প্রিমো জেডএক্স : কিটক্যাট ছাড়াই ওয়ালটনের সেরা উদ্ভাবন

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্মিলর : ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস বলতে সবার আগে, আইফোন, গ্যালাক্সি, নকিয়া, সনি, এলজির দাম সব স্মার্টফোনের কথা মনে আসে। এবার সে ধারণায় পরিবর্তন এনেছে ওয়ালটন। তাদের বিখ্যাত প্রিমো সিরিজের জেডএক্স শুধু ফ্ল্যাগশিপ-ই নয়, বরং অন্যান্য কোম্পানির হাই-এন্ড ফোনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো একটি ডিভাইস।

ডিজাইন
ফোনটি দেখতে অনেকটা সনির এক্সপেরিয়া জেডের মতো। ইউনিবডি ডিজাইনের ফলে দেখতে অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মতোই আকর্ষণীয়। ফোনটির ওজন ১৫০ গ্রাম, পুরুত্ব মাত্র ৬.২ মিলিমিটার।

Walton Primo ZX_techshohor

ডিসপ্লে
এর আইপিএস ২ ডিসপ্লের আকার ৫.৫ ইঞ্চি, স্ক্রিন রেজুল্যুশন ১৯২০*১০৮০। পিক্সেল ডেনসিটি ৪০১ পিপিআই। স্যামসাংয়ের আগের ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি এস২ বা এস৩ এর স্ক্রিনের চেয়েও উন্নত বলা যায় এ ডিসপ্লে।

সুরক্ষার জন্য উপরে গোরিলা গ্লাস ৩ এর প্রলেপ আছে। ভেজা হাত কিংবা গ্লাভস পরা অবস্থায়ও টাচ ব্যবহার করতে পারবেন।

কানেক্টিভিটি
ওয়ালটনের বেশিরভাগ ডিভাইসের মতো এটি অবশ্য ডুয়াল সিম নয়। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির জন্য আছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, হটস্পট, এ-জিপিএস।

দ্রুতগতিতে অন্য স্মার্টফোনের সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া আদান-প্রদানের জন্য এনএফসি আছে, যা দিয়ে ডিসপ্লেও শেয়ার করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েডের মূল সেন্সরগুলোর পাশাপাশি আছে লিনিয়ার অ্যাক্সেলেরেশন, প্রেসার, কম্পাস, রোটেশন ভেক্টর সেন্সর।

ক্যামেরা
দেশি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরা এতে রয়েছে। মূল ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেল। ছবির মানকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে স্যাফায়ার (রুবি) লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফ্ল্যাশটি সাধারণ এলইডি ফ্ল্যাশের চেয়ে ৬০ ভাগ উজ্জ্বল।

ক্যামেরায় ফিচারেরও অভাব নেই। ১২ রকম ফটো মোড ছাড়া আছে প্যানারোমা, বিএসআই এন্সর, এফ/২.২ অ্যাপার্চার, সিমোস সেন্সরসহ অনেক নতুন ফিচার।

ভিডিও করার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এটি দিয়ে ফোরকে ফরম্যাটে ভিডিও প্লে করা যাবে। এ ছাড়া ফোনের সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা আছে।

কনফিগারেশন
কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ চিপসেট রয়েছে এতে, যা এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দামি ফোনগুলোয় দেখেছি। প্রসেসর কোয়াড কোর ২.২ গিগাহার্জ, গ্রাফিক্স প্রসেসর অ্যাড্রেনো ৩৩০, র্যা ম ৩ গিগাবাইট।

ইন্টারনাল মেমরি ৩২ জিবি, বাড়তি মেমরি কার্ড লাগানো যাবে না। চমৎকার অডিও আউটপুটের জন্য ইয়ামাহা অডিও চিপ রয়েছে।

পারফরম্যান্স
বাংলাদেশের ভিত্তিতে একে সেরা ফোন বলা যেত, কিন্তু কেবল এতে কিটক্যাটের বদলে অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ জেলি বিন ব্যবহার করায় তা বলা যাচ্ছে না। অন্য সব দিক দিয়ে ফোনটি পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ ফোন।

গ্যালাক্সি এসফোর বা এক্সপেরিয়া জেড এর মতোই অ্যান্ড্রয়েডের সবরকম ফিচার সর্বোচ্চ মানে উপভোগ করতে পারবেন এতে। শক্তিশালী কনফিগারেশন ও ডিসপ্লের ফলে বাধাহীনভাবে সব অ্যাপ, গেইম চালানো যাবে।

ব্যাটারি
২৭৫০ মিলিঅ্যাম্পের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এতে।

ফোনটির দাম ৩০ হাজার ৯৯০ টাকা।

এক নজরে ভালো
– ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে পূর্ণ নম্বর
– অত্যন্ত সমৃদ্ধ ক্যামেরা, শক্তিশালী কনফিগারেশন
– আকর্ষণীয় ডিজাইন ও আউটলুক

এক নজরে খারাপ
– অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ কিটক্যাট নেই

Related posts

*

*

Top