Maintance

নিলামের মধ্যেই ফোরজি নীতিমালা সংশোধনে দেন-দরবার

প্রকাশঃ ২:৩৫ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ৯, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫৫ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১১, ২০১৮

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি লাইসেন্সের জন্য আবেদনের সময় আছে আর মাত্র কয়েকদিন। অথচ এর নীতিমালাকে এখনও সংশোধনযোগ্য ধরে চতুর্থ প্রজন্মের এ প্রযুক্তি সেবায় বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে শেষ সময়ের দেন দরবার চালাচ্ছে অপারেটরগুলো।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ফোরজি নীতিমালার যেসব বিষয় সুরাহা করে দিয়েছিলেন, সেগুলোর অনেক কিছু চূড়ান্ত সংশোধনীতে শেষ পর্যন্ত বিটিআরসি আর রাখেনি।

আর সে কারণে এখন তারা ‘অমিমাংসিত’ বিষয়গুলো নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। মন্ত্রী অবশ্য এ বিষয়ে টেকশহরডটকমকে বলেছেন, আলোচনার দরজা সব সময় খোলা।

আগামী ১৪ জানুয়ারি ফোরজি লাইসেন্স পেতে নিলামে অংশ নেওয়ার আবেদনের শেষ সময়। বর্তমান সিডিউল অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে।

ফোরজি লাইসেন্স আবেদনের প্রায় শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে কী করা হবে- জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ‘আগে বিবেচনা করে দেখব এটি কী অবস্থায় আছে। অপারেটরগুলোর সঙ্গে অবশ্যই আলোচনার সুযোগ আছে। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সমস্যাগুলো না দেখলে টেলিকম খাত কীভাবে এগোবে। তাই আলোচনার দরজা সবসময় খোলা।’

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, বাস্তব অবস্থা দেখতে হবে। অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলোর সমাধান প্রয়োজন।

নূরুল কবীর জানান, অপারেটরগুলোর ২৩ দাবির প্রায় সবগুলো পূরণ করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটিসহ অনেক কিছুর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। 

ফোরজির স্পিড আগের মতোই ২০ এমবিপিএস রাখা হয়েছে, যা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব জানিয়ে অপারেটরগুলোর জোটের এ মুখপাত্র বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বা সিএসআরের খরচের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমোদন নেওয়ার শর্তেরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তেমনি নিয়ন্ত্রক সংস্থার  ভ্যাট নেওয়ার বিধানও আগের মতোই রয়েছে।

এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। তাই বিষয়গুলো খুব জরুরি। কারণ নীতিমালা হচ্ছে ইনভেস্টমেন্ট মেমোরেন্ডাম। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর জন্য ইকোসিস্টেম কেমন তৈরি করা হবে সেটিও বিবেচ্য বিষয়। আসলে সরকার সহায়তার হাত কতখানি বাড়িয়েছে তাও দেখার বিষয়।’

‘নীতিমালার ওপর বিটিআরসি যেসব বিষয় জানতে চেয়েছিল-সেসব বিষয়ে অপারেটরদের সঙ্গে তা পর্যালোচনার বিষয় আছে। এ বিষয়ের রেসপন্সগুলো আরেকটু পরিস্কার হওয়া দরকার’-বলেন অ্যামটব মহাসচিব।

btrc_techshohor

ফোরজি নিয়ে সরকার যখন অনেক দূর এগিয়েছে এবং নির্বাচনের বছর এ প্রযুক্তি চালু করতে তোড়জোড় করছে তখন অপারেটরগুলো বারবার সময় নিচ্ছে। এ নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, অপারেটরগুলোর নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন বলছেন, পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে- তাতে শেষ কথা বলবেন তাদের শেয়ারহোল্ডাররা। তাদের পক্ষে এখনই ফোরজি বিনিয়োগে চূড়ান্ত কোনো কথা বলা সম্ভব নয়। অথচ নিলামে অংশ নেওয়ার সময় আছে মাত্র কয়েকদিন।

একটি অপারেটরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল খরচের অনুমোদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে থাকলে সেখান অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বিটিআরসি ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এমন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট দিতে পারেন না তারা।’

এটিসহ ফোরজির গতি ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা নতুন মন্ত্রীকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে গত ২১ ডিসেম্বর অপারেটরগুলো ফোরজির প্রি-বিড বৈঠকে এসব বিষয়সহ আরও কিছু বিষয় কমিশনকে পরিস্কার করার জন্য চিঠি দিয়েছে। সম্প্রতি কমিশন চিঠির উত্তর দিলেও এ তিন বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

‘একটি অপরিচ্ছন্ন নীতিমালায় আমরা শেষ পর্যন্ত ফোরজিতে বিনিয়োগ করব কিনা, সে বিষয়ে শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডাররা সিদ্ধান্ত নেবেন, বলছিলেন একটি অপারেটরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্পেকট্রামের উচ্চ মূল্যের বিষয়টি তারা মেনে নিয়েছেন। তবে নীতিমালার এসব অমীমাংসিত বিষয় নিলামের আগেই সেরে ফেলা না গেলে সমস্যা বাড়তেই থাকবে।’

এদিকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রায় সব অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছুটিতে ছিলেন। এখন তারা ফিরতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৪ জানুয়ারি আবেদনের শেষ তারিখের আগেই অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।

তবে আবেদন করার পরেও নীতিমালার শর্তে পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে মনে করেন অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি স্পেকট্রামের নিলামের আগে যে কোনো সময় শর্তে পরিবর্তন আসতে পারে।

এ খাতে নতুন মন্ত্রী পাওয়া বড় ধরনের সুসংবাদ উল্লেখ করে অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, এখন সবকিছু দ্রুতই হবে। 

১৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার ফোরজি নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী । তখন অপারেটরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ বিষয়ে আপত্তি দেয়। ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এসব আপত্তির অধিকাংশই সমাধান করে দেন।

এরপর বিটিআরসি অপারেটরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার মূল্য নির্ধারণ করে সংশোধিত নীতিমালাটি ৮ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয়বার ফোরজি নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেন।

তাতে ফোরজির ন্যূনতম গতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ২০ এমবিপিএস, যেখানে মহাসড়কে চলাচলকালে ও ট্রেনে ভ্রমণের সময় শুধু ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন হতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্জ, ১৮০০ মেগাহার্জ এবং ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হচ্ছে। এর মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্জের নিলামের ভিত্তি মূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের নিলামের ভিত্তি মূল্য তিন কোটি ডলার।

১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের পর নিলামে যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ জানুয়ারি।

এরপর ২৯ জানুয়ারি নিলাম বিষয়ক আলোচনা, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিড আর্নেস্ট মানি প্রদান, ৭ ফেব্রুয়ারি নিলামের চিঠি প্রদান, ১২ ফেব্রুয়ারি মক নিলাম এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি নিলাম হবে। পরের দিনই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

১ টি মতামত

*

*

Related posts/