Maintance

পেপ্যাল প্রপাগান্ডা : বিভ্রান্তি, বাস্তবতা ও করণীয়

প্রকাশঃ ৬:১২ অপরাহ্ন, জুলাই ২১, ২০১৫ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:২১ অপরাহ্ন, জুলাই ২১, ২০১৫

মো: শফিউল আলম : পেপ্যাল একটি গ্লোবাল অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম কোম্পানি যেখানে ইলেক্ট্রনিক বা ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেন সেবা দেয়া হয়ে থাকে যা প্রচলিত মানি-অর্ডার বা চেকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেপ্যাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট পেমেন্ট কোম্পানি হিসাবে পরিচিত যার বিশ্বব্যাপী সর্বমোট ২৩ কোটি গ্রাহক এবং ১৬ কোটি সক্রিয় গ্রাহক আছে।  শুধুমাত্র ২০১৩ সালেই পেপ্যাল ১৯৩ টি দেশে ২৬ টি কারেন্সিতে ১৮০ বিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছে। এতে পেপ্যালের মোট রেভিনিউ হয়েছে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

পেপ্যালের প্রধান সেবাগুলো হচ্ছে অনলাইনে অর্থ প্রেরণ, অর্থ গ্রহণ, পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক), পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রান্সফার, অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট,ডেবিট, প্রি-পেইড, চেক)।

পেপ্যালের সেবার প্রকৃত ধরণ এবং পরিধি : পেপ্যালের ২০৩ টি দেশের কাজ করার লিস্টিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২৫ বা ২৯ টি দেশে পেপ্যাল লোকালি ফোল সার্র্ভিস ফাংশনাল রয়েছে। বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং সিস্টেম, কারেন্সি, আইন, টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভিন্ন থাকায় পেপ্যালের অপারেশনও দেশভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। পেপ্যাল কেন একটি দেশে কাজ করে না সেই ফ্যাক্টগুলো সাধারণত গোপনই রাখে তারা। কিন্তু সাধারণত ধারণা করা হয় একটি দেশের ব্যাংকিং সিস্টেম, রিস্ক, বিজনেস কেইস, ট্যাক্সেশন, ইউএস ব্যান ইত্যাদি ফ্যাক্ট হয়ে থাকে ।

২০৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১০৭ টি দেশ তাদের অর্থ লোকাল ব্যাংকে উইথড্রো করতে পারে। তার মানে  বাকি ৯৬টি দেশ থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারলেও গ্রাহকরা লিমিটেড বা কোন ভ্যারিফাইড অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন না। প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষেত্রে কান্ট্রি ইনডেক্স ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। এখনকার মতই ইউএস অ্যাকাউন্ট (মাস্টার কার্ড / পেওনিয়ারের মতো) ভ্যারিফাইড মাস্টার কার্ড লাগবেই। তাই টাকা উইথড্রো করতে গেলে সেই একই পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে যা এখন আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা করছে পেওনিয়ার বা অন্যান্য মাস্টার কার্ড দিয়ে। পেপ্যালের সেবার ধরণ ও পরিধি দেশভেদে যেহেতু ভিন্ন হয় তাই তার ব্যাংকিং কালচার, স্যোশিও ইকোনমি ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: পেপ্যাল নয়, বাংলাদেশে আসছে জুম

paypal

বাংলাদেশে পেপ্যাল ও বিভ্রান্তি : বাংলাদেশে পেপ্যাল বা ইন্টারন্যাশনাল ইনওয়ার্ড অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ আমাদের প্রকৃত ধারণার অভাব। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে পেপ্যাল আসা নিয়ে প্রতিবার এক ধরণের আশ্বাস আসছে।

প্রকৃতপক্ষে পেপ্যাল বাংলাদেশে না আসার ক্ষেত্রে সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিসের একক ব্যর্থতা নয়। পেপ্যাল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রাইভেট কোম্পানি যারা তাদের প্লান, পলিসি, রোডম্যাপ, ফিজিবিলিটি, রিস্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা করে থাকে।

বাংলাদেশে পেপ্যাল বা এই ধরণের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে আমাদের বুঝতে হবে কারা এটার স্টেক হোল্ডার এবং কাদের কি ভূমিকা নিতে হবে। যেমন পেপ্যালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক হচ্ছে প্রধান স্টেক হোল্ডার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই লিড নিতে হবে বা মিটিং করতে হবে, পলিসি ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে তাতে আমাদের সকল ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, বেসিস একসাথে একযোগে কাজ করতে হবে ।

আমরা যারা পেপ্যাল নিয়ে বেশি সাফার করি তার একটি কারণ যেমন টাকা বিদেশ থেকে সহজে আনা আবার আরেকটি কারণ কিন্তু পেপ্যাল ব্যালেন্স অনলাইনে খরচ করা। সেটা বিভিন্ন প্রয়োজনে, সেটা ডোমেইন কিনা থেকে শুরু করে, ফরেক্স করা, অনলাইন বেট খেলা,  টিকেট কেনা, অনলাইন শপিং করা, ই-বে বা অন্যন্য ডিল, অফার নেয়া, ডিজিটাল সার্ভিসের সাবক্রিপশন করাসহ হাজার সেবা , পণ্য এবং উপকরণ পেতে।  প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে আমরা অন্য দশটি উন্নয়নশীল দেশের মতই এসব পেতে চাই, সম্ভবত আমাদের বাস্তবতায় এই স্বপ্ন হয়তো পূরণ নাও হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিয়ম একই রকম। দেশের বাইরে টাকা পাঠানো বা বিদেশী সাইটে বা অনলাইন ক্রয়ে কড়াকড়ি আরোপ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও হয়তো ভারতের মত আমাদের দেশে এরকম আইন করবে যে পেপ্যাল দিয়ে কোন গুডস বা সার্ভিস কেনা যাবে না বা টাকা ৭ দিনের বেশী পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে রাখা যাবে না , বিদেশে টাকা ট্রান্সফারসহ অর্থপাচার রোধে সকল ব্যবস্থাই থাকবে । তাই আমাদের জানা উচিত পেপ্যাল অন্য দেশে যে সেবা বা সুযোগ দিয়ে থাকে বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে তা দেয়ার সুযোগ নেই। কেউ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন- পেপ্যালের ২৫ হতে ২৯ টি  ফুল স্কেল অপারেটিভ দেশেগুলো ছাড়া অন্য দেশগুলোতে কি ধরণের লিমিটেড সেবা দিয়ে থাকে। তাহলে অনেকটাই বাস্তব ধারণা মিলবে যে বাংলাদেশে পেপ্যালের গুরুত্ব কতটুকু !

ভারতের পেপ্যাল পাইলটিং এবং সাউথ এশিয়া রেপ্লিকেট : উন্নয়নশীল দেশগুলোর ফরেন-কারেন্সি, মানি-লন্ডারিং, আওউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স আইন অনেক রেস্ট্রিকটেড থাকে। যদি বাহিরে টাকা পাঠানো উন্মুক্ত করে দেয়া হয় তাহলে অনলাইন পারচেজ থেকে শুরু করে ম্যসিভ মানি-লন্ডারিং হবে।

পেপ্যাল দক্ষিণ এশিয়াতে এখনও পাইলট করছে। ভারতে পেপ্যাল এখনো স্ট্রাগল করছে। রিজার্ভ ব্যংক অফ ইন্ডিয়া নতুন পলিসি নিয়েছে যেখানে প্রতি ট্রাঞ্জেকশনে ৫০০ ডলারের বেশি পাঠাতে পারবে না, সাত দিনের বেশী অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখতে পারবে না, কোন ই-কমার্স সাইট থেকে গুডস পারচেজ করতে পারবে না, এমনকি পিয়ার টু পিয়ার ট্রান্সফার লিমিটেড একটি ব্যংকের ক্রেডিট কার্ড ইউজ করে করতে হবে। এমন আরবিআই করতে হয়েছে অনেকগুলো কারণে তারমধ্যে অন্যতম সমস্য ট্যাক্সেশন, ব্যংক ইন্টারেস্ট কনফ্লিক্ট হয়। সম্ভবত পেপ্যাল ভারতে সফল হতে পারলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে রেপ্লিকেট করবে।

অনেকেই বলে থাকেন নেপাল, ভুটানে পেপ্যাল ( লিমিটেড সার্ভিস/ আন-ভেরিফাইড, শুধু মাত্র ইউএস অ্যাপ্রুভ মাস্টার কার্ড ইউজ করে টাকা উঠানো যায়) আছে তাহলে বাংলাদেশ, পাকিস্তানে কেন নেই? যদিও পেপ্যাল কখনো প্রকাশ করে না কেন তারা একটি দেশে কাজ করে না। পেপ্যাল ৯৬ টি দেশে লিমিটেড সার্ভিস দিয়ে থাকে যেখানে বাংলাদেশ থেকেও অনেকেই পেপাল ইউজ করছে ।

পেপ্যাল

পেপ্যাল গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ : যেহেতু অনলাইন আর্থিক লেনদেনের ব্যাক-অফিস একটি কমপ্লেক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। যেখানে প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত পরিবর্তন এবং এডাপটেশন চ্যালেঞ্জতো আছেই। যে কারণে পেপ্যালের অনোন্নয়ন দেশগুলো  টার্গেট মার্কেট নয় এবং এ নিয়ে তাদের ভাবনাও নেই। তাছাড়া ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেশন অন-সাইট অপারেশন বাধ্যতামুলক থাকায় ইন্ডিয়ার মডেল সেটেল্ড না হওয়া অবধি অপেক্ষা করা ছাড়া বাংলাদেশের উপায় নেয়।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও করণীয় : বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অনেকেই যা মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যংকের পলিসি সাপোর্ট থাকলেই হয়তো পেপ্যালের চলে আসা সহজ। প্রকৃতপক্ষে শুধুমাত্র পলিসি ব্যাক-আপ দিয়ে অনলাইন পেমেন্ট প্রডাক্ট চালু করা সহজ নয় কারণ পলিসিগুলোও অটোমেশন করতে হবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ।

পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন ইন্টারন্যাশনালি দরকার তেমনি লোকালিও দরকার। যেখানে বাংলাদেশে একটিও লোকাল অনলাইন পেমেন্ট গেইটওয়ে নেই। যদিও আমাদের কয়েকটি মার্চেন্ট পেমেন্ট সার্ভিস আছে। এসএসএল কমার্স, ইজিপেওয়ে, আমারপে, ওয়ালেটমিক্স ইত্যাদি যা কয়েকটি ব্যাংক এবং মোবাইল ট্রাঞ্জেকশন প্রসেসরকে কানেক্ট করে এমন হাব বা গেইটওয়ে তৈরি হয়েছে। কিন্তু মধ্যবর্তী ইস্যূয়িং ব্যাংক, অথরাইজিং ব্যাংক, মাস্টার কার্ড বা ভিসা ফি, এমএসপি সার্ভিস ফি দিয়ে গ্রাহক সেবা বা ই-কমার্স বিপ্লব কঠিন।

গত প্রায় এক দশক ধরে সকল কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোকে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটার পর একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ডেপ্লয় করানো হয়েছে। এখনো কিছু ব্যাংক ডিসেন্ট্রালাইজ ব্রাঞ্জ ব্যাংকিং মডিউল দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এসিএইচ (অটোমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ) অনেক আগেই ইমপ্লিমেন্ট করা হলেও সেটা সম্ভবত চেক ক্লিয়ারিং, পস, এটিমে কাজ করছে । যদিও ইন্টারব্যাংক ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য বিইএফটিইএন (বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) চালু করা হয়েছে তারপরও প্রকৃত চিত্রে যতটুকু জানি প্লাস ওয়ান ডে লাগে তার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে এখনও সব কোর-ব্যাংকিং সিস্টেমের সাথে রিয়েলটাইম কানেক্টিভিটি হয়নি। সেক্ষেত্রে বিশেষ ফাইল আপলোড করে কাজ সাড়া হয় যার ফলে সেটেলমেন্ট এবং রিকনসিলিয়েশনে টাইম লাগে।

BB

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সংবাদ অনেকটা পেপ্যালের মত আসছে আসছে। কিছু ব্যাংক নিয়ে শুরু হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু এখনো সার্বজনীন হয়নি। পেপ্যাল বা আমাদের লোকাল পেমেন্ট অটোমেশনের জন্য এনপিএস মেন্ডটরি। তা না হলে যেমনি আমাদের ইন্টারব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার সম্ভব নয় তেমনি পেপ্যাল যে আইডি ভ্যারিফিকেশনের জন্য মানি ডিপোজিট করে থাকে তা সম্ভব নয়।
তাই আমাদের এই টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাফাকচারগুলো এখনি শুরু করতেই হবে।

কারণ পেপ্যাল আসলে যেমনটি ডিরেক্ট ডিপোজিট করতে এনপিএস লাগবে পাশাপাশি আরটিজিএস (রিয়েলটাইম গ্রোস সেটেলমেন্ট) ফর অনলাইন ট্রানজেকশনের জন্যও মডিউল রেডি থাকতে হবে। এই সবগুলো ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পর বিজনেস মডেল এবং পলিসি সেট করে রাখতে হবে এবং আমরা যাতে সরাসরি উইথড্রয়াল করতে পারি ব্যাংক একাউন্টে।

কারন আমাদের যে এনআরবির ট্যাক্সেশন আছে, পলিসি আছে, ব্যাংক ইন্টারেস্ট পলিসি আছে সেগুলো অবশ্যই সুনিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এনআইডির এপিআইকে উন্মুক্ত করতে হবে যাতে সহজেই সেন্ডার এবং বেনেফিসিয়েয়ারির অ্যাকাউন্টকে ওয়াইসি ( নো ইউর কাস্টমার) করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেকগুলো মডিউল অলরেডি আছে কারণ টেরোরিস্ট ফাইন্যান্স অন্যতম ভয় পেপালের জন্য তাই গো-এএমএলসহ অন্যন্য মডিউলগুলো উম্মুক্ত করতে হবে।

কারেন্সি রোটেশন ল বাংলাদেশের জেনেরিক এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে অনলাইন পেমেন্টের নেচার যেহেতু অন্যরকম তারপর রিয়েলটাইম তাই এটার কি পলিসি মেইনটেইন করতে হবে তা ঠিক করতে হবে । তাছাড়া আমাদের চার্জব্যাক বা রিফান্ড পলিসিগুলোও সেট করতে হবে যেহেতু বাংলাদেশের কালচার ভিন্ন তাই এটার মিটিগেশন প্রসেসগুলোও ভিন্ন হবে।

তাছাড়া সাইবার-ল, ফ্রডলেন্ড ল, ম্যান-ইন- ব্রাউজার এট্যাক ( এম-আই-বি),আই-ডি থেফড, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশিং, অটুমেটিক হারভেস্টিং অফ কাস্টমার ডেটা ভায়া বটনেট এবং হ্যাকিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে আমাদের মিটিগেট করতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে পেপ্যাল বা অন্যন্য ইন্টারন্যাশনাল , ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে সহজেই কাজ করতে পারে।

Paypal-2

পেপ্যালের বিকল্প : বাংলাদেশকে এখনও যারা ছোট প্লটিং মনে করছেন সেটা তাদের ইনফিরিয়র ডিসঅর্ডার। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদশের সাধারণ মানুষ তথাপি এই যুব সম্প্রদায় প্রমান করেছে বিভিন্ন সেক্টরে আমরা অন্যতম পটেনশিয়াল রাইজিং ইকোনমি, নেক্সট এশিয়ান টাইগার (নট অনলি ক্রিকেট) , মেচিউর, ক্যাপাবল। এটা আমরা যদি কাজে লাগাতে না পারি সেটা আমাদের ব্যার্থতা এবং দূর্ভাগ্য।

আমরা অনেক কিছুতেই নিজেদের সেরা প্রমান করেছি এবং করে যাচ্ছি। আমাদের মাইন্ডসেটও বদলেছে। একজন ক্লায়েন্ট যদি পেপ্যাল ছাড়া অন্য মডেলে পে করতে রাজি না হয় তাহলে আমরা আর সেই অবস্থানে নেই বরং আমাদের প্রেফার মোডেই তাদের ট্রান্সফার করাতে হবে। যেহেতু আমাদের অন্য কোন উপায় নেই এবং এটাই বাস্তবতা।

পাশাপাশি আমরা যে পেপ্যালের জন্য থেমে নেই তার প্রমান আমাদের ফ্রিল্যান্সার এবং আইটি কোম্পানিগুলো যারা বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে তেমন কোন বাধা বা সমস্যা ছাড়াই।

আমার মত প্রায় সব আইটি কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিং কাজ করছে এবং আমরা নরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতি মাসে কোন বাধা ছাড়াই লাখ লাখ ডলার নিয়ে আসছি। ফ্রিল্যান্সারও সহজেই টাকা উঠাতে পারছেন লোকাল ব্যাংকে, স্ক্রিল, পেওনিয়ার, নেটেলার বা আরও অনেক সেবাদাতা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যারা মাস্টার কার্ড প্রভাইড করছে ।

পেপ্যাল অনেক সহজলভ্য কিন্তু ব্যায়বহুলও বটে । আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পেপ্যাল বা লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যা ই-কমার্সের জন্য বা পি টু পি , ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য।

আমাদের বিদেশে কর্মরত শ্রমিক ভাইদের উপার্জিত ১৬ বিলিয়ন ডলার আনার জন্য শতশত মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি মানি বা রেমিটেন্স ট্রান্সফার লাইসেন্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পিছনে ধর্ণা দেয়। বর্তমানে ৩৫০টিরও বেশি মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করে।

তাই আমাদের প্রমান করতে হবে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে পেপ্যালের অফিসে আমাদের মিটিং করতে হবে না বরং পেপ্যালের মত শতশত কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যাংকের পিছনে ঘুরবে তাদের অপারেশন লাইসেন্সের জন্য।

লেখক  ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল রেমিট্যান্স, টেলকো ভিএএস এবং মার্কেটপ্লেস নিয়ে ৯ বছরেরও বেশি সময়  ধরে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা । কানাডীয় কোম্পানি ফার্স্ট গ্লোবাল ডাটা ইনকরপোরেশন এবং সিঙ্গাপুরের এফওয়ান সফট ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ। দেশের এসএসএল ওয়্যারলেস, আইপে লিমিটেডের মতো বিভিন্ন অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বও দিয়েছেন।

*

*

Related posts/