এসইওতে ক্ষমা নেই যে ৪ ভুলের

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : অনেক ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারী গুগলে উপরের দিকে র‍্যাংক করতে চান। এ জন্য তারা বেশ বেশ কাজও করেন। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ খুব বেশি টেকনিক ফলো করেন। এতে হিতে বিপরীত ফল হয়। ভালো র‍্যাংক তো করতেই পারেন না বরং অনেক নিচে পড়ে যান।

এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে সঠিকভাবে এসইও করতে হয় তা জানা থাকা দরকার। বিশেষ করে কোন ভুলগুলো একদম করা যাবে না সেগুলোর জ্ঞান থাকতে হবে।

আজকের টিউটোরিয়ালে অতিরিক্ত এসইও কমানোর উপায় ও সবচেয়ে বেশি চারটি ভুল কিভাবে পরিহার করবেন তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আরও পড়ুন : প্রযুক্তির শীর্ষ ১০ চাকরি

shutterstock_145549093

টাইটেল পেইজে বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা
গুগল প্রতিটা পেইজের টাইটেল দেখে ভেতরের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে। তাই কিভাবে র‍্যাংক করা হবে সেটিতে টাইটেলের অনেক বড় একটা ভূমিকা থাকে।

আপনি খুব বেশি জনপ্রিয় না হলে টাইটেল পেজ আপনার কোড হিসাবে কাজ করবে। আসলে এটাকে ওয়েবপেইজে দেখা যায় না; কিন্তু আপনি যদি একটা ব্রাউজার খোলেন তাহলে উপরের দিকে বামপাশে আপনি টাইটেলটাকে দেখতে পাবেন।

টাইটেলে অনেক বেশি কিওয়ার্ড থাকলে বেশিরভাগ সময় গুগলের টাইটেল অনুমান করতে অসুবিধা হয় । অনেকে কিওয়ার্ডগুলোকে বারবার তাদের টাইটেলে ব্যবহার করে থাকেন। এতে কাঙ্খিত র‍্যাংকিং থেকে বঞ্চিত হন তারা।

এক সময় টাইটেলে প্রচুর কিওয়ার্ড ব্যবহার পেইজকে অনেক উপরের র‍্যাংকে নিয়ে যেত; কিন্তু বর্তমানে এটি আপনার জন্য উল্টাে হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

টাইটেলে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা খুবই জরুর বিষয়। তবে আপনি যদি একই ওয়ার্ড বারবার করে ব্যবহার করেন তাহলে সেটা আপনার পেইজ র‍্যাংকিংকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কেননা গুগল একই শব্দের ব্যবহারকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করবে।

মানুষ যখন সার্চ করবে তখন আপনার টাইটেলটাই নীল আন্ডারলাইন আকারে দেখাবে। কিন্তু সেখানে যদি বেশি ওয়ার্ডে ভরপুর থাকে তাহলে তা স্প্যামের মতো দেখাবে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি কোনো লিংক কনফিউজিং মনে হয়- তাহলে আমি সেটা পরিহার করি।

ওয়েব পেইজ কপিতে কিওয়ার্ড কপিং ফোর্স করা
আগের পয়েন্টে বলেছিলাম টাইটেলে অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড ব্যবহারের কথা। সেটির অনেক নেতিবাচক দিক থাকলেও আপনি কোনমতে বেঁচে যেতে পারেন। কারণ ভিজিটর যখন ওয়েবসাইটে থাকেন, তখন তিনি বিষয়টা খুব একটা খেয়াল করে না।

তবে আপনি যদি প্রত্যক্ষভাবে কিওয়ার্ডগুলো ওয়েবপেজে লিখে দেন, তাহলে তা খুব বেশি চোখে পড়ে। পেইজে অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড দেওয়া থাকলে আপনার ভিজিটর সেগুলো পড়তে থাকবেন। এতে মূল বিষয়টি দূরে সরে যাবে।  

অন্যদিকে লেখাগুলো স্প্যামের মতো দেখাবে, যা হবে খুবই বিরক্তিকর ও বিভ্রান্তিকর। এ ছোট বিষয়গুলো আপনাকে মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্যে পোঁছাতে বিরত রাখবে।   

আসলে এসইসিওর সর্বোচ্চ লক্ষ্য কি? শুধু র‍্যাংকিংয়ে উপরে থাকা নয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কনটেন্ট সর্ম্পকে মানুষকে জানানো ও বিক্রি বাড়ানো। অথচ আপনার ওয়েবসাইটে যদি কনটেন্ট স্প্যামিংয়ের মতো দেখায় তাহলে তা দু:খজনক হবে।

তা ছাড়া অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড ওয়েবপেজে ব্যবহারের কারণে গুগল তা স্প্যামিংয়ের মতো ভাববে। এটি এসইসিওকে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই এদিকে খেয়াল রাখতে হবে ও অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড এড়িয়ে যেতে হবে।

কাছাকাছি কোনো ডুপ্লিকেট পেইজ তৈরি না করা
এ বিষয়কে একটা উদাহরণ দিতে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরুন, আপনি একজন দাঁতের চিকিৎসক। আপনি একটা পেইজ খুলেছেন ‘ঢাকা সিটি ডেন্টিস্ট’ নামে। সেজন্য আপনি এর আশেপাশের পেইজগুলো ব্যবহার করেছেন।

এরপর আপনি কাছাকাছি নামে আরেকটা পেইজ খুললেন আরও বাড়তি ভিজিটর পাবার আশায়। সেটা হতে পারে ‘ধানমন্ডি সিটি ডেন্টিস্ট’ নামে। এখানেও আপনি আগের পেইজগুলো ও কনটেন্ট ব্যবহার করেলেন।

এ প্রসেস আপনাকে অতীতে এসইসিও র‍্যাংকিংয়ে উপরে থাকতে সাহায্য করলেও এখন সময় বদলেছে। এ কৌশলে আজকের দিনে কাজ হওয়ার সম্ভবনা কম।

কেননা বর্তমানে গুগল খুব বেশি স্মার্ট ও তাদের সক্ষমতা খুব বেশি বেড়েছে। সার্চ জায়ান্টটির ইঞ্জিন সহজেই সনাক্ত করতে পারে কোনটা সিনোনিমস ও একই সার্চ কনটেন্ট। এ কারণে আপনার একই বিষয়ে দুটি পেইজ দরকার নেই।

সার্চে সময় গুগল বুঝতে পারে, দুটি পেইজের সার্চ একই। এক্ষেত্রে একই সার্চ ফলাফল দেখায়। সুতরাং দুটি পেইজ তৈরি না করে আপনার সেরা কিওয়ার্ড ও পেইজগুলো দিয়ে খুব ভাল একটা পেইজ তৈরি করতে পারেন।

 SEO Concepts-techshohor

অতিমাত্রায় অপটিমাইজেশন অ্যাংকর টেক্সট ব্যবহার না করা
যখন থেকে আপনার ওয়েবসাইটটি এসইসিওতে আসতে শুরু করেছে, তখন থেকে ওয়েবসাইট ‘অথর প্যানেল’ (author pannel)  গঠন করতে হবে। অথর প্যানেলের কাজ হবে অন্য ওয়েবসাইটের লিংকগুলোর গুণগত ও পরিমানগত মান যাচাই করা, যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

অন্য ওয়েবসাইটের লিংককে আপনার অনুকূলে ভোট হিসাবে ভাবতে পারেন।

অন্য সাইটের লিংক যেটা আপনার সাথে সংযুক্ত সেটাকে বলা হয় অ্যাংকর টেক্সট, যে টেক্সটাকে ক্লিক করা যায়। এই অ্যাংকর টেক্সটগুলো গুগলকে বুঝতে সাহায্য করে আপনার সাইটটির কনটেন্ট কী হতে পারে।

মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইট ‘ধানমন্ডির ডেন্টিস্ট’ কিন্তু আপনি গুগল র‍্যাংকে সেরা হতে চান ‘ঢাকা সিটির ডেন্টিস্ট’ ওয়েবসাইট হিসাবে। তখন অনেকগুলো অ্যাংকর টেক্সট আপনার সাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যেটা আপনার সাইটকে র‍্যাংকে উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

অনেক কোম্পানি আছে যারা অসংখ্য অ্যাংকর টেক্সট খুলে রাখে তাদের এসইওর কাজে সাহায্য করার জন্য।

যখন এসইও অডিট করা হয়, তখন ওয়েবসাইটের লিংক প্রোফাইল দেখা হয়। কতগুলো লিংক সংযুক্ত আছে তা যাচাই করা হয়। তারা কোথায় থেকে এসেছে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং অবশ্যই ওই সাইটের অ্যাংকর টেক্সট দেখা হয়।

প্রায়ই দেখা যায় ওয়েবসাইটটি অনেক বেশি অ্যাংকর টেক্সটকেন্দ্রিক। সবগুলো লিংকে একই কিওয়ার্ড পেইজ ব্যবহার করা হয়েছে। যেটা সাধারণত খুব বেশি অনুপযোগী।

গুগল জানে এটা তাদের জন্য অনেক বড় রেড সিগন্যাল। যখন গুগল দেখে আপনি এ ধরনের পন্থা ব্যবহার করে র‍্যাংকিং করার চেষ্টা করছেন, তখন তা আপনার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়।

গুগল পেঙ্গুইন আপডেট করে ‘আনন্যাচারাল লিংক’ এর শাস্তি দেয়। এর অর্থ হচ্ছে সাইটগুলোকে অবমূল্যায়ন করা।

সুতরাং,আপনাকে অনেক বেশি অ্যাংক টেক্সট যুক্ত করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এসইও’র টপ র‍্যাংকে থাকতে হবে। এ জন্য অবশ্যই আপনাকে এ চার ভুল পরিহার করতে হবে। তাহলে আপনি ভাল র‍্যাংক করতে পারবেন এবং তা অনেকদিন ধরেও রাখতে পারবেন।

rubel

আরও পড়ুন 

Related posts

*

*

Top