Maintance

আমাদের মন্ত্রী জব্বার ভাই

প্রকাশঃ ৬:২৪ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১২ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ৬, ২০১৮

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের হাটে-মাঠে পথে-প্রান্তরের মানুষ মোস্তাফা জব্বার।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম সংগঠন বেসিসের সভাপতি হওয়ার আগে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর চারবারের সভাপতি ছিলেন তিনি। ছিলেন বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কয়েক যুগ ধরে এই পথ চলায় তিনি খাতটির শুরু হতে ভাল-মন্দ, আশা-হতাশা, সাফল্য সব সময়ের স্বাক্ষী।

বর্ষীয়ান এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবার মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে এখন পুরো খাতটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সবাই বলছেন-আমাদের মন্ত্রী জব্বার ভাই।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ই-জেনারেশনের চেয়ারম্যান শামীম আহসান টেকশহর ডটকমকে বলেন, মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে এক যুগেরও বেশি সময় একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। উনি প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও প্রচণ্ড সৎ মানুষ। উনি নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো খেয়াল রাখেননি । সবসময় ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভেবেছেন, গুরুত্ব দিয়েছেন। এবার তিনি এখানে সর্ব্বোচ্চ অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি প্রাইভেট সেক্টরকে সামনে নিয়ে আসছেন। ঢাকার মেয়র নির্বাচনে মনোনয়নসহ অনেক জায়গায় তার উদাহরণ দেখতে পাই।

ভীষণ রকমের আনন্দ প্রকাশ করে বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি. আহমেদ টেকশহর ডটকমকে বলেন, বেসিস পরিবারের সবাই অত্যন্ত গর্বিত। আমাদের সহকর্মী, আমরা অনেকদিন একসঙ্গে কাজ করেছি-এখন উনি মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন। শুধু বেসিস নয়, পুরো আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য গর্বের বিষয়।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শিতায় উচ্ছ্বসিত তিনি। সরকারের কাজ হচ্ছে ব্যবসা বান্ধব হওয়া, ব্যবসায়ীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া-যেন সকল শিল্পের অগ্রগতি হয়। এটি এর উদাহরণ যে, ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা হতে এর প্রত্যেকটি কাজে যিনি জড়িত ছিলেন তাকে অন্তর্ভুক্ত করা। জব্বার ভাই তাঁর নেতৃত্বগুণ, তাঁর জ্ঞান দিয়ে, আমাদের সহযোগিতা নিয়ে দারুণ কিছু করবেন-এই আশাই করেন রাসেল টি. আহমেদ।

মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী হচ্ছেন এই খবর শুনে আনন্দ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠক এবং দেশের অন্যতম প্রযুক্তিপণ্য আমদানিকারক ও বিপণনকারী কোম্পানি গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান এএসএম আব্দুল ফাত্তাহ।

টেকশহর ডটকমকে তিনি বলেন, অভিনন্দন জানাতে ফোনে কথা বলার সময় অশ্রু জমে আসছিল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য আমরা এ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী পাইনি। এটা এবার আমাদের জন্য অনেক বড় পাওনা। এর থেকে আর বড় পাওনা কি হতে পারে যে, আমাদেরই একজন বন্ধু মানুষ, আমাদেরই একজন কলিগ মন্ত্রী হবেন। যিনি দীর্ঘদিন বিসিএসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা সত্যিই অভিভূত।

যেহেতু উনি আমাদের মন্ত্রী, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে সার্ভ করবেন তাই ওনার কাছে আমাদের অনেক আশা উল্লেখ করে আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ডিউটি স্ট্রাকচার, ভ্যাট সংক্রান্ত কিছু জটিলতা আছে-আশাকরছি তিনি আমাদের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন এবং সমাধান করার চেষ্টা করবেন ।

Symphony 2018

তিনি বলেন, সরকারের যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, সেটা ওনারই মুখ দিয়ে অনেক আগে এসেছিল । সেই ডিজিটালের যে বাস্তব রূপায়ন সরকারের মাধ্যমে হচ্ছে সেখানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন মোস্তাফা জব্বার ।

মোস্তাফা জব্বারকে নিজেদের জন্য ঠিক মানুষ মনে করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব সুব্রত সরকার।

তিনি টেকশহর ডটকমকে বলেন, আমাদের দু:খ-কষ্ট-সমস্যা প্রাকটিক্যালি দেখে গেছেন ও জানেন। তাঁর পক্ষেই এখানে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব। ব্যবসা উন্নয়নে যেসব কাজ নানা বাধার কারণে করা যায়নি সেসব সব জানেন তিনি।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির চার চারবারের সভাপতি মন্ত্রী হয়ে আমাদের সব সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন বলে আশা বিসিএস মহাসচিবের।

মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহর ডটকমকে বলেন, জব্বার ভাই আমাদের গর্বিত করেছেন। তিনি মন্ত্রী হওয়াটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য দারুণ সুখবর ও সম্ভাবনার বিষয় । সরকার ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টকে যখন পলিসি মেকিংয়ে মন্ত্রী করা হয় তখন ইন্ডাস্ট্রি দারণ উপকৃত হয়। কারণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থান হতে উনি পলিসি তৈরি করবেন।

উনি যেন দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে পারেন সে জন্য সবাই ওনাকে আন্তরিক সহযোগিতা করার ইচ্ছার করা জানান তিনি।

দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি এর সভাপতি এম. এ. হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়গুলোতে দেখি ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ইনডেপথড নলেজ রাখেন এমন কোনো মন্ত্রী খুব একটা পাওয়া যায় না। জব্বার ভাই ইন্ডাস্ট্রির এ টু জেড জানেন। আমাদের ইস্যু কি কি আছে, সমস্যা কি, চাহিদা কি কি, কোনটা করলে সাধারণ মানুষের জন্য উপকার হবে এগুলো সব তিনি জানেন। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন হতেই তিনি একটিভ হয়ে যেতে পারবেন।

আমরা খুবই আশাবাদি। আমাদের বিভিন্ন জটিল সমস্যাগুলো সমাধান হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে উনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কিংবা বিষয়ের জাস্টিফিকেশন থাকবে বলে মনে করেন এম. এ. হাকিম।

সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার টেকশহর ডটকমকে বলেন, জব্বার ভাই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে সিনিয়র মোস্ট আইটি প্রফেশনাল। ইন্ডাস্ট্রির সব খুঁটিনাটি ওনার জানা আছে  ফলে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ওনার যে অবদান আছে সেটি আগে প্রাইভেট সেক্টর হতে করতেন এখন সরকারে বসে করতে পারবেন। আমরা সব রকম সহযোগিতা করতে তৈরি আছি।

কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল কম্পিউটার ব্যবসায়ে প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটার ও পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজ সার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক।
ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য তিনি। কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাউন্সিল সদস্যও এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ‘অ্যাসোসিও-র ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিশেষ অবদান সম্মাননা’ পেয়েছেন।

*

*

Related posts/