লেক্সমার্ক ইন্টারপ্রেট এস৪০৫ : প্রিন্ট ছাড়াও স্ক্যান, ফ্যাক্স সুবিধা

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আজকাল অফিস বা বাড়ি সবখানেই বিভিন্ন প্রয়োজনে কম্পিউটার থেকে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে হয়। তাই একটা প্রিন্টারের প্রয়োজন তো পড়েই। এর সঙ্গে যদি কোনো হার্ডকপি স্ক্যান করতে হয়,সেজন্য আরেকটা স্ক্যানারও লাগে।

তবে একই ডিভাইসের মধ্যে যারা এ দুই ধরনের সুবিধা চান, তাদের জন্য আছে লেক্সমার্ক ইন্টারপ্রেট এস৪০৫ ইঙ্কজেট অল ইন ওয়ান মাল্টিটাস্কিং প্রিন্টার।

এটি দিয়ে প্রিন্ট ছাড়াও স্ক্যান, কপি থেকে শুরু করে ফ্যাক্স পর্যন্ত করা যায়। এ ছাড়া দামও হাতের নাগালের মধ্যে।

lexmark_techshohor

অল ইন ওয়ান ইঙ্কজেট প্রযুক্তির প্রিন্টারটি উচ্চতায় ৮ ইঞ্চি, ১৮.৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে ১৩.৩১ ইঞ্চি। আকার বড়সড় হলেও ওজন কিন্তু মাত্র ৭.৭ কেজি।

গ্রে ও কালো কালারের মিশ্রণের কারণে দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।মসৃণ ফিনিশিংয়ের কারণে অফিস বা বাসার অন্য আসবাবপত্রের সঙ্গে চমৎকার মানিয়ে যাবে।

প্রিন্টারটির কন্ট্রোল প্যানেলটি সামনের দিকে একটু বাঁকা, যাতে যে কোনো কাজ ছোট এলসিডি ডিসপ্লেতে মনিটর করতে সুবিধা হয়। প্যানেলের পাশে রয়েছে একটি মেমোরি কার্ড রিডার ও ইউএসবি পোর্ট।

কার্ড রিডারটি এসডি, এমএমসি, মেমোরি স্টিক ও এক্সডি সাপোর্ট করে। এ ছাড়া কানেক্টিভিটির জন্য ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে।

পেছনের দিকে আছে ইথারনেট পোর্ট, ফ্যাক্স পোর্ট ও পাওয়ার ক্যাবল পোর্ট। এটির ইঙ্ক কার্টিজ চারটি (কালো, হলুদ, সায়ান ও ম্যাজেন্টা), তবে সমস্যা হল যে কোনো একটির কালি শেষ হয়ে গেলে আর প্রিন্টার কাজ করবে না। তাই কালি শেষ হবার আগেই আলাদা কালি সংগ্রহে রাখতে হবে।

পেইজের সাইজের ব্যাপারে একে অলরাউন্ডার বলতে হবে।কারণ এটি অফিসিয়াল ডকুমেন্টের প্রায় সব সাইজের পেজ সাপোর্ট করে।

অটো ডকুমেন্ট ফিডারে সর্বোচ্চ ৩৫টি পেজ এবং উপরের ট্রেটিতে সর্বোচ্চ ১০০টি পেজ রাখা যাবে। তবে অটো ডকুমেন্ট ফিডারটিতে পেজ অনেক সাবধানে রাখতে হবে, কারণ সামান্য এদিক সেদিক হলেই এটি জ্যাম হয়ে যায় এবং ইঙ্ক কার্টিজের ক্ষতি হয়।

এর প্রিন্টিং পারফরম্যান্স মোটামুটি ভালো। মিনিটে ৭.৬৫টি পেজ প্রিন্ট করতে পারে,যা দাম ও অন্যান্য ইঙ্কজেট কোয়ালিটির মধ্যে এগিয়ে থাকবে।

এর সাদা-কালো প্রিন্টিংও তুলনামূলক বেশ নিখুঁত,মান অনেকটা লেজারের মতোই। কালার প্রিন্টিং এর মানওভালো, তবে এতেবেশি সময় নেয়। স্ক্যানিং বা কপি করতে অবশ্য খুব বেশি সময় নেবে না।

সব মিলিয়ে বলতে হবে, কিছু কিছু অসুবিধার কারণে অনেকের হয়ত প্রিন্টারটি কিনতে দ্বিধাবোধ করবেন। তবে শুধু ডকুমেন্ট প্রিন্টিং করা যাদের প্রধান কাজ, তাদের জন্য এটি বেশ ভালো হতে পারে। আর কালো প্রিন্টিং স্পিড ও কোয়ালিটি বিবেচনা করলে সাধারণ বাজেটের মধ্যে এটিই অন্যতম।

বর্তমানে প্রিন্টারটির দাম সাড়ে ৮ হাজার টাকা।

এক নজরে ভাল
– দ্রুত প্রিন্ট স্পীড
– সহজ ওয়াইফাই সেটআপ
– প্রিন্টিং কোয়ালিটি চমৎকার

এক নজরে খারাপ
– দুর্বল অটো ডকুমেন্ট ফিডার
– খুব দ্রুত কালি শেষ হয়, তাই খরচ বেশি

Related posts

*

*

Top