Maintance

বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা : বাস্তবতা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যত রূপরেখা

প্রকাশঃ ৬:০০ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৪৮ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬

টি. আই. এম. নূরুল কবীর, অ্যামটব মহাসচিব ও সিইও : বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসে ২০১১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে, বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত গাইডলাইনের মাধ্যমে। মোবাইল আর্থিক সেবা গ্রাহকদের মাঝে প্রাথমিকভাবে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

আইএমএফ-এর আর্থিক প্রবেশাধিকার জরিপ তথ্যমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২০১২ সালে ছিলো পাঁচ লাখ, যা ২০১৫ সালে ৪০ লাখে উন্নীত হয়। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী এজেন্টের সংখ্যা ২০১২ সালে ছিল আনুমানিক ৫১ হাজার, যা ২০১৫ সালে বেড়ে হয় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার।

MB 3

শহর এবং গ্রামের মানুষের মাঝে মোবাইল আর্থিক সেবা গ্রহণের আগ্রহের উর্ধ্বসূচক প্রমাণ করে বাংলাদেশ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসরতা লাভ করছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার পাওয়া এবং আর্থিক সেবা বঞ্চিত মানুষের মাঝে।

তবে ইন্টার্মিডিয়া পরিচালিত বাংলাদেশ জরিপ ২০১৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ জনগোষ্ঠি মোবাইল আর্থিক সেবার নিবন্ধনভুক্ত সক্রিয় গ্রাহক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের ফেব্রুযারি মাসে নিবন্ধনভুক্ত মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৩৯ লাখ। কিন্তু তার মধ্যে ৫৯ শতাংশই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সেবা গ্রহণের নিম্নহার থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবার সম্ভাব্য প্রসার ও আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবিক অগ্রগতি লাভে আমাদের এখনও অনেক দূর অগ্রসর হতে হবে।

লেনদেনের পরিমাণ বনাম প্রকৃত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা বাজারে শতভাগ একচেটিয় দখল বিরাজ করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অন্তর্দৃষ্টি প্রতিবেদন ২০১৫ অনুযায়ী একটি কোম্পানি বাজারে এককভাবে ৯১ শতাংশ মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্ট এবং ৮২ শতাংশ মোবাইল আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছে।

বাংলাদেশে অনেকে মোট লেনদেনের পরিমাণ (৬১৬ কোটি টাকা) আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিমাপক হিসাবে গ্রহণ করে থাকে। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে এখনও ৯৫ শতাংশ লেনদেন স্রেফ টাকা পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ,যা আসলে পূর্বের কূরিয়ার সার্ভিসের পরিবর্তে ইলকট্রনিক প্রণালীর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুবিধা তৈরি করেছে মাত্র।

বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ আর্থিকভাবে এখনও বঞ্চিত (আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সূচক ২০১৬ এবং বিশ্বব্যাংক ২০১৪)। আর্থিকভাবে বঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সঞ্চয়, ঋণ, বীমা এবং অন্যান্য সেবাসহ উদ্ভাবনামূলক আর্র্থিক সেবা পৌঁছে দিতে আমাদের আরও অনেক অগ্রসরতা লাভ করতে হবে। বাজারে এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বিশেষ উদ্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়নি।

MB 2

প্রতারণা এবং গ্রাহক পরিচয় নির্ণয় প্রসঙ্গ

পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের বিপরীতে বাংলাদেশ মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যাংকচালিত মডেল গ্রহণ করেছে। ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেইমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ ব্যাংকের জন্য মোবাইল আর্থিক সেবা গাইডলাইন জারি করে এবং সে বছর ২০ডিসেম্বর তাতে সংশোধনী আনা হয়। উক্ত গাইডলাইনে নির্দেশিত হয়েছে, শুধুমাত্র ব্যাংক চালিত মডেল সেবা দানের অনুমোদন লাভ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রধানত অর্থ পাচারের সম্ভাব্যতা রোধ করার প্রশ্ন বিবেচনায় রেখে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং-এর ভূমিকা বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বাজারে বিদ্যমান অনেক ধরণের প্রতিকূলতা চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিআইবিএম কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হযেছে,‘সচরাচর অর্থ পাচারের জন্য মিথ্যা পরিচয় দিয়ে নিবন্ধনকৃত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি শাখার একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা যখন কোনো সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রেক্ষিতে গ্রাহক পরিচয় বিষয়ে জানতে চাই-দেখা যায়, একশ’র মধ্যে ৯৯টা জাল পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করা হয়েছে।’ এজেন্টরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গ্রাহক পরিচয় যাচাই করার ন্যুনতম গরজ করেন না (সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, ২০১৫)।

ব্যাংকসমূহের জন্য মোবাইল আর্থিক সেবা গাইডলাইন ২০১১, ধারা ৬ অনুযায়ী, ‘গ্রাহক অ্যাকাউন্ট’ যা ‘মোবাইল অ্যাকাউন্ট’ নামে অভিহিত হবে, ব্যাংকের অধীনে থাকবে এবং গ্রাহকের মোবাইল যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।’ ফলে এখন প্রশ্ন আসে, কার্যক্ষেত্রে উক্ত গাইডলাইন কি অনুসরণ করা হচ্ছে,বিশেষ করে অন্যতম সেবা প্রদানকারীর পক্ষ হতে?

ওভার দি কাউন্টার সেবার ব্যবহার

যে সমস্ত লেনদেন এজেন্টের সাহায্যে সম্পন্ন হয় তা ওভার দি কাউন্টার লেনদেন নামে পরিচিত। বাজারে সিংহভাগ (৮০ শতাংশের বেশি) লেনদেন হয়ে থাকে এজন্টের মাধ্যমে ওভার দি কাউন্টার। বর্তমানে সক্রিয় মোবইল ওয়ালেট-এর ব্যবহার মাত্র আট শতাংশ।

এফইচআই৩৬০, এম-স্টার এবং ইউএসএআইডি কর্তৃক যুক্তভাবে ‘বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা’ শিরোণামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওভার দি কাউন্টার লেনদেন বিষয়ে কড়াকড়ি নিয়ম রাখার প্রধান কারণ, গ্রাহক পরিচয় নির্ণয় এবং অর্থপাচার বিরোধী বিধি-অনুবর্তিতা নিশ্চিত করা। পুরোপুরি ওভার দি কাউন্টার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে অর্থ প্রেরণকারী এবং অর্থ গ্রহনকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়, যেহেত সম্পূর্ণ লেনদেন বাস্তবিক এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।’

যথাযথ নজরদারি বা তদারকি

প্রেরিত অর্থের উৎস এবং গন্তব্য নির্ণয়ের দিক দিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রণালীর মাধ্যমে অর্থ গমনাগমনের গতিধারার উপর যথাযথ নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে ওভার দি কাউন্টার (এজেন্টের মাধ্যমে) লেনদেন ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে, যা দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে বহুল চর্চিত একটি অনিয়মে পরিণত হয়েছে।  ওভার দি কাউন্টার লেনদেন একটি গুরুতর সমস্যা এবং মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে অনেক দুস্কৃতির মূল কারণ।

যাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট নেই বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সকল ব্যক্তির পক্ষ থেকে মোবাইলে অর্থ প্রেরণ নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। তবে এজেন্টদের কার্যক্রম যথাযথ ভাবে তদারকি করা এবং প্রয়োজনে বিধিসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কার্যকরি পদ্ধতি হাল নাগাদ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশে সম্প্রতি আর্থিক ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন প্রতিহতকরণ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করার যথোপযুক্ত সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং কার্যকরী পদ্ধতি নির্ধারণ করার আবশ্যিকতা আঙ্গুল দিযে দেখিয়ে দেয়। অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং সাইবার অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং উপযুক্ত তদারকির যথার্থ সামর্থ গড়ে তোলা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে ।

MB-1

 উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগ

বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব থাকার কারণে উদ্ভাবনা এবং বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য এবং আগ্রহী বিনিয়োগকারিদের জন্য প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা থাকার ফলে বাংলাদেশে একরকম নিয়মতান্ত্রিক একচেটিয়া দখলদারিত্বের অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যদিও ২৯টি লাইসেন্স জারি করা হয়েছে কিস্তু বাস্তবে বাজারে শুধু দুইটি সক্রিয় পক্ষের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে হতে একটি পক্ষ স্পষ্টত বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে আছে।

বিশ্বের ৬০ শতাংশ মোবাইল আর্থিক সেবা যদিও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) পরিচালিত, কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তাদেরকে ব্যবসায় প্রবেশাধিকার দেয়া হয়নি। ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগবান্ধব বাজার সৃষ্টির অনুকূল বিধিমালা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে এমএনও বাজারে প্রবেশাধিকার রাখে।

বিশ্ব বাজারের অগ্রগতি লক্ষ্য করে এবং মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা এবং সম্ভাবনার আলোকে সার্ক অঞ্চলের সমস্ত প্রতিবেশি দেশ (ভারত এবং শ্রীলংকার মতো তুলনামূলকভাবে উন্নত বাজার) এবং যারা আমাদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে (মায়ানমার, নেপাল) মোবাইল অপারেটরদের জন্য আর্থিক সেবা শিল্পে অংশীদারিত্বের সুযোগ রেখেছে।

mobile banking 3

 অগ্রসরতা লাভের জন্য পদক্ষেপ

বিশ্বে মোবাইল অর্থের গতিধারার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান সংকট বিচেনায় নিয়ে এবং ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মোবাইল আর্থিক সেবা শিল্পের উন্নয়নের জন্য আমার সুপারিশ :

ক)  উদ্ভাবনবান্ধব প্রতিযোগিতামূলক ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক বহির্ভূত পক্ষের জন্য প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা আবশ্যক। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও বিধি-অনুবর্তিতা বিষয়ে অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এবং বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহের কারণে এমএনও মোবাইল আর্থিক সেবা শিল্পে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম । এতে উপস্থিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আইনি নজরদারির কার্যধারা নিশ্চিত করা যায়, যার জন্য তাদের গোড়া থেকে শুরু করার প্রয়োজন হবে না। মোবাইল আর্থিক সেবা বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের লেনদেন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আগামীতে প্রণালী সমন্বয়, সেবার বৈচিত্র, নিরাপত্তা, প্রতারণা প্রতিরোধ, প্রযুক্তি উন্নতকরণ ইত্যাদির দিক দিয়ে জটিলতা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের বড় পরিসরে পুঁজি প্রধান দ্রুতগতি সম্পন্ন জটিলপ্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আরও বেশি কাজে লাগবে। বাজারভিত্তিক যৌথ উদ্যোগের পরিবেশ উৎসাহিত করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ভার এবং গ্রাহকের তহবিল থাকবে ব্যাংকের অধীনে।

খ) সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (USSD) ব্যবহার সংক্রান্ত বিধি : যদিও সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (USSD) ব্যবহারে ভয়েস সার্ভিসের সমপরিমাণ রশদ খরচ হয়। কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন ব্যবহারের নিশ্চয়তা নির্ভর করে ব্যবহৃত রশদের বিনিময়ে উপযুক্ত মূল্য লাভ, তথাপি বর্তমানে সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (USSD) ব্যবহারের জন্য মোবাইল অপারেটরদের উপযুক্ত প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (USSD)  সার্ভিসে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় আয় ভাগাভাগির ভিত্তিতে। উল্লেখিত ব্যবস্থা বেশিকাল টেকসই হবে না কারণ, যে সাপ্লিসেন্টারি ডাটা সার্ভিস অবিরত ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করা হয় তা চরম ভাবে অপব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় বিনা মূল্যে। এমএনও তাদের রশদ ব্যবহারের যৌক্তিক বিনিময় মূল্য পাচ্ছে না। অবাধ স্পেক্ট্রাম ব্যবহারের ফলে সার্বিক সেবার মান প্রভাবিত হচ্ছে। সংযোগ এবং সেবা পৃথক করা দরকার এবং সাপ্লিসেন্টারি ডাটা অন্যান্য রশদ বা সেবার সমকক্ষ গণ্য হওয়া উচিত।

গ) অবহেলিত বিষয়ের সমাধা করা হোক: মোবাইল অপারেটররা মোবাইল আর্থিক সেবা গাইডলাইন জারির অনেক আগে, ২০০৬ সাল হতে বেশ কিছু পেইমেন্ট সেবা দিয়ে আসছে, যেমন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ট্রেনের টিকিট ক্রয়, ইত্যাদি। উক্ত সেবাসমূহের উপযোগিতা প্রমাণিত, যা লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের আস্থাও অর্জন করেছে এবং বাজারে সেবাগুলোর চাহিদা আছে। আমি নীতিনির্ধারকদের কাছে অনুরোধ করতে চাই, মোবাইল অপারেটরদের জন্য পেইমেন্ট সেবা প্রদানের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হোক, কারণ তা বিগত ১০ বছর ধরে সাময়িক (এ্যাডহক) অনুমোদনের ভিত্তিতে বাজারে চালু রযেছে। ’বাংলাদেশ পেইমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমন্টে সিস্টেম রেগুলেশন ২০১৪’ (বিপিএসএসআর) এবং খসড়া জাতীয় পেইমেন্ট অ্যাক্ট (এনপিএ) অনুযায়ী পেইমেন্ট সেবা প্রদানকারির লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আবেদনকারীর পক্ষে ব্যাংক মালিকানা থাকা আবশ্যক নয়। বিপিএসএসআর এবং খসড়া এনপিএ উভয় বিধি অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ এখতিয়ার রাখে। অতএব, বিপিএসএসআর ২০১৪ -এর সঙ্গে যৌক্তিক সঙ্গতি স্থাপনের ভিত্তিতে মোবাইল আর্থিক সেবা কোম্পানিসমূহকে বিশেষ ধরণের পেইমেন্ট সেবা প্রদানকারি বা ই-অর্থ জারিকারকের মর্যাদায় বিবেচনা করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট বিধি-ব্যবস্থার আওতায় আনা হোক। পেইমেন্ট যেহেতু ব্যাংক সেবার অন্তর্ভূক্ত নয় তাই মোবাইল আর্থিক সেবা প্রণালী স্পষ্ট করে ই-অর্থ জারিকারক/ পেইমেন্ট সেবা প্রদানকারী হিসাবে সজ্ঞায়িত করা হোক, যাতে বিধি-ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজনে ব্যাংক মালিকানার শর্ত আরোপের আবশ্যকিতা না আসে। ব্যাংকসহ যথোপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো পক্ষ ই-অর্থ জারি প্রণালীর ১০০ ভাগ মালিকানা অধিকার করতে পারে।

Untitled-1

লেখক তথ্যপ্রযুক্তি ও উন্নয়ননীতি বিশ্লেষক। তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে নূরুল কবীর দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে কাজ করছেন। তিনি ডট অর্গ গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য। সেইসাথে জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম, ডাব্লিউএসআইএসেও কাজ করছেন। তিনি স্পিনোভিশন লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার এবং সিইও ছিলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সিনিয়র সভাপতিও ছিলেন। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবে যোগ দেয়ার পর সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আসে। দেশের টেলিকম খাতের নীতি-নির্ধারণীতে সংগঠনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেন-দরবার ছাড়াও এ খাতের উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখেন নূরুল কবীর।

*

*

Related posts/