কিছুটা বড় হওয়ায় এটি এস ফোরের মত ক্রিস্টাল ক্লিয়ার নয়। ধাতব গড়নের পাশাপাশি নোট থ্রির পেছনদিকে রয়েছে নতুন ধরনের ফিনিশিং, যাকে অনেকে লেদার বলে ভুল করবেন। এটি আসলে বিশেষভাবে তৈরি প্লাস্টিক, যা হাতে লেদারের অনুভূতি দেবে। আকারে বড় হলেও অত্যন্ত হালকা (১৮৩ গ্রাম) ও ফিনিশিংয়ের কারণে কিছুদিনের অভ্যাসেই হাতের আয়ত্তে চলে আসতে পারে ফ্যাবলেটটি।

যদিও ছবি তোলার জন্য নোট থ্রির আকার তেমন সুবিধাজনক নয়, তারপরও এতে দেওয়া হয়েছে শক্তিশালী ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ভিডিও চ্যাটের জন্য ফ্রন্ট প্যানেলে রয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ছবির কোয়ালিটি অনেক ডিএসএলআরের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো। ৩২০০ মিলি-অ্যাম্পিয়ারআওয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি গ্যালাক্সির অন্যান্য ডিভাইসের মতোই রিমুভেবল।

হার্ডওয়্যারের দিক দিয়ে এটি শীর্ষ স্মার্টফোনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার যোগ্য। ২.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসরের সঙ্গে রয়েছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি। অ্যান্ড্রয়েড জেলিবিনের ৪.৩ এতে ডিফল্ট দেওয়া আছে, যা সহজেই ৪.৪-এ আপডেট করা যাবে।

হাই-এন্ড কনফিগারেশন ছাড়াও আরেকটি কারণে অনেকেই চোখ বন্ধ করে নোট থ্রি কিনে ফেলবেন- তা হলো এস পেন। এবারের ডিভাইসে আগের নোটগুলোর চেয়ে আরও অনেক কার্যকর করা হয়েছে এস পেনকে। এটি কিন্তু কেবল স্টাইলাস বা পেন মাউস নয়, বরং নোট এক্সপেরিয়েন্সের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবে। চট করে নোট টুকে নেওয়া, স্ক্রিনের যেকোনো অংশ সেভ করে রাখা, কন্ট্যাক্ট সেভ করার মতো অনেক কাজ পানির মতো সহজ করে দেবে এই পেন। বেশ কিছু অ্যাপস পাবেন যা এস পেনকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটের অ্যাপসগুলোর পরিপূর্ণ স্বাদ নিতে পারবেন নোট থ্রি থেকে। কিছুটা বড়ো স্ক্রিনের জন্য মুভি দেখা, গেইম খেলাতেও আলাদা মজা পাবেন। সব মিলিয়ে, যদি গুগলের অ্যান্ড্রয়েড থেকে সব সুবিধাগুলো প্রাণভরে উপভোগ করতে চান আল্টিমেট কোনো ডিভাইস থেকে, সেই ডিভাইসটি হতে পারে নিঃসন্দেহে।

বাংলাদেশের বাজারে স্যামসাংয়ের সব শোরুমে বর্তমানে এ নোটটি পাওয়া যাচ্ছে ৬৯ হাজার ৯০০ টাকায়।

এক নজরে ভালো

 

–     খুবই দ্রুতগতির, স্মুথ

–     শক্তিশালী ব্যাটারি

–     ফুল এইচডি ডিসপ্লে

এক নজরে খারাপ

–     ধরতে অসুবিধা

–     অতিরিক্ত দাম

–     এস পেনের ব্যবহার কিছুটা সীমাবদ্ধ

টেকরাডার ও দ্য ভার্জ অবলম্বনে শাহরিয়ার হৃদয় 

Related posts

*

*

Top