Maintance

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীই হচ্ছেন মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশঃ ১০:১০ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৫৭ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ৩, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই পাচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। মন্ত্রণালয়টিতে এখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে তারানা হালিম এবং জুনাইদ আহমেদ পলক।

মঙ্গলবার বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই তিনি চলে গেছেন ধানমণ্ডিস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কার্যালয়ে। সেখানে সমিতির নেতারাসহ আইটি খাতের ব্যবসায়ীরা তাঁকে অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানান।

সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার। এ সময় মন্ত্রী বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদের খোঁজ করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যকে শপথ পড়ান। মোস্তাফা জব্বারসহ চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

৬৮ বছর বয়সী মোস্তাফা জব্বার  সংসদ সদস্য না হওয়ায় তাঁকে মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেয়া হয়েছে।

Symphony 2018

দপ্তরের দায়িত্ব বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হতে পারে।

সদ্য বিদায়ী বছরের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই প্রযুক্তি উৎসবের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সফটওয়্যার রপ্তানিতে সাফল্যের কথা তুলে মোস্তাফা জব্বারকে আরও দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন।

এর আগে ২০১৫ সালের আগস্টে  দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পসহ দেশীয় ডিজিটাল ডিভাইস তৈরির উদ্যোগের ব্যর্থতা কাটাতে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেসিস) দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তা হয়নি।

মোস্তাফা জব্বার এখন বেসিসের সভাপতি। বিসিএসের চারবারের এই সভাপতি বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক ছিলেন।

কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল কম্পিউটার ব্যবসায়ে প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটার ও পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজ সার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক।
ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য তিনি। কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাউন্সিল সদস্যও এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ‘অ্যাসোসিও-র ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিশেষ অবদান সম্মাননা’ পেয়েছেন।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/