এবার সক্ষমতা দেখতে চাই

Mustofa Jabbar_techshohorমোস্তাফা জব্বার : সরকারের সর্বশেষ মন্ত্রণালয় হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং পরে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় আমাদের এ খাতের জন্য অবশ্যই একটি বিশেষ উত্তরণ। ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে প্রথম যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ শব্দ দুটি যুক্ত হয় তখনও আমরা আশায় বুক বেধেছিলাম।

তখন আমাদের ধারণা ছিল সেই সরকার কেবল কথায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্ত করবে না বরং সত্যিকার অর্থে মন্ত্রণালয়টিকে ঢেলে সাজাবে। এবং একটি জাতির ডিজিটাল যুগে উত্তরণের স্বপ্নকে সফল করার সকল উদ্যোগ নেবে। কিন্তু সেই সরকার মন্ত্রণালয়ের নাম বদলের পর তিন বছর সময় কাটানো স্বত্ত্বেও বস্তুত মন্ত্রণালয়ের কাজের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করত নতুন নামের মন্ত্রণালয় সেই একই কাজ করতে থাকে। সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডঃ আব্দুল মঈন খান আগের মতো ধরাবাধা কাজ করতে থাকেন। বলা যায়, তার কাজের কোন রকমফের হয়নি। বস্তুত কোন পরিবর্তনই আমরা দেখলাম না, নামের বদলের ফলে কাজের বদল হয়নি।

সে সময়ে বরং মঈন খানের মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গবেষণার টাকা বেনামে-স্বনামে মন্ত্রীর আপনজনদেরকে প্রদান করার অভিযোগ ওঠে এবং মন্ত্রণালয়টিও একটি দুর্ণীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিত হয়। পুরো পাঁচ বছরে এ খাতে অগ্রগতির যে নেতৃত্ব সেই সময়কালে ছিলো সেটিও এই মন্ত্রণালয় দেয়নি। বরং এই বিষয়ে কাজ কর্ম যা করার সেটি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে যুক্ত এসআইসিটির (এটু আই) মাধ্যমে। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সাইডলাইনে বসে থেকে খেলা দেখার কাজই করেছে।

a2i website header-TechShohorএরপর পেলাম দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা রাজনীতি বদলাতে চাইলেও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মের পরিধি বদলাতে চায়নি মোটেও। ২০০৮ সালের বহুল আলোচিত নির্বাচনে মন্ত্রণালয় না বদলালেও সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয় রাজনৈতিক ঘোষণায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। জন্ম থেকে স্বপ্ন দেখা একটি জাতির আকাশে ওড়ার সেই প্রতিজ্ঞা অনিবার্য করে তোলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কাজকে। তার দ্বিতীয় সরকারের আমলে তিনি সেই কাজটি সম্পন্ন করেন।

এরই মাঝে শেখ হাসিনা সরকারের একটি মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন নির্বাচনের পর নতুন একটি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এবারও শেখ হাসিনার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে।

বিগত সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম নিয়ে অনেক প্রত্যাশার পাশাপাশি কাজের পরিধিও বেড়ে যায়। এ সময়ে হাসিনা সরকারের প্রতিটি অঙ্গ প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করে একটি কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে ডিজিটাল যুগে উত্তরণ ও একটি সামন্ত সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করার বিরামহীন লড়াইতে আমি কখনও এ সরকারকে নিশ্চুপ দেখিনি। ব্যক্তিজীবন, রাষ্ট্র ও সমাজের নানা সংকটকে কাটিয়ে বিরামহীনভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের লড়াই করা হচ্ছে এখনও।

digital bangladesh_techshohor

যদি অর্জনের কথা বলতে হয় তবে একটি সুদীর্ঘ তালিকা আমি তৈরি করতে পারব। গ্রামের কৃষকের কাছে সরকারের সেবা ও দুনিয়ার সর্বশেষ তথ্য পৌঁছানোর লড়াই থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ে ও ন্যাশনাল ডাটা সুইচের কাজ করা কিংবা বাংলাদেশের প্রথম থ্রি টায়ার ডাটা সেন্টার সক্ষমতার সাথে চালু করার বিষয়ে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টাকে অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে।

এ সময়ে মোবাইলে টাকার লেনদেন থেকে শুরু করে অনলাইনে ভর্তি বা দরপত্রের ব্যবস্থা করাসহ শত শত কাজের কথা উল্লেখ করা যাবে যা আমাদের ভাবনারও অতীত ছিল। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজটির খাপছাড়া টাইপের নেতৃত্ব ছিল সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত এটুআইর হাতে।

এ প্রকল্প থেকে সরকারের নানা অঙ্গের নানা কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির নের্তৃত্ব বা তাদের প্রচেষ্টার ফলে আমাদের চারপাশে কতটা সফলতা এসেছে বা এর প্রভাব কতটা পড়বে তার বিচার এখনই না করে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করে দেখা যাবে তারা কতটা সঠিক ছিল।

বিষয়টি এখনও অনেকের কাছে মিশ্র বিষয় এজন্য যে এটুআই বা তার পূর্বসূরীরা অতীতেও একই অবস্থানে থেকে দেশটিকে ডিজিটাল করার কর্মপ্রচেষ্টা চালিয়েছিল। সেই ছক ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণাকারী সরকারের হাতে একই রকম থাকতে পারেনি। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার নের্তৃত্ব এবং সরকারের সকল কাজের সমন্বয় তাদের হাতে থাকবে কিনা সেটি আবার নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

এ কারণে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব যেন ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নের্তৃত্ব এটুআইকে না দিয়ে এ খাতের যে মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনা তৈরি করেছেন তার হাতে দেয়া হয়। কারণ সরকারের একটি যুগান্তকারী কাজের সমন্বয়কারী ইউএনডিপির সাহায্যপুষ্ট একটি প্রকল্প থেকে করা মোটেই সমিচীন নয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা বা এনজিওরা সরকারকে সময়মতো কোথায় ঝুলিয়ে দিতে পারে তার বহু নজির রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আমরা আরও অনেক নতুন নজির দেখছি। ফলে নের্তৃত্ব অবশ্যই সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকতে হবে।

আমি মনে করি, যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় না থাকত তবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ন্যস্ত হতে পারত। কিন্তু সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় থাকার পর খাতটিকে কোনভাবেই একটি প্রকল্পের অধীনস্থ করা যায় না। ইউএনডিপি বা বিশ্বব্যাংক কিংবা আইএমএফকে কতোটা বিশ্বাস করা যায় সেটি পদ্মা সেতু নিয়ে আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি।

আমি মনে করি, এটুআইকে তার নির্দিষ্ট কাজ করার দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হোক এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সকল কাজের সমন্বয় করুক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় নের্তৃত্ব দিক।

এ প্রসঙ্গটি আলোচনা করার প্রেক্ষিতটি আলোচিত হতে পারে। শুরুতে বলতে হয় যে, যদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই থেকে দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরের সমন্বয় করা হয় তবে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ভেঙ্গে আরেকটি নতুন স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পূর্ণ মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করার প্রয়োজন ছিল না। বস্তুত ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক যে স্বপ্নটি পুরো দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে তার জন্য কেবল একটি এটুআই নামক একটি প্রকল্প যথেষ্ট নয়।

এজন্য সরকার তার যথাযথ চিন্তা থেকে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেই কি তার সফলতা পাওয়া যায়? বিশেষ করে সে মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে সৈয়দ আবুল হোসেনের দায়িত্বপ্রাপ্তিকে অনেকেই একটি সেটব্যাক হিসেবে দেখেছিলেন।

পদ্মা সেতুর জটিলতায় সৈয়দ আবুল হোসেন স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছিলেন। তিনি দুর্নীতিবাজ বলে বিশ্বব্যাংকের তারস্বরে চিৎকার তাকে অবশ্যই অস্থির করেছিল। আমরা লক্ষ্য করেছি যে সে কারণেই হয়ত তার নের্তত্বে মন্ত্রণালয়টি প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছে।

আমাদের জন্য এটি খুব সুখের ছিল না এটি জেনে যে, মন্ত্রী মহোদয় নিজেও তার ডিমোশনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়টি সৃষ্টি করার পর তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না তোলা কোনভাবেই একটি সুস্থির কাজ ছিল না।

মন্ত্রী মহোদয় বা সচিবের যেমন বসার জায়গা ছিল না তেমনি এখনও নেই পর্যাপ্ত জনবল। এ মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব জনাব রফিকুল ইসলাম বস্তুত তার ব্রিফকেসে অফিস করে গেছেন। ঢাল তলোয়ার ছাড়াই তিনি কোনোভাবে তার দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আমরা তাকে সক্রিয় দেখলেও মন্ত্রণালয় বলতে বিসিসি ছাড়া আর কিছু চোখে দেখিনি। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে অন্তত একজন দায়িত্বশীল-কর্মঠ মন্ত্রী ও সচিবালয়ে একটি বসার জায়গা পেয়েছিলেন। এখন অবশ্য অবসর জীবন যাপন করছেন। আবুল হোসেনের পর মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তাকে সচল করতে পেরেছেন বলে আমাদের মনে হয়নি।

অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এখন নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এটুআইর প্রকল্প পরিচালক জনাব নজরুল ইসলাম খান। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতি তার সাড়া দেবার প্রবণতা খুব সঙ্গতকারণে অনেক বেশি হবার কথা। কারণ এটুআই প্রকল্পে থাকাকালে তিনি এ বিষয় নিয়ে চরকির মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। এখনও তিনি সেই কাজটি করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তিনি এ মন্ত্রণারয়টিকে ব্রিফকেসে নিয়ে ঘুরেছেন। অবশেষে কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে ঠাঁই পেয়ে, জনবল বাড়িয়ে এখন হয়ত একুট সুস্থির হতে পেরেছেন।

কিন্তু আমার জানা মতে এখনও তার মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি সঠিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। তার কাজের পরিধি যদি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাজের কাটাছেড়া অংশই থাকে তবে সেটি কোনোভাবেই একটি কার্যকর মন্ত্রণালয় হবে না।

আমরা বহুবার বলে আসছি যে, টেলিযোগাযোগ বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তির সাথে এমনটাই সম্পৃক্ত যে এখন তাকে আর আলাদা করার উপযোগিতা নেই। এ মন্ত্রণালয়টিকে টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু অংশ যুক্ত করা হলে কেবল যে কাজের ধারবাহিকতা সহজ হবে তাই নয়, কাজের বিন্যাসও সুন্দর হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের কাজের সঠিক ও সুন্দর বিন্যাস ও সঠিকভাবে দায়িত্ব বণ্টন। তবে আমি মনে করি দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারকে দ্রুত বিবেচনা করতে হবে।

১) নতুন মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি নতুন কর্মকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
২) ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সর্বময় দায়িত্ব এ মন্ত্রণালয়ের ওপর প্রদান করা প্রয়োজন।

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এ মন্ত্রণালয়ের প্রচুর কাজ জমে আছে। সেজন্য আমি অনুরোধ করব, সে কাজগুলো সম্পন্ন করা হোক। আমি এখানে কয়েকটি অতি জরুরী কাজের তালিকা পেশ করছি।

ক) বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের একটি মাত্র সভা হয়েছিল। এবার সভাটি অনুষ্ঠান করা খুবই জরুরী। এ কাজটিও এই মন্ত্রণালয়ের। একে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।

খ) ২০০৯ সালের আইসিটি পলিসি পুনর্মূল্যায়ন করে ৪২টি কর্মপরিকল্পনার একটি অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করে তার পর্যালোচনা চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অনুমোদিত হয়নি। কাজটি দ্রুত করা দরকার। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ নীতিমালার নবায়ন ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

গ) বহুদিন যাবৎ এ মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব গড়ে তোলার যেসব কাজ করছিল তা বন্ধ হয়ে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মর্সূচি ও প্রকল্প অনুমোদনবিহীনভাবে পড়ে আছে। অবিলম্বে সে প্রকল্পগুলো কাজে রূপান্তর করা দরকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব প্রকল্পের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তিকে বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও গবেষণার কাজও আছে। এমনকি বাংলা ইউনিকোডও এখন পর্যন্ত আইএসও/ইউনিকোডে কনেসোর্টিয়ামে পেশ করা হয়নি।

ঘ) সবচেয়ে জরুরী যে কাজটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই সেটি হলো ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠার কাজটি অবিলম্বে সম্পন্ন করা। এ মন্ত্রণালয়ের হাতে সচিবালয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করার একটি প্রকল্প থাকলেও বিগত সরকারের আমলে সকল মন্ত্রণালয়ের কাগজের কাজের ধারাকে ডিজিটাল করার জন্য যতো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেসব কাজে তেমন কোনো পরিকল্পনাও চোখে পড়ে নাই।

ঙ) সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে ডিজিটাল সরকারের উপযোগী করার জন্য মানব সম্পদ উন্নয়নের কোনো পদক্ষেপও আমি দেখছি না। আমি জানি না সরকারের লাখ লাখ কর্মচারি ডিজিটাল সরকারের কেমন জনসম্পদ হবে।

চ) জনতা টাওয়ারের এসটিপি, মহাখালী আইটি ভিলেজ ও কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্ক এখনও ঠিকানাহীন হয়ে রয়েছে। এসবের দিকে নজর দিতে হবে।

আমরা আমাদের স্বপ্নের স্বদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে দেখতে চাই। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের একুশ শতকের সোনার বাংলা। আমরা চাই শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রণালয় সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে নের্তৃত্ব প্রদান করুক। এখন একজন প্রথিতযশা রাজনীতিক জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দকী এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সাথে আছেন তরুন সাংসদ জুনায়েদ আহমদ পলক। আমরা আশা করি তাদের হাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ে পরিণত হবে।

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ১৩ ॥

লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলামিস্ট। দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক। বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রণেতা।

ই-মেইল : mustafajabbar@gmail.com
ওয়েবপেজ : http://www.bijoyekushe.net

Related posts

*

*

Top