সব ছাপিয়ে এখন তারা দেশ সেরা ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপার

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দু’জনই শখের বসে শুরু করেছিলেন ফ্রিল্যান্সিং। কম্পিউটার ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জ্ঞান ছিল আগে থেকেই। শিক্ষাজীবন শেষে কাজও করতেন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে। তবে সব ছাপিয়ে এখন তারা দেশ সেরা ফ্রিল্যান্সার।

শখ থেকে এটি তাদের নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। আউটসোর্সিং খাতে অবদান রাখায় নির্বাচিত হয়েছেন দেশ সেরা ওয়েব অ্যাপলিকেশন ডেভেলপার হিসাবে।

টেকশহরডটকম বেসিস আউটসোর্সিং পুরস্কার পাওয়া এমন দুজন সফল ফ্রিল্যান্সের গল্প শোনাচ্ছে। মারুফ হাসান বুলবুল ও আব্দুল্লাহ আল মুহাম্মাদ ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে ওয়েব অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্ট শাখায় পেয়েছেন সেরা হওয়ার এ স্বীকৃতি। আসলে কী করেছেন তারা? তাদের দেশ সেরা ফ্রিল্যান্সার হওয়া কথা জানাতেই এ প্রতিবেদন।

Outsucing-Award-2014-logo-TechShohor

এখনও দেশে পেশা হিসাবে ফ্রিল্যান্স আউটসোসিং জনপ্রিয়তা বলতে যা বোঝায় তা হয়ে উঠতে পারেনি। এরপরও এটি অনেকের কাজের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুবিধাটুকু উপভোগ করতে অনেকেই পা বাড়াচ্ছেন এ পথে।

প্রথমে শখ করে শুরু করেলেও অনেকেই পরে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছেন এটিকে। কেউ কেউ মাঝপথে ঝড়ে পরলেও অনেকেই টিকে যাচ্ছেন। নিজে যেমন আয় করছেন, স্বকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন, তেমনি দেশের জন্য বহু মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করছেন।

এমন ফ্রিল্যান্সারদের অনুপ্রাণিত করতে ও আউটসোর্সিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিতে উৎসাহিত করতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর আউটসোর্সিং পুরস্কার দিচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। বলা হয়ে থাকে দেশে এ পুরস্কার ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি।

মারুফ হাসান বুলবুল
তরুন এ ফ্রিল্যান্সারের জন্ম ও শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইলে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষে ২০১২ সালে ভর্তি হন বুয়েটে। উদ্দেশ্য কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স। এখানে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকে শুরু করেন ওডেস্কে ফ্রিল্যান্সিং করার। প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে শুরু করলেও প্রথম দিকে কাজ না পেয়ে বেশ হতাশ হয়েছেন। বাধ্য হয়ে এক পর্যায়ে ঢুকলেন চাকরি জীবনে।

MarufHasan Bulbul_techshohor

তবে মাথায় ছিল ফ্রিল্যান্সিয়ের পোকা। তাই বেশি দিন চাকরি ভালো লাগল না। পাঁচ মাস তাই ছেড়েই দিলেন। আবার পুরোদমে শুরু করলেন ফ্রিল্যান্সিং। এবার আর তাকে হতাশ হতে হয়নি। লেগে থাকায় নিয়মিত কাজ পেতে শুরু করেন।

বুলবুলের বিশেষ আগ্রহ রুবি অন রেইলস টেকনোলজিতে ওয়েব অ্যাপলিকেশন নিয়ে। ঘন্টায় ১৫ ডলার হিসেবে কাজ শুরু করে এখন ঘন্টায় ৩৬ ডলার দরে কাজ করছেন তিনি। সপ্তাহে ৩০-৪০ ঘন্টা কাজ করেন। এতে মাসে আয়ের পরিমাণ সাড়ে চার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া তা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের অর্জনর বলে বুলবুল জানান। আর বেসিসের দেশ সেরা পুরষ্কার তার লেগে থাকার স্বীকৃতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুধু নিজে সফল হয়েই থেমে যাননি এ তরুন। দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজন করেছেন। ইচ্ছা আছে একটি প্রফেশনাল প্রোগ্রামার দল গঠনের।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটু কষ্ট হলেও হাল ছাড়েননি জানিয়ে বুলবুল বলেন, অনেককেই নতুন প্রযুক্তি ‘রুবি অন রেইলস’ শেখানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটি শিখতে অনেকের ধৈর্য্যের অভাব দেখে বিস্মিত হন তিনি।

আবদুল্লাহ আল মুহাম্মাদ
পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর চাকুরি। সেটা ২০০৬ সালে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে। চাকুরি করার সময়ই অবসরে শখের বসে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। কিন্তু চার বছর না যেতেই শখ হয়ে যায় পেশা। ২০১১ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন আউটসোসিংয়ে। পরিশ্রম ও চেষ্টার সঙ্গে মেধার সাক্ষর রেখে তিন বছরের মধ্যে হয়েছেন দেশ সেরা ফ্রিল্যান্সার।

1392927787_profile-pic-edit-2_r_150_0

দেশ সেরা এ ফ্রিল্যান্সারের পছন্দের কাজের ক্ষেত্রে ওয়েব অ্যপ্লিকেশন। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। এতে যা আয় হয় তা চাকরির আয় থেকে দ্বিগুণ। প্রতি মাসে তার আয়ের পরিমাণ এখন দুই লাখ টাকার বেশি।

শুধু ফ্রিল্যান্সার হিসাবে নিজে কাজ করে ও আয় করে থেমে থাকেননি মুহাম্মাদ। প্রতিষ্ঠা করেছেন আউটসোর্সিং কোম্পানি। দুই বন্ধু মিলে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানী এখন সফলতার সাথেই চলছে বলে তিনি জানান। বেসিসের এই দেশ সেরা স্বীকৃতি তার কাজের গতি আরও বাড়িযে দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Related posts

টি মতামত

  1. তারেক said:

    আমাদের দেশে এমন ছেলে আরো অনেক হবে।তাদের হাত ধরে এ দেশে আরো নতুন নতুন ফ্রিলান্সার তৈরি হবে।

*

*

Top