অ্যাডসেন্স সিপিসি বাড়ানোর সেরা উপায় : পর্ব – ২

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর স্টাফ কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্লগারদের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস গুগল অ্যাডসেন্স। অনলাইন বিজ্ঞাপনের এ মাধ্যম থেকে আয় বাড়ানোর নানা কৌশল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোক্ষম কৌশল হলো অ্যাডসেন্স অপটিমাইজেশন। এটি করার অনেক উপায় অছে, যার মধ্য প্রথমেই আসে হাই কস্ট পার ক্লিক (সিপিসি)। ভালো অ্যাডসেন্স ক্লক থ্রো রেট (সিটিআর) ছাড়াও ভালো আয় সম্ভব নয়। তবে এ দুটির মধ্যে সিপিসিকে বেশি গুরুত্ব দিলে লাভবান হওয়া যাবে।

অ্যাডসেন্স সিপিসি বাড়ানোর অনেক উপায়ের মধ্যে সেরা দশটি নিয়ে এ প্রতিবেদেন। অনেকেই এসব কৌশলকে কিলার হিসাবে উল্লেখ করেন। দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ দ্বিতীয় পর্ব।

প্লাটফর্ম
আপনার ব্লগটি ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের ডিভাইসে পড়া হতে পারে। যদিও এই প্লার্টফর্মের উপর অ্যাডসেন্সের সিপিসি ততটা প্রভাবিত হয় না, তবে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভিজিটর পাওয়ার প্লার্টফর্মকে টার্গেট করতে হবে। সাধারণত ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ থেকেই বেশি ভিজিটর আসে ওয়েবসাইটে। তারপরেও আপনাকে অন্য প্লাটফর্মের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ডব্লিউপি টাচের মতো বিভিন্ন প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার ওয়েবসাইটকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে তুলবে। ফলে মোবাইল স্ক্রিনের অ্যাডও প্রদর্শন করাতে পারবেন। অনেক প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যবহারকারীদের টার্গেট করেও অ্যাডওয়ার্ড বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এতে পরোক্ষভাবে আপনার অ্যাডসেন্স আয় বাড়বে।

adsence tips-TechShohor

দেশ
সিপিসি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করে তা হলো স্থান বা দেশ। উদাহরণস্বরুপ, ইউএসএ থেকে কোনো ক্লিকে ২ থেকে ২ ডলার দিলেও বাংলাদেশ থেকে একই বিজ্ঞাপনে ক্লিকের জন্য ২০ থেকে ৩০ সেন্ট এমনকি তারও কম পরিশোধ করে গুগল। এই পরিস্থিতিতে আপনাকে মূলত ইংরেজি প্রধান ভাষা সেসব দেশের ভিজিটরকে টার্গেট করতে হবে। এটা আপনার ওয়েবসাইটের পেজ র্যাং কও বৃদ্ধি করার সুযোগ এনে দিতে পারে। তাই কোন দেশের ভিজিটরকে লক্ষ্য করে কনটেন্ট লিখছেন সেটি বিবেচনায় থাকতে হবে।

টেক্সট ও ইমেজ ফরম্যাট
অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপনটি ওয়েবসাইটে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনাকে বিজ্ঞাপনের সঠিক ফরম্যাট জেনেই সেটি ওয়েবসাইটে বসাতে হবে। আপনি যদি একটি পেজে তিনটি বিজ্ঞাপন দেখাতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে ৩৩৬*২৮০ পিক্সেল ও একটি ৪৬৮*৬০ পিক্সেলের বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন ।

বিজ্ঞাপন ফরম্যাটটিও জরুরী বিষয়। সাধারণত টেক্সট ফরম্যাটের বিজ্ঞাপন বসানোই ভালো। কারণে এর সিটিআর (ক্লিক থ্রো রেট) বেশিই থাকে। তবে অধিক সিপিসি পেতে আপনি ধারাবাহিকভাবে টেক্সট ও ইমেজের বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন। নিশ বা ব্লগের ধরণের উপর ইমেজ বিজ্ঞাপন অধিক সিটিআর দিলেও তা টেক্সট বিজ্ঞাপনের থেকে অধিক সিপিসি এনে দিতে পারে না।

অ্যাড প্লেসমেন্ট
ওয়েবসাইটে কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন বসাবেন সেটি একটি জরুরী বিষয়। কারণ বিজ্ঞাপনের লোকেশনের উপরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অ্যাডসেন্সের আয় নির্ভর করে। তাহলে এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোথায় বিজ্ঞাপন বসালে সর্বোচ্চ সিপিসি পাওয়া যায়। উত্তর খুবই সোজা। আপনার ব্লগ পোস্টের মধ্যে একটি ও পোস্টের বাইরে একটি বিজ্ঞাপন বসান। এক্ষেত্রে পোস্টের টাইটেলের ঠিক নিচে ৩৩৬*২৮০ পিক্সেলের বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন। আরেকটি ৪৩০*৬০ পিক্সেলের বিজ্ঞাপনটি পোস্টের ভিতরে বসান। বাকি আরেকটি বিজ্ঞাপন আপনি ডানপাশের সাইডবারে বসাতে পারেন।
তবে মনে রাখতে হবে বেশি বিজ্ঞাপন পাঠকরা পছন্দ করেন না। তারা অধিক বিজ্ঞাপন থাকলে বিরক্ত হতে পারেন। তাই সাইটের ধরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বসানো উচিত।

অনুশীলন করুন
শুধু উপরের কাজগুলোই করলেই চলবে না। এগুলো টিপসগুলো মাঝে মাঝে খানিকটা পরিবর্তন করে দেখতে হবে সিপিসি কিংবা অ্যাডসেন্সের আয়ে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা। মাঝে মাঝে নিশ পরিবর্তন, অ্যাড প্লেসমেন্ট পরিবর্তন ও গুগল অ্যাডসেন্স সেন্টারের বিভিন্ন রিসোর্স ঘাটতে থাকুন। এভাবে আপনি আপনার অ্যাডসেন্সের সিপিসি বাড়ানোর মাধ্যমে আয় বাড়াতে পারেন।

Related posts

*

*

Top