পুঁজিবাজারে টুইটার: ধনী হচ্ছে কারা

টেক শহর ডেস্ক : সিলিকন ভ্যালির স্বপ্নের জগতে প্রবেশের পর সবারই আকাঙ্খা থাকে কাড়ি কাড়ি ডলারে পকেট ভর্তির। সময় মতো বিনিয়োগ ‘ক্লিক’ করায় কেউ কেউ কাঙ্খিত এ লক্ষ্যে পৌঁছেও যায় স্বল্প সময়ে। তথ্যপ্রযুক্তির এ উপত্যকায় এ রকম ঘটনার সংখ্যা অসংখ্য। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছিল গত বছর। এবার তা ঘটতে যাচ্ছে জনপ্রিয় অপর যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের ক্ষেত্রে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে টুইটার। ফেইসবুকের পর জনপ্রিয় এ মাধ্যমটির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই সরব আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সাধারণের জন্য শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার তুলতে পারবে টুইটার। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে কোম্পানিটি। গত বৃহস্পতিবার যা প্রকাশ করা হয়েছে।

Twitter_IPO_Money_Tech Shohor

২০১২ সালে ফেইসবুকের তালিকাভুক্তির পর সিলিকনভ্যালির কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি হবে সবচেয়ে বড় আইপিও। সাত বছরের কোম্পানি টুইটার এসইসিতে জমা দেওয়া কাগজপত্রে জানায়, মাসে এ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১ কোটি ৮০ লাখ। প্রতিদিন ৫০ কোটি টুইট করা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত মুনাফা করতে পারেনি টুইটার।

এসইসিতে আবেদনের পরই প্রথমবারের মতো টুইটারের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করলেও এর লোকসান হয়েছে ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০১০ সালে যেখানে আয় ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার তা ২০১২ সালের শেষে এসে দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। গত বছর কোম্পানির ৮৫ শতাংশ রাজস্ব এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক কোম্পানিটির বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৫ কার্যালয়ে দুই হাজার কর্মী কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক এ দুর্বলতার পরও আইপিওতে ভালো সাড়া মিলতে পারে। তবে কবে নাগাদ শেয়ার ছাড়া হবে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি এখানো। এখন লোকসানে থাকা নিয়ে অনেক কথা হলেও ভবিষ্যতে এটির সম্ভাবনার কথা বলছেন অনেকেই। যেমনটি ঘটেছিল ফেইসবুকের ক্ষেত্রে। ২০১২ সালে তালিকাভুক্তির সময় এটিও লোকসানে ছিল। এমনকি শুরুতে এটির শেয়ারদর অনেক পড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছিল ফেইসবুক নীতিনির্ধারকদের। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শেয়ারদর বেড়ে এখন এটি যেমন ভালো অবস্থানে রয়েছে, তেমনি লোকসান কাটিয়ে মুনাফার মুখও দেখছে কোম্পানিটি।

আইপিও ছাড়ার খবরের নানান সরব আলোচনার মধ্যে অনেকের আগ্রহ জন্মেছে এ থেকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক লাভবান হবেন কারা। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে টুইটারের পুঁজিবাজারে আসায় যেসব ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ধনী হতে যাচ্ছেন- তার একটি বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক
ইভান উইলিয়ামস : ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯ হাজার ৮৪৭টি শেয়ার (১২ শতাংশ)। ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি টুইটারের সিইও ছিলেন।

বেঞ্চমার্ক : ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪০টি শেয়ার (৬.৭ শতাংশ)। ভেঞ্চার কোম্পানি বেঞ্চমার্ক ২০০৯ সালে টুইটারে বিনিয়োগ করা শুরু করে। তখন এটির বাজারমূল্য ধারণা করা হয়েছিল ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি ডলার।

জ্যাক ডোরসি : ২ কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৩৫০টি শেয়ার (৪.৯ শতাংশ)। টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডোরসি এখন কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে তিনি পেমেন্ট সার্ভিস স্কয়ার প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটির সিইও হিসেবে কাজ করেন।

ডিক কস্টোলো : ৭৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৮টি (১.৬ শতাংশ)। এক সময়ের কমেডি অভিনেতা কস্টোলো ২০১০ সালে টুইটারে সিওও হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালে তিনি ও টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তাদের ওয়েব ফিড ম্যানেজমেন্ট প্রোভাইডার ফিডবার্নার গুগলের কাছে বিক্রি করে দেন।

এডাম বেইন : ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩৫০টি (১ শতাংশ)। বেইন টুইটারের গ্লোবাল রেভিনিউ বিভাগের প্রেসিডেন্ট।

ডেভিড রোসেনব্ল্যাট : ২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৩টি (১ শতাংশের কম)। ডেভিড টুইটারের একজন পরিচালক। বর্তমানে তিনি বিলাসবহুল অনলাইন রিটেইলার ফার্স্টডিইবিএস ডটকমের সিইও।

এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টুইটারের আইপিও থেকে ধনী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলোর কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। রিজভি ট্রাভেরসে ম্যানেজমেন্ট, স্পার্ক ক্যাপিটাল, ইউনিয়ন স্কয়ার ভেঞ্চার ও ডিএসটি গ্লোবাল শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে টুইটারে বিনিয়োগ করেছিল।

– রয়টার্স অবলম্বনে আমিন রানা

Related posts

টি মতামত

*

*

Top